করোনার ভ্যাকসিন নিলে আর মাস্ক লাগবে না?

thecmbd.com_-9.jpg

কোভিড ১৯-এর পরিপূরক হতে পারে করোনাভ্যাকসিন, তবে শতভাগ সমাধান নয়। এমনটিই জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির মতে, করোনার ভ্যাকসিন আসার পরেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অনেক সুযোগ থেকে যাবে। তখনও করোনা শনাক্তের পরীক্ষা চালু রাখাসহ আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে থাকতে হবে। আলাদা করে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির যত্নও নিতে হবে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ঠিকই, তবে মহামারি থামিয়ে দেবে না।
ভ্যাকসিন দেশে এলে সেটি কীভাবে, কাদের, কখন দেওয়া হবে; তা নিয়ে একটি বড় পরিকল্পনা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, করোনার ভ্যাকসিন সবাই পাবে। তবে একসঙ্গে নয়। ধাপে ধাপে পাবে। সেই সময় পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ, একসঙ্গে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়ার সক্ষমতা শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর কোনও দেশেরই নেই। কাজেই যাদের আগে দেওয়া দরকার তাদেরই দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গ্যাভি-কোভ্যাক্স থেকে ৬৮ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ। যা জনপ্রতি দুই ডোজ হিসেবেই নির্ধারণ করা। মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ শতাংশ হারে ধাপে ধাপে বাংলাদেশ এই ভ্যাকসিন পাবে ২০২১ সালের মধ্যেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৬ মাস পর্যন্ত দেখা গেছে। এটা হয়তো আরও বাড়তে পারে। তবে নিশ্চিত হতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। তারা এও জানালেন, ৬ মাস পর আবার ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে কিনা সেটা এখনও জানা যায়নি। আবার একসঙ্গেও বেশি ডোজ নেওয়ার সুযোগ নেই। তাতে হিতে বিপরীত হবে। আবার ভ্যাকসিন নিলেও মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক এবং ইউনিসেফের সাবেক সিনিয়র ন্যাশনাল কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, ‘ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে সুরক্ষা বলয় তৈরি হবে না। আবার ভ্যাকসিন নিলে শরীরে করোনাভাইরাস আর ঢুকবেই না, এটাও ঠিক নয়। কয়েকটি ভ্যাকসিনের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ডোজের পর ২১ কিংবা ২৮ দিন পর আরেকটি ডোজ নিতে হবে। এরপর মোটামুটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি হবে। এখন যে ভ্যাকসিনটি দেওয়া হচ্ছে তাতে টি সেল তৈরি হতে পারে। তবে সার্বিক কার্যকারিতা দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। প্রথমত ভ্যাকসিনের মান, দ্বিতীয়ত আমাদের শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিন্তু এক রকম না। তাই সবার ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন একই ফল দেবে তা-ও নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার পর নাক দিয়ে করোনাভাইরাস প্রবেশের একটা ঝুঁকি থেকে যায়। সেক্ষেত্রে দেখা যাবে হয়তো ভাইরাস নাকে বংশবৃদ্ধি করছে। এর মধ্যে হাঁচি কাশি দেওয়া হলে আরেকজনের সংক্রমণ হতে পারে। তাই ভ্যাকসিন নেওয়ার পর বাহক হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। সুতরাং সহজে বলা যায়, ভ্যাকসিন নিলেই মাস্ক পরতে হবে না তা নয়। আরেকজনের সুরক্ষার জন্য হলেও পরতে হবে, স্বাস্থ্যবিধিও পালন করতে হবে।’
ডা. বে-নজীর বলেন, ‘ফাইজার, মডার্না, স্পুটনিক ভ্যাকসিনের দুই ডোজ লাগবে। স্পুটনিকের তিন সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ , বাকিগুলার চার সপ্তাহ পরে। আর এগুলো ছয় মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দিবে এটা নিশ্চিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। হয়তো আগামী মার্চের দিকে পরীক্ষা করে দেখা হবে যে ভ্যাকসিনগুলোর কার্যকারিতা এক বছর পর্যন্ত থাকে কিনা। আপাতত এটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে করোনার ভ্যাকসিন দুই ডোজ নেওয়ার পর আর নেওয়া যাবে না। কারণ এ নিয়ে এখনও ট্রায়াল হয়নি।’

আপনার মন্তব্য লিখুন