।।অরুনোদয়ের অগ্নিস্বাক্ষী : জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন।।

IMG_20201231_005902.jpg

রিয়াজ উদ্দিন আহমদ // ফেসবুক কর্নার 

২০১৮ সালের ৪ মার্চ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন কামাল হোসেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। কক্সবাজারে এসেই তিনি এমন কিছু কাজ করেন যা অন্যান্য প্রশাসক এর থেকে তাঁকে ব্যতিক্রম কিংবা পাইওনিয়ার হিসেবে আখ্যা দেয়া যায়।তিনি একজন রুচিবোধ সম্পন্ন ও আধুনিক মননশীল ব্যক্তি।তাঁর কিছু কাজে এটি স্পষ্ট। তাঁর এ পর্যন্ত নেয়া বিভিন্ন উদ্দোগ সত্যি প্রশংসার দাবী রাখে।
অরুনোদয়:
কক্সবাজার হিলটপ সার্কিট হাউজ পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত হয়েছে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসার স্থায়ী আবাসস্থল অরুণোদয় ভবন। ৬৭ ডেসিমেল খাস জমিতে নির্মাণাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ‘পিছিয়ে পড়া আর নয়, করব মোরা বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যে নিয়ে গত বছরের ৮ নভেম্বর থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সুইস রেডক্রস-এর সহযোগিতায় ‘অরুণোদয়’ বাস্তবায়ন করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। এই প্রতিষ্ঠানে আছে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু ও ছিন্নমূল শিশুদের বিদ্যালয় স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র। সুত্র মতে, কক্সবাজার জেলায় বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৩৬ হাজার প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু কক্সবাজার শহরে ১৮ বছরের নিচে ৬০০ শিশু-কিশোর আছে।
দেশের ইতিহাসে প্রতিবন্ধীদের জন্য এই ধরনের আবাসিক ভবন এই প্রথম বলে জানা গেছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের আন্তরিকতায় এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলে জানিয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছিন্নমূল ও অটিস্টিক শিশুদের সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্নভাবে সেবা দিয়ে আসলেও ব্যক্তি উদ্যোগে কোন প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি এখনও। ফলে জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনের মত একটি কমপ্লেক্স সত্যি প্রশংসার দাবিদার মনে করে কক্সবাজারবাসী।
এরই মধ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিবন্ধী এক জায়গায় সেবা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশ-বিদেশে অটিস্টিক শিশুদের লেখাপড়া, পরিচর্যাসহ এসব শিশুদের যথারীতি স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার মানবিক প্রচেষ্টার যথেষ্ট গুরুত্ব বেড়েছে। বাংলাদেশেও অটিস্টিক শিশুদের বিশেষভাবে যত্ন নেওয়ার তাগিদ উঠেছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তনয়া সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। এই অরুণোদয় একদিন কক্সবাজারের অন্ধকারকে আলোকিত করতে পারবে এটি কক্সবাজার বাসীর আশা। উদিত সূর্যের আলোর মতো বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত তীরের শহর কক্সবাজার আলোকিত করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হলো সেই প্রতিষ্ঠানের নামটি হচ্ছে ‘অরুণোদয়।’ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন এই অরুণোদয় এর উদ্দোক্তা।এই অরুনোদয় একদিন কক্সবাজারের অন্ধকারকে আলোকিত করতে পারে।
কক্সবাজার ডিসি কলেজ :
কক্সবাজার একটি মানসম্মত উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে কক্সবাজার ডিসি কলেজ।। ২০১৯সালের ২০ এপ্রিল কলেজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং জেলা প্রশাসন কলেজটির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে।
শহরের বইল্ল্যা পাড়ায় বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী’র পূর্বপার্শ্বে, ডি ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পরিত্যক্ত সাবেক সিএন্ডবি কলোনীতে জেলার নতুন কলেজ হয়েছে।
নতুন এই কলেজের নাম “কক্সবাজার ডিসি কলেজ”।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এটিরও রুপকার ।আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মানের মূল হাতিয়ার হচ্ছে-আমাদের বিশাল জনশক্তি। এই জনশক্তি তখনই যোগ্য সম্পদে পরিণত হবে, যখন তাদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। এ লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নতুন এই কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।ইতিমধ্যে এর ক্যাম্পাস এ পাঠদান শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন নিজে ও মাঝে মাঝে এ কলেজ এ বিশেষ ক্লাস নেন।
এসব ছাড়াও জনাব কামাল হোসেন কিছু শৈল্পিক কাজ করেছেন যা দৃষ্টি নন্দন। তিনি হিলটপ সার্কিট হাউস ও হিলডাউন সার্কিট হাউসে এ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ দুটি গেইট নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও তিনি শহীদ এটিএম জাফর আলমের নামে জেলা প্রশাসন এর সম্মেলন কক্ষ করেছেন যা আধুনিক ও ডিজিটাল টেকনোলজি সমৃদ্ধ। এছাড়াও জেলা প্রশাসক এর কার্যালয়ের মুখে কক্সবাজার এর বীর শহীদ ফরহাদ সুভাষ এর নামে আরও একটি দৃষ্টি নন্দন গেইট নির্মাণ করেছেন।
এছাড়াও করোনা দুর্যোগ কালীন সময়ে সাধারণ মানুষের জন্যে কাজ করেছেন নিরলসভাবে। চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে নিয়েছেন দৃঢ় পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে যে কাজ গুলো আমাদের কক্সবাজার এর নেতৃস্থানীয় দের করার দরকার ছিল তা করেছেন একজন জেলা প্রশাসক ।সে ক্ষেত্রে জনাব
কামাল হোসেন সত্যি প্রশংসার দাবীদার। তাঁর কাছে প্রত্যাশা ও যেন দিন দিন বাড়ছিল।শেষ দিকে তিনি হাত দিয়েছেন শিশুদের বিনোদন এর জন্য শেখ রাসেল শিশু পার্ক নির্মাণে ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য শিশু হাসপাতাল নির্মাণ এ। এভাবেই আলোর পথের অরুনোদয়ের অগ্নি স্বাক্ষি হিসেবে কক্সবাজার বাসীর কাছে স্বরনীয় হয়ে থাকবেন জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন।
পরিশেষে বিদায়বেলায় একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন