সন্তানের খাবার কিনতে মাথার চুল বিক্রি করলেন এক মা

img-20200421-214119-209324.jpg

সময় ডেস্ক // দিসিএম 

সাভারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর এলাকায় শিশুর খাবার কিনতে এক মা তার মাথার চুল বিক্রি করে দিয়েছেন। এমন সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারকারী মোজাফফর হোসাইন জয় পোস্ট করার পর আলোচনার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়।

জানা যায়, চুল বিক্রি করার আগে কত টাকা হবে জানতে চাইলে হকার জানায় ৩ থেকে চার’শ টাকা হবে। কিন্তু চুল কেটে দেওয়ার পর তার হাতে মাত্র ১৮০ টাকা ধরিয়ে দেয় ওই হকার।
অভাবের তাড়নায় চুল বিক্রি করা শিশুটির মা সাথী বেগম জানান, করোনার কারণে তার স্বামী এখন কাজ করতে পারছেন না। এছাড়া সাভার থেকে নিজ এলাকায় যানবাহন বন্ধ থাকায় যেতে পারছেন না। সব কিছু বন্ধ থাকায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তাদের পরিবার। এছাড়াও অপরিচিত জায়গায় থাকার কারণে ত্রাণ সহযোগিতা পাচ্ছেন না। আর এ কারণে সাহায্য না পেয়ে শিশু সন্তানের দুধ কিনতেই মাথার চুল বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।
সাথী বেগম সাভার এলাকায় দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করেন। সঙ্কটকালীন সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনী মহল্লায় বসবাস করেন।
জানা গেছে, তার আঠার মাসের শিশু বাচ্চার খাবারও শেষ। ত্রাণের সন্ধানে গিয়েছেন অনেকের কাছে, তবুও কোথাও থেকে মেলেনি একটু সহায়তা।অবশেষে ২০ এপ্রিল দুপুরে পথেই পরিচয় হয় এক হকারের সঙ্গে (চুল ক্রেতা)। মাথার চুল দেখিয়ে বিক্রি করলে কতো টাকা পাবেন বলে জানতে চান। হকারও ৩ থেকে ৪শ টাকা দেয়া যাতে পারে বলেন। পরে মাথার চুল কেটে দেয়ার পর তার হাতে ১৮০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়।

অভাবের কারণে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে চার মাস আগ মিরপুরে আসেন। সেখান থেকে দেড় মাস আগে সাভারের ব্যাংক কলোনীর নানু মিয়ার টিনশেড বাড়িতে ভাড়া নেয় তারা।
সাথী বেগম জানান, গত দেড় মাস আগে তার স্বামী মানিকের সঙ্গে সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকায় টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে উঠেন। তার স্বামী পেশায় দিন মজুর। তিনি নিজেও বাসা বাড়িতে কাজ করেন। তবে করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে বাড়িওয়ালা কাজে যেতে নিষেধ করে দিয়েছে। তার স্বামীও কোন কাজ না পেয়ে বাড়িতে বেকার হয়ে বসে আছেন। গত দুই দিন যাবৎ ঘরের সব খাবারও শেষ। ১৮ মাসের শিশু বাচ্চারও কোন খাবার নেই। এখানে নতুন এসেছেন, কাউকেই তেমন চেনেনা। কোথায় ত্রাণ দেয় সেটাও জানা নেই। প্রতিবেশীর কাছ থেকে খবর পেয়ে দুই জায়গায় সহযোগিতার জন্য গিয়েছিলেন। তবে তাকে চেনেন না বলে ত্রাণ না পেয়েই খালি হাতে ফিরে এসেছেন।
সহায়তা খুঁজতে গিয়ে এক হকারের (চুল ক্রেতা) সঙ্গে পরিচয় হয়। মাথার চুল কেটে দিলে ৪০০ টাকা দেয়া যেতে পারে। তবে হকার তার হাতে ১৮০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে যায়। ওই টাকা দিয়ে শিশুর জন্য দুধ ও এক কেজি চাল কিনেছেন।
তিনি আরো জানান, করোনায় তাদের সব কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ির মালিক এখানে থাকে না। তিনি মাসে একবার আসেন। এখানে নতুন আসার কারণে তেমন কারো সঙ্গে পরিচয়ও নেই। প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ারাও বাসা বাড়িতে কাজ করেন তাদেরও একই অবস্থা।
প্রতিবেশী ভাড়টিয়া রিকশা চালক সুমন বলেন, লকডাউন হয়ে যাওয়ার পর সড়কে কোন যাত্রী নেই। তারাও কোন রকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ওই নারীকে সহযোগিতা করার সামর্থ্যও তার নেই।
সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবিক ব্যাপারে। তিনি খুব দ্রুত ওই পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান।
সাভার পৌর মেয়র আব্দুল গনি জানান, তিনি নিজে পৌর এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তবে এক নারী তার বাচ্চার জন্য চুল কেটে বিক্রি করার বিষয়ে তিনি জানেন না।
আপনার মন্তব্য লিখুন
Top