রোহিঙ্গা বোঝাই

ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা নেই

110875927_97de7efe-66ad-4d7f-9088-b76464172c52.jpg

দিসিএম ডেস্ক

১১ ফেব্রুয়ারী সেন্টমার্টিনের অদূরের বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় নতুন কেউ উদ্ধার হয় নি। ঘটনার পর থেকে নৌবাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধার কাজ অব্যাহত রাখে।
এদিকে, জীবিত উদ্ধার হওয়াদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তাদের এখনও পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আর নিহতদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে এবং ময়না তদন্তের পর মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত নতুন কোন ব্যক্তির জীবিত বা মৃত সন্ধান মেলে নি বলে জানান নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লে: কমান্ডার জাহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, যাতে অন্তত মৃতদেহ পাওয়া যায় এখন সেই চেষ্টা তারা করছেন। তবে, কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা খুব ক্ষীণ। যদি কাউকে পাওয়া সম্ভবও হয়, সেটা কারও লাশ ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়, কারণ এতক্ষণ সমুদ্রে টিকে থাকা খুব কঠিন।
সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় গত মঙ্গলবার ভোররাতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ১৫ রোহিঙ্গা মারা যায়। তাদের মধ্যে ১১জন নারী এবং বাকিরা শিশু।
জীবিত উদ্ধার ৭৩ জনের মধ্যেও রোহিঙ্গা নারীর সংখ্যা বেশি। এছাড়া নিখোঁজদেরও বেশিরভাগই রোহিঙ্গা নারী বলে পুলিশ ধারণা করছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তারা মানব পাচারকারি একটি চক্রকে চিহ্নিত করেছেন। মানবপাচারিরা কয়েকস্তরে ভাগ হয়ে কাজ করে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন।
টেকনাফের একটি ক্যাম্পের বসবাসকারি রোহিঙ্গা নারী শাহেদা বেগমের ১৫ বছর বয়সী মেয়ে তার সাথে রাগ করে বিয়ের জন্য এই ট্রলারের যাত্রী হয়ে মালয়েশিয়া যেতে চেয়েছিল।
শাহেদা বেগম বলেন, ট্রলার ডুবে যাওয়ার সময় তার মেয়ে অন্য একজন যাত্রীর মোবাইল ফোন থেকে তাকে ফোন করে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল। সেসময় তিনি শুধু মানুষের বাঁচার জন্য চিৎকার শুনেছিলেন। শাহেদা বেগম এখন অন্তত তার মেয়ের মৃতদেহ চাইছেন।
“আমার মেয়ের ১৫ বছর বয়স। সে খুব ছোট। এখন আমি পৃথিবীর আর কিছু চাই না। আমি শুধু আমার মেয়ের লাশ চাই। আমার মেয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। আপনারা সহযোগিতা করেন, আমার মেয়ের লাশ উদ্ধার করে দেন।”
তিনি জানিয়েছেন, তিনিসহ আরও অনেকে স্বজনের মৃতদেহ পাওয়ার জন্য শরণার্থী ক্যাম্পের অফিস এবং পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিচ্ছেন।
এদিকে, পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৮ জন পাচারকারীকে আটক করেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে।
সেন্টমার্টিনে ট্রলার ডুবির ঘটনার প্রায় ২৪ ঘন্টা পর গত মধ্যরাতে একজন যাত্রী সাঁতরে ফিরে আসেন। এনিয়ে এই ট্রলারের উদ্ধার হওয়া জীবিত যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ জনে।এখনও যে ৫০ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছে, তাদের মধ্যে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশার করছেন না উদ্ধারকারিরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top