চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০০

Corona-Pic.jpg

চীনে প্রাণঘাতী নভেলা করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে বুধবার প্রায় ৫০০ কাছাকাছি পৌঁছেছে। জাপানের একটি ক্রুজ শিপেও কোয়ারেন্টাইনে ১০ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের

দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বুধবার পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৯০ জন।

চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে মৃত ৪৯০ জনের মধ্যে মঙ্গলবার একদিনেই মারা গেছেন ৬৫ জন। খবর গার্ডিয়ান, সিনহুয়া ও রয়টার্সের

বুধবার নতুন করে তিন হাজার ৮৮৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার ৩২৪ জন। এর মধ্যে উহানেই আক্রান্ত হয়েছেন আট হাজার ৩৫১ জন।

বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ভাইরাসটির কেন্দ্রস্থল উহানে বিভিন্ন জিমনেসিয়াম, প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং ক্রীড়া কেন্দ্রগুলোকে অস্থায়ী হাসপাতাল বানিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে হংকংয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনার পর অঞ্চলটিতে দুটি ফ্লাইট বাতিল করেছে ইউএস এয়ারলাইনস।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো উহানে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর চীনসহ প্রায় ২৫টির বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকায় বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশগুলো ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়।

করোনাভাইরাসের দ্রুত বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের কয়েকটি দেশ চীন থেকে আগতদের ঠেকাতে সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে যে সাম্প্রতিককালে চীনে সফরে গিয়েছেন, এমন বিদেশিদের তারা নিজ দেশে প্রবেশ করতে দেবে না।

গত ডিসেম্বরে চীনে এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এর আগে, রাশিয়া, জাপান, পাকিস্তান এবং ইতালিসহ কয়েকটি দেশ একই ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল।

চীন থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ফলে কোনো কোনো দেশ চীনা নাগরিকদের নিজ দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মাত্র ৩৫ দিনেই চীনের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ রয়েছে এমন দেশের অর্থনীতিও ঝুঁকিতে পড়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই ঝুঁকি অনেকের চেয়ে বেশি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top