সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

Presentation1-4.jpg

বৈঠক-সভা-সংবাদ সম্মেলন ছাড়া রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির মতো কিছু ঐক্যফ্রন্টের দেখা যায় না। জনগণের ওপরই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া এবং জোট ব্যর্থ কি না—এমন নানান প্রশ্নের মুখে পড়লেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এসবের জবাবে নেতারা বলেছেন, জনগণই এগিয়ে আসবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের মুখে পড়েন নেতারা।

রাজনৈতিক দলের যে সভা–সমাবেশ, তা এই জোটের দেখা যায় না। শুধু সচেতনতা তৈরি করে যাচ্ছেন। জনগণের ওপরেই কেন সব দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন? রাজনৈতিক দল হিসেবে তো নেতাদেরও মাঠে থাকার কথা। এ প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণের ওপর ভর করেই রাজনীতি। শক্তি জনগণের। তাদের উৎসাহী করতে আমাদের করণীয় অবশ্যই করে যাব। সভা, মিছিল, মিটিং সবই হবে।’

কামাল হোসেন বলেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে, পরিবর্তন এনেছে। তার ব্যতিক্রম হবে না। জনগণের মধ্যে একটা ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। জনগণ এগিয়ে আসবে। সরকার যা চাইছে, তা করতে পারবে না।

একই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান বলেন, ‘আমরা জনগণের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিইনি। জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। সে কারণেই আমরা জনগণের ওপর আস্থা রেখেছি। কিন্তু সরকার জনগণের আস্থা কেড়ে নিয়েছে, ভোট কেড়ে নিয়েছে। আমরা জনগণকে দায়িত্ব দিয়েছি।’ তাঁরা জনগণের কাতারে আছেন বলে জানান। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাস করে।

২০১৮ সাল থেকেই জনগণের কথা বলে আসছে ঐক্যফ্রন্ট। এই জোটের প্রতি মানুষের আশার জায়গা কোনটা? এই প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণের ওপর আমরা পুরোপুরি ভরসা রাখি। ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণ নিজের পরিবর্তন এনেছে।’ তিনি ৬ দফা, স্বাধীনতা আন্দোলন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সব সময় জনগণই এগিয়ে এসেছে। এ দেশের মানুষ সচেতন, তারা স্বৈরতন্ত্রকে কোনো দিন গ্রহণ করেনি, এখনো করবে না।

মানুষের মুক্তির জন্য ঐক্যফ্রন্ট কী করছে? এমন প্রশ্নে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। আমরা বলে যাচ্ছি৷ সরকার দায়িত্বহীনভাবে সংবিধানের পরিপন্থী কাজ করে নির্বাচনের প্রক্রিয়া–পদ্ধতিকে ধ্বংস করেছে। এর ফলেই আজকে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানুষ একদিন অসহ্য হয়ে এর পরিবর্তন আনবে।

জনগণ তাঁদের সঙ্গে আছে কি না—এ প্রশ্নে মঈন খান বলেন, জনগণ পুরো নির্বাচনী–প্রক্রিয়ায় তাঁদের সঙ্গে ছিল।

ঐক্যফ্রন্ট দুই প্রার্থীকে সমর্থন দিল, কিন্তু সেই নির্বাচনে মাঠে থাকতে তারা ব্যর্থ কি না? এতে সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ পায় কি না? এ ছাড়া চারটি পথসভার ঘোষণা দিলেও তা হয়নি? তারা ব্যর্থ কি না? এসব প্রশ্নের উত্তরে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাজগুলোকে জোরদার করতে হবে। জনগণকে নিয়ে পরিবর্তন আনতে আমরা বাধ্য। এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখন থেকে তাঁদের মাঠে দেখা যাবে।

খালেদার মুক্তি আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তারা কি যথাযথ কর্মসূচি দিতে পারছে? এ প্রসঙ্গে জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে নির্দেশনা দেওয়া। কার্যকর করবে জনগণ।

বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে জানানো হয়, ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর উপলক্ষে বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সভা হবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহসীন রশীদ, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়কারী শহিদুল্লাহ কায়সার, ছিলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বেপারী।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top