এবার রেলবস্তিতে আগুন

altaf-25_800x459.jpg

মাদারবাড়ি মাঝিরঘাট হ পুড়ল দেড় শতাধিক ঘর হ খোলা আকাশের নীচে ৮ শতাধিক মানুষ

নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ির মাঝিরঘাট রেল এসআরবি বস্তিতে আগুন লেগে ছাই হয়ে গেছে দেড় শতাধিক ঘর। এতে নারী-পুরুষ ও শিশু মিলে আট শতাধিক মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। তবে অগ্নিকা-কে রহস্যজনক বলে দাবি করেছেন অগ্নিদুর্গত পরিবারের সদস্যরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গত রবিবার দিনগত ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন লাগে। আগুনের সূত্রপাত কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। অগ্নিদুর্গতদের দাবি, ভোর রাতে সবাই ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন। এসময় রহস্যজনকভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ১৬০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে নারী-পুরুষ ও শিশু মিলে ৮ শতাধিক বাসিন্দা এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। তিনি বলেন, পুড়ে যাওয়া এসআরবি বস্তিতে বসবাসরতরা হচ্ছেন দিনমজুর ও শ্রমিক। সবাই নি¤œ আয়ের মানুষ।

সরেজমিন দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তুপ থেকে কেউ কেউ কুড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে শেষ ও অবশিষ্ট সম্বলটি। কেউ বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ফের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিচ্ছেন। অনেকেই পুরোনো ছেঁড়া ত্রিপল খাটিয়ে নিচ্ছে। তবে ১৬০ পরিবারের অন্তত ১৩০ পরিবারই খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। মাঘের শীত কাটতে হবে কুয়ায়াভেজা আকাশে।

ক্ষতিগ্রস্ত সালাউদ্দিন, দুলাল ও জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভোর রাতে সবাই ঘুমে ঘোরে আচ্ছন্ন। এই সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। রেল বস্তির বড় মাঠের মো. আলী ও শাহাবুদ্দিনের ঘরের বাইর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানান তারা। তাদের দাবি, রহস্যজনকভাবে আগুন লেগেছে। তারা জানান, গত মাসে রেল লাইনের পাশে থাকা বস্তিঘর উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ছকিনা খাতুন, রহিম মিয়া জানান, আগুনের লেলিহান শিখা দেখে সবাই দিকবিদ্বিক ছুটোছুটি করে কোনো রকমে বের হয়েছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বের করতে পারেনি। পরনের কাপড় নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

অগ্নিদুর্গত পরিবারের সদস্যরা জানান, বস্তিতে অন্তত দুই শতাধিক স্কুল পড়–য়া শিশু রয়েছে। আগুনে সবার বইপত্র ও কাপড়-চোপড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এজন্য শোকরিয়া আদায় করেছে বস্তিবাসী।
দেখা যায়, এসআরবি বস্তির বড় মাঠ, ছোট মাঠ, মনির মা কলোনি, কাঁচা কুলি কলোনির বেশির ভাগ ঘর পুড়ে গেছে। তবে রেল লাইনের পাশের বস্তির অংশে পুড়ে গেলেও আরেকপাশের ঘরগুলো অনেকটা অক্ষত রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সাড়ে ৩টার দিকে আগুন লাগলেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসেছে দুই ঘণ্টা পরে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আজিজুল ইসলাম পূর্বকোণকে বলেন, ৫টার পর আমাদের কাছে অগ্নিকা-ের সংবাদ আসে। এরপরই দ্রুত আগ্রাবাদ, চন্দনপুরা, নন্দনকানন ও বন্দর স্টেশনের ১৫টি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। এজন্য তদন্ত কমিটির গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের জানান, জেলা প্রশাসন থেকে কম্বল, শুকনো খাবার ও চাল, ডাল, তেল বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ এম এ লতিফের পক্ষ থেকেও কম্বল ও খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি পরিবারকে চারটি করে কম্বল ও খাবার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্গতদের জন্য লঙরখানা খোলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে নগরীর পাঁচলাইশ থানার মির্জারপোলে সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি বস্তিতে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। এই পর্যন্ত তিনটি বস্তিতে অগ্নিকা-ের ঘটনা অনেকটা রহস্যজনক ।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top