‘ফেসবুক একটা লজ্জাকর কোম্পানি’

Presentation1-15.jpg

মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাঁদের দেশের কোম্পানি ফেসবুককে লজ্জাকর কোম্পানি হিসেবে অভিহিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যাপিটল হিলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পেলোসির এ মন্তব্য ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্ব এবং ফেসবুকের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বার্তা সংস্থা সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের ক্ষমতা নিয়ে ন্যান্সি পেলোসিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফেসবুককে মার্কিন জনগণকে টাকার বিনিময়ে ভুলপথে পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ তোলেন।

ডেমোক্রেটিক স্পিকার বলেন, ফেসবুক সবার ওপরে শুধু লাভ বোঝে। তারা শুধু চায় তাদের কর কাটা যাক, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিট্রাস্ট কর্মসূচি নেওয়া না হয়। তিনি মনে করেন, ফেসবুক হচ্ছে ছদ্মবেশী ট্রাম্প প্রশাসন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির একটি নকল ভিডিও সরাতে অস্বীকৃতি জানায় ফেসবুক। এতে পেলোসি ক্ষিপ্ত হন। তখন ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হয়, পেলোসির জায়গায় যদি জাকারবার্গকে নিয়ে এমন ভিডিও তৈরি হতো, তাহলে কি একই আচরণ করা হতো?

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানির শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াশিংটনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির কথা জড়িয়ে আসছে। দেখে মনে হচ্ছে, তিনি কিছুটা মাতাল। তবে পরে প্রকাশিত হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে ‘এডিট’ করে পেলোসির কথার গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই মনে হচ্ছে, পেলোসি মাতাল অবস্থায় কথা বলছেন। লাখ লাখ মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন। অনেকে পেলোসিকে নিন্দাও জানিয়েছেন।

ভিডিও সরানোর বিষয়ে ফেসবুকের যুক্তি, মিথ্যা বলেই কোনো ভিডিও সরানো তাদের নীতি নয়। কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা, সে সিদ্ধান্ত যারা সে ভিডিও দেখছে, তাদেরই নিতে হবে। রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রে কোনো কনটেন্ট সম্পাদনার দায়িত্ব তারা নেবে না। ফেসবুকে রাজনীতিবিদেরা মিথ্যা তথ্য দিলেও তারা সরাবে না।

গত বছরের মে মাসে পেলোসি বলেন, ‘জেনেশুনেও ভুয়া তথ্য সরাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ফেসবুক প্রমাণ করেছে, মার্কিন নির্বাচনে তারা ইচ্ছা করেই হস্তক্ষেপের সুযোগ দিয়েছে।’

ফেসবুকের নীতিমালা নিয়ে ডেমেক্র্যাটদের সমালোচনার মুখে পড়েছে ফেসবুক। রাজনীতিবিদদের বিজ্ঞাপন ফ্যাক্ট চেক ছাড়া প্রচার করলে ২০২০ সালে মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসন সুবিধা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার পেলোসি বলেন, গত বছর রাশিয়ার কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিষয়েও তারা কোনো পরীক্ষা করেনি। এটা তাদের অবশ্যই করা উচিত ছিল।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top