মাদক ও বিভিন্ন মামলার আসামিও রয়েছে ত্যাগীদের মাঝে হতাশা

পৌর আঃলীগ কমিটি গঠনে বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশ হিড়িক,ত্যাগীদের মাঝে হতাশা

IMG_20191104_204249.jpg

দিসিএম ডেস্কঃ-  কক্সবাজারে পৌর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি গঠনেও দুর্নীতিবাজ ও অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম্য থেমে নেই। তারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে স্থান করে নিতে মরিয়া বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে মাদক ও বিভিন্ন মামলার আসামিরাও রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগে জামায়াত-বিএনপির রাজনীতি করলেও বর্তমানে আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনুপ্রবেশ করছেন নির্বিঘ্নেই। অথচ, প্রধানমন্ত্রী এসব অনুপ্রবেশকারী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বর্তমানে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছেন। এরপরেও থেমে নেই এসব দুর্নীতিবাজ ও অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম্য। তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী এনিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। শীর্ষ নেতাদের কাছে এ বিষয়ে তারা মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন। কারন দুর্নীতিবাজ ও অনুপ্রবেশকারীরা কিছু শীর্ষ নেতার আশির্বাদপুষ্ট। ইতোমধ্যে ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা স্থান করে নেয়ার চেষ্টা করছেন! অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছেন বিএনপি থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে জসিম বহদ্দার ও আবদুল মান্নান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশের চেষ্টায় আছেন আবুল কাসেম, জেলা যুবলীগে জানু বহদ্দার এবং জেলা বিএনপি সদস্য কাউন্সিলর আকতার কামাল শহর আওয়ামী লীগের কমিটিতে ঢুকার চেষ্টা করছেন। অভিযোগে আরও জানা গেছে, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগে ২০১৭ ইং সনে অনুপ্রবেশ করেন জনৈক ওসমান গণি টুলু। বর্তমানে তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের আগে তিনি জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সৃষ্ট সহিংস ঘটনার মূল হোতাও তিনি। সহিংসতার ওই মামলার আসামিও তিনি।

তিনি বর্তমানে বোল পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। পৌর এলাকার ৬নং নতুন বাহারছড়া ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আগামী ৫ নভেম্বরের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এই অনুপ্রবেশকারী সভাপতি পদ ভাগিয়ে নেয়ার জন্য জোর তদ্বির ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে জানা যায়। তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, টুলু আগে আগে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেননা। কোন রাজনীতি করতেন না। মজার বিষয় হলো, বর্তমানে তার ভাই নাসির উদ্দীন বাচ্চু জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ সভাপতি, অপর ভাই ফরিদ আলম জামায়াত নেতা বলে জানা গেছে। একই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মিজানুর রহমানও আগে যুবদল করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনিও সভাপতি পদ পেতে মরিয়া। একই ওয়ার্ডের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, মো. ফেরদৌস। তিনিও ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ফরম নিয়েছেন। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহেনা আকতার পাখি সাবেক যুব মহিলা দল নেত্রী ছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কিছু ত্যাগী নেতাকর্মীর বক্তব্য হলো, এ ধরনের অনুপ্রবেশকারীরা গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাগিয়ে নিলে দলের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ইতোমধ্যে কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের ৩টি ওয়ার্ডের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। বাকী আছে আরও ১০টি। এখন দেখার বিষয় বাকী ওয়ার্ড সম্মেলনের অবস্থা কেমন হয়! তাই ত্যাগী নেতাকর্মীরা সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্র থেকে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেয়া আছে দলে যাতে কোন ধরনের অনপ্রবেশ যাতে না ঘটে। তবে কেউ ভুলক্রমে অনুপ্রবেশ করলে পূর্ণাঙ্গ যাচাইয়ে বাদ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top