ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত বনবিভাগের ৫০ হাজার ঝাউগাছ রোপণ

5809_me.jpg

বার্তা পরিবেশক  :
কক্সবাজার পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডস্থ ডায়বেটিক পয়েন্ট থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সৈকত জুড়ে নতুন করে ৫০ হাজার ঝাউগাছ লাগিয়েছে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে এ চারাগাছ গুলো রোপন করা হয়।
সমুদ্র সৈকতের কবিতা চত্ত্বর থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত এ ঝাউবাগানটির দেখ -ভাল করার দায়িত্বে রয়েছে কস্তুরাঘাট বন বিট।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সৈকতের ঝাউবীথির চিহ্ন ধরে রাখতে এবং  ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস সহ যে কোন  প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে এ এলাকারর জান-মালের  নিরাপত্তার জন্য সৃজন করা হয়েছে এ ঝাউ বন। এ ঝাউবাগান দেখাশুনা ও পরিচর্যার জন্য নিয়োজিত রয়েছে বন বিভাগের নিয়মিত দুজন কর্মচারী  এবং মজুরীর ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত স্থানীয় দু’জন কর্মী।  তারা রাত ও দিন এ বন পরিচর্যা ও দেখাশুনার কাজ করেন।
এর আগে নাজিরারটেক এলাকার শুটকি ব্যবসায়ের সাথে জড়িত একশ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তি বন বিভাগকে এই নতুন বন সৃজন না করার জন্য চাপাচাপি করে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসী,  ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং বন বিভাগের লোকজন আলোচনা করে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও সামাজিক বনায়নের ফলে তাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম কি সুবিধা ভোগ করবে এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। সে সাথে তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা তুলে ধরা। এই নতুন  বন সৃজনের জন্য নাজিরারটেক শুটকি পল্লীর সৈকত দখল করে গড়ে তোলা বাঁশের মাচা উচ্ছেদ করে বন বিভাগ।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন ককসবাজার রেঞ্জ বন কর্মকর্তা তারেকুর রহমান বলেন,  সৈকতের ২০ হেক্টর জমিতে চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসব্যাপী ৫০ হাজার চারাগাছ রোপণ করা হয়। কিন্তু এ ঝাউবাগান সৃজন করতে গিয়ে সমিতি পাড়া ও নাজিরারটেক এলাকার শুটকি ব্যবসার সাথে জড়িত একটি প্রভাবশালী মহল দ্বারা বাঁধা প্রাপ্ত হই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত এ ঝাউবাগান রক্ষার্থে আমরা পিছপা হয়নি। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আজ এ ঝাউবাগান অনেকটা দৃশ্যমান। অনেক সময় রাতের আঁধারে অনেকে এ ছোট চারাগাছ নিধন করছে, কেউবা অকারণে ভেঙ্গে ফেলছে। আমরা ওই সকল জায়গায় পূণরায় ঝাউগাছের চারা রোপণ করছি। পাশাপাশি যেকল জায়গায় ঝাউবাগান বিলুপ্তির পথে ওই জায়গাগুলোতেও নতুনভাবে বৃক্ষ সৃজনের কাজ চলছে। এ বন রক্ষার্থে ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বাগানের পাশ্ববর্তি এলাকাবাসীকে পরবর্তীতে সরকারের  প্রকল্প থেকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, সমিতিপাড়া থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উদ্যোগে ঝাউগাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ চারাগাছ বড় হলে এ এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। এ বন সৃজন করার আগে স্থানীয়দের নিয়ে বন বিভাগ একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছিলো। সেখানে বলা হয়েছে, এ বন দেখাশুনার কাজে যারা নিয়োজিত থাকবে তাদের পরবর্তীতে সহযোগিতা করা হবে। এ সৃজিত বনকে রক্ষা করতে পারলে এ এলাকার মানুষ জলবায়ুগত ঝুঁকি থেকে অনেকটা রক্ষা পারবে।
কস্তুরাঘাট বন  বিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকার বলেন, এ ঝাউবাগান বর্ধিতকরণের মূল উদ্দেশ্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি ধরে রাখা। সরকারি অর্থায়নে চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে এ বন দৃশ্যমান হয়। তবে এ ঝাউবাগান রক্ষা করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ শুটকি উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত। এছাড়াও বিকল্প সড়ক না থাকায় স্থানীয় অধিবাসীরা এ সৃজিত ঝাউবাগানের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে। এতে করে ঝাউবাগানের অনেক গাছ বিনষ্ট হচ্ছে। অনেকে না বুঝে রাতের আঁধারে এসব গাছ উপড়ে ফেলছে। সেখান থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা দিন রাত ৪ জন লোক রেখেছি। যারা সার্বক্ষণিক এ বন দেখাশুনা করেন। এছাড়াও স্থানীয় লোকজনকে  বন রক্ষার্থে তাদের করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ আলোচনা সভার পর সকলের সম্মতিক্রমে আমরা এ ঝাউবাগান সৃজনের উদ্যোগ নেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এ সৃজিত বনের চারপাশে নেটের জাল দিয়ে বেষ্টনি তৈরি করে দেয়া হয়েছে।
এ বন পরিচর্যাকারী সমিতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শেখ কামাল বলেন, আমি এ বন পরিচর্যা করি। সকাল-সন্ধ্যা দু’জন ও রাতে দু’জন মোট ৪জন এ ঝাউবন দেখাশুনা করি। এছাড়াও আগাছা পরিষ্কার, যেকল জায়গায় চারা মরে গেছে সেখানে পুণরায় চারা লাগানো, নুয়ে পড়লে ঠিক করে দেওয়া, গরু-ছাগল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কাজ করি। এ বনটি সৃজিত হওয়ার ফলে আমি নিজেও অনেক বেশি খুশি। আমি মনে করি, এ ঝাউগাছ বড় হলে সমিতিপাড়া এলাকায় বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা কমে আসবে।
অপর পরিচর্যাকারী কুতুবদিয়া পাড়ার মোঃ সেলিম বলেন, এ ঝাউবন রক্ষার্থে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের আমরা নেটের জাল দিয়ে বেষ্টনি তৈরি করতে বলি। পরে বন বিভাগ থেকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে নেটের জাল দিয়ে বেষ্টনি তৈরি করি। এ বেষ্টনি তৈরির পর থেকে গাছ নষ্ট হওয়া রোধ হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও অনেকটা সচেতন হয়েছে। প্রতিনিয়ত তাদের সহযোগিতা পাচ্ছি। এ সৃজিত বন এলাকার জন্য ভবিষ্যত উপকারে আসবে এটি সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়। তবে শুটকি পল্লীর অনেক ব্যবসায়ী বাঁধা দিতে আসে। কারণ এ সৃজিত বনের জায়গা তারা অনেকে অবৈধভাবে দখল করে মাচা তৈরি করেছিলো।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top