২০৫০ সালের মধ্যে বদলে যাবে বিশ্বমানচিত্র

600x4001527884170_ST_L20170907235925.jpg

দিসিএম ডেস্ক্‌।।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে হারে বাড়ছে তাতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিবছরই বিশ্বের অনেক উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হবে। এর ফলে হয়তো নতুন করে আঁকতে হতে পারে বিশ্ব মানচিত্র। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আন্তঃসরকার প্যানেল আইপিসিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্যানেলের সদস্য ১৯৩টি দেশ বুধবার এই প্রতিবেদনের অনুমোদন দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর সব মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল। বরফে ঢেকে থাকা অঞ্চল ও হিমবাহগুলো জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পানি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বরফে ঢেকে থাকা অঞ্চল ও হিমবাহগুলোতে অপ্রত্যাশিত ও বিপজ্জনক পরিবর্তন এসেছে।

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত না কমালে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ দশমিক ১ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বাড়ার এই হার অব্যাহত থাকলে ২৩০০ সাল নাগাদ উচ্চতা চার মিটার পর্যন্ত বাড়বে। এর ফলশ্রুতিতে বিশ্বের মানচিত্র নতুন করে আঁকতে হতে পারে। ক্ষতির শিকার হবে কয়েক শ কোটি মানুষ।

গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকায় বরফ গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমুদ্র উষ্ণ হচ্ছে, আরো অম্লতা বাড়ছে ও অক্সিজেন কমছে। চলতি শতাব্দির শেষ নাগাদ এগুলো অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বের অর্ধেক মেগা শহরগুলোর অবস্থান সমুদ্র উপকূলে এবং উপকূলীয় এলাকায় বসবাস ২০০ কোটি মানুষের। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও সমুদ্রপৃষ্ঠের যে উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে তাতে বছরে হাজার কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হবে এবং কোটি কোটি লোককে অভিবাসী করবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বের সমুদ্রগুলো ও বরফে ঢেকে থাকা অঞ্চলগুলোর পুরোদস্তুর মূল্যায়ণে বলা হয়েছে, অনেক গুরুতর প্রভাব ইতোমধ্যে অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে। এসব প্রভাবের মধ্যে প্রচণ্ড ঝড় থেকে শুরু করে চিরহিমায়িত অঞ্চলগুলো গলে যাওয়া এবং সামুদ্রিক জীব হ্রাস পাওয়া রয়েছে।

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top