৫৫ কোটি টাকায় বাঁকখালী রক্ষা বাঁধ

20180826_172132-6mnz6yllojte6bfalmzefvvelbt9yzretf6cy90bo74.jpg

এম. বেদারুল আলম :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল শহরের জেলে পার্ক ময়দানের ভাষণে দেয়া প্রতিশ্রুতি অবশেষে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের প্রধান নদী বাকঁখালীতে রক্ষা বাধঁ নির্মানের জন্য টেন্ডার সম্পন্ন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। রক্ষাবাঁধ নিমার্নের জন্য ইতোমধ্যে ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪টি প্যাকেজে রামু ও কক্সবাজার সদরের বাঁকখালীর ১০টি পয়েন্টে টেকসই সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মান শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা। বাঁেধর দৈর্ঘ্য ২.৮৫ কিলোমিটার। এটি নির্মিত হলে রামু ও সদর উপজেলার ২১ ইউনিয়ন ও কক্সবাজার পৌরসভার লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প কক্সবাজারের বাকঁখালী নদীর বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বাঁকখালী নদীতে রক্ষা বাধঁপ্রকল্প শীঘ্রই শুরু হবে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ৫৫ কোটি টাকায় ৪ টি প্যাকেজে ২.৮৫ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষায় সিসি ব্লকের মাধ্যমে টেকসই বাঁধ নির্মান করা হবে। সামনের অক্টোবরে কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন যেহেতু ১ বছরের মধ্যে  কাজ শেষ করতে হবে তাই আমরা ভাল মানের নির্মান প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য যাছাই বাচাই করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে ২০১১ সালের ৩ এপ্্িরল জেলে পার্ক ময়দানে ভাষনের সময় নদীর তীরবর্তী মানুষের বন্যা থেকে রক্ষায় এবং ফসলহানি থেকে বাঁচাতে রক্ষা বাধ নির্মানের প্রতিশ্রতি দেন।
এদিকে রামু ও সদরের বাকঁখালীর ভাঙ্গন এলাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্লক নির্মান করা হবে। পয়েন্টসমুহ হলো কক্সবাজার পৌরসভার শ্মশান ঘাট, গুদারপাড়া, এসএমপাড়া, রুমালিয়ারছড়া, সদরের মুক্তারকুল, পিএমখালীর ঘাটকুলিয়াপাড়ার উলুবনিয়া, ঝিলংজার দরগাহ গেইট, চেয়ারম্যান পাড়া, মহুরীপাড়া, রামুর চাকমারকুলের কলঘর,চরপাড়া, রাজারকুল সিকদারকুল, দেয়াংপাড়া।
রক্ষাবাধঁ নির্মিত হলে সদরের ও রামু উপজেলার ৩ হাজার পরিবার বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে পাশাপাশি কক্সবাজারের শুস্ক মওসুমে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে যে চাষাবাদ করার প্রধান উপলক্ষ বাকঁখালী রাবার ড্যাম রক্ষা পাবে। বাকঁখালীর করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাবে চান্দেরপাড়া, গুদারপাড়া, এসএমপাড়া, নুনিয়াছড়া, কস্তুরাঘাট, মুক্তারকুল, চেয়াম্যানপাড়া, চরপাড়া,ফতেখারকুল, রাজারকুল, দেয়াংপাড়া, নয়াপাড়া, ঘাটকুলিয়াপাড়া, চাকমারকুল, মিঠাছড়ি, ওমখালী, পালপাড়া, সিকদারপাড়া রক্ষা পাবে।
রামু ও কক্সবাজার সদরের বন্যা কবলিত মানুষের প্রাণের দাবি ছিল বাঁকখালী নদীতে রক্ষা বাধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ণ সম্পন্ন হলে লক্ষাধিক উৎকন্ঠিত নদী পাড়ের মানুষ বাকঁখালীর চরম ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।
যথাসময়ের মধ্যে গৃহিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সরকারের চলমান বাঁকখালী নদী ড্রেজিং এর সুফল পাওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন