২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা আবারো সাগরে

FB_IMG_1540900516277.jpg

দিসিএম ডেস্ক

ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সাগর ও নদী মোহনায় মাছ ধরার উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত রোববার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ওইদিন মধ্য রাতের পর থেকে সাগরে ফের মাছ ধরা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ ট্রলার সাগরে চলে গেছে; বাকিগুলোও আজ-কালের মধ্যে চলে যাবে। এরমধ্যে বিহিন্দি জালের ট্রলারগুলো মাছ ধরে গতকাল বিকালেই কূলে ফিরে এসেছে। তবে ইলিশ জালের ট্রলারগুলো গভীর সাগরে পৌঁছে আজ মঙ্গলবার থেকে মাছ ধরা শুরু করবে বলে জানিয়েছে ট্রলার মালিকরা।
কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারে প্রায় ৭ হাজার এবং সারাদেশে প্রায় ৩৫ হাজার মাছধরার ছোট বড় যান্ত্রিক নৌকা রয়েছে। এরমধ্যে বড় নৌকায় ৩০ থেকে ৪০ জন এবং ছোট নৌকায় ৫ থেকে ১৭ জন জেলে থাকেন। এছাড়া কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর ঘাটের ইঞ্জিনবিহীন ককশিটের বোটগুলোতে থাকেন মাত্র ২ জন জেলে।
এর মধ্যে ইলিশ জালের ট্রলারগুলোর গভীর বঙ্গোপসাগরে এবং বিহিন্দি জালের বোটগুলো উপকূলের কাছাকাছি থেকে মাছ ধরে। ইলিশ ধরার ট্রলারগুলো পক্ষকালের রসদ নিয়ে এবং বিহিন্দি জালের বোটগুলো মাত্র একদিনের রসদ নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। এ বিষয়ে দরিয়ানগর বড়ছড়া বোট মালিক সমিতির সভাপতি নজির আলম বলেন, দরিয়ানগর ঘাট থেকে রোববার মধ্যরাতেই প্রায় অর্ধশত কাঠের বোট ও ককশিটের বোট সাগরে রওয়ানা দেয়। এরমধ্যে ককশিটের বোটগুলো মাছ ধরে সোমবার (গতকাল) সকালে এবং কাঠের বোটগুলো বিকালে ঘাটে ফিরে আসে। তিনি আরো বলেন, এসব বোটে চাঁন্দা, কোরাল, পোপা, তাইল্যা, ঘুইজ্জা, ফাইস্যা, ছুরি, চোখফোলা, লবস্টার ও বাটাসহ আরো কয়েক প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। স্থানীয় ভাষায় এসব মাছকে ‘পাঁচকাড়া’ বলা হয়।
এছাড়া শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও পোতাশ্রয় ফিশারিঘাট-কস্তুরাঘাটসহ জেলার অন্যান্য ঘাট থেকে কয়েক হাজার ইলিশ জালের বোট সাগরে রওয়ানা দিয়েছে। এগুলো গভীর সাগরে পৌঁছে মঙ্গলবার (আজ) বিকাল থেকে মাছ ধরা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন কঙবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ। তিনি জানান, ইলিশ জালের বোটগুলো সোমবার সকাল থেকে বিকাল চারটার মধ্যে সাগরে রওনা দিয়েছে। তবে এখন বৃষ্টি ও সাগরে অস্থায়ী দমকা হাওয়া থাকায় আবহাওয়ার অবস্থা যেকোনো সময় দুর্যোগপূর্ণ হয়ে ওঠার আশংকায় অনেকেই মাছ ধরতে যাননি। আবহাওয়ার অবস্থা বুঝে কঙবাজারের সকল ট্রলার আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে সাগরে মাছধরা শুরু করবে বলে জানান এ মৎস্যজীবী নেতা।
কঙবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আবদুল আলিম বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও নদীমোহনায় সকল প্রকার মাছ ধরা, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে সরকার। গত রোববার মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সাগরে যথারীতি মাছ ধরা শুরু হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন