হামিদ আযাদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও গণগ্রেফতারের অভিযোগে প্রেস ব্রিফিং

zahir-kazal.jpg

 সংবাদদাতা

কক্সবাজার-২ আসনে ২০ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এএইচ এম হামিদুর রহমান আজাদের পক্ষে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে আপেল প্রতীকের এ প্রার্থীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে নির্বাচনে গণগ্রেফতার ও নির্বাচনী প্রচারে বাধাঁ প্রদান করা হচ্ছে। ভোট গ্রহনের দিনক্ষন যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদল প্রশাসনকে ব্যবহার করছে নির্বাচনী কাজে। এতে করে বিরোধী পক্ষের প্রার্থীসমুহের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দুরে সরিয়ে রাখার প্রচেষ্টা চলছে। আমরা একটি অংশগ্রহন মুলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিলাম। স্বতস্ফুর্ত নির্বাচন ও ভোট গ্রহন হবে এ প্রত্যাশা ছিল কুতুবদিয়া-মহেশখালীবাসীসহ সমগ্র জাতি। কিন্তু দু:খ ভারাক্রান্ত ও হতাশাগ্রস্ত মন নিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছি ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন অনুষ্টিত হবে তা একপেশে ভোট গ্রহনের সব প্রক্রিয়া সরকারপক্ষ চুড়ান্ত করেছে। তারা গণরায়ের প্রতি আস্থাশীল ও বিশ্বাসী নয়। পেশীশক্তি ও একতরফা নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চাই। ২০ দলীয় জোট থেকে কক্সবাজার-২ আসনে জনপ্রিয় মজলুম জননেতা হামিদুর রহমান আজাদকে মনোনয়ন দেয়। তিনি সাবেক এ আসনের জনপ্রিয় সাংসদ। আপেল প্রতীক নিয়ে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মানুষ এমপি নির্বাচিত করতে হামিদ আজাদকে নিয়ে অত্যন্ত প্রফুল্ল ও স্বতস্ফুর্ত। ব্যালেট ও জনরায় আপেল প্রতীকের পক্ষে নিশ্চিত যাবে সেটি জেনে সরকার দলীয় প্রার্থী ও এ দলের সন্ত্রাসীরা অস্থির হয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচনকে ঘিরে সরকার দলীয় ক্যাডাররা ভয়ানক ও মারাত্মক হয়েছে। আপেল প্রতীকের প্রচার প্রচারনা স্তব্দ করা হয়েছে। বিশেষ করে কুতুবদিয়া ও মহেশখালীতে আমাদের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে গণগ্রেফতার চলছে। ধুরুং বাজার থেকে আমাদের কর্মী ছৈয়দুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্বীপাঞ্চল পত্রিকার সাংবাদিক আকবর খানকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা যেখানে যাই সেখানে চলছে বাধা। পুলিশ ঘরে ঘরে গিয়ে আমাদের কর্মীদের খোঁজছে। আমরা যাদের এজেন্ট দেব এদেরও খোঁজছে প্রশাসন। এ কঠিন অবস্থায় নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব হয়েছে। আমাদের প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদের সহধর্মিনী জেবুন্নেছা চৌধূরীকে অপদস্ত করা হয়েছে। মহেশখালীতেও একই অবস্থা। হোয়ানক পথ সভা ছিল। চেয়ারম্যান মীরকাসেমসহ পুলিশ এসে সেটি পন্ড করে দেয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে প্রার্থীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুতুবদিয়াকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ৫ টি নৌঘাটের যোাগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। সারা দেশের সাথে কুতুবদিয়াকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। যাতে ভোটাররা ভোট না দিতে পারে এ কৌশল হচ্ছে নৌঘাট বন্ধ করা। আমরা মনে করি নির্বাচনের আর একদিন মাত্র সময়। এর মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আসবে। জনগন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে। আমরাও বিজয়ী প্রত্যাশী।
২৮ ডিসেম্বর দুপুরে পেকুয়ায় এ প্রেস ব্রিফিং হয়েছে। পেকুয়া উপজেলা প্রেস ক্লাবে ওই সংবাদ ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কক্সবাজার-২ আসনের ২০ দলীয় জোট জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এ,এইচ,এম হামিদুর রহমান আজাদের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মহেশখালী উপজেলার আমির মোহাম্মদ জাকের হোসাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুতুবদিয়া উপজেলার নায়েবে আমির উত্তর ধুরং ইউপি চেয়ারম্যান আসম শাহরিয়ার চৌধুরী, নির্বাচন সমন্বয়কারী আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রমুখ। এ সময় পেকুয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন