হত্যা নয়, পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা

unnamed-1-4.jpg

দিসিএম ডেস্ক

স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন আত্মহত্যা করেছে। কেউ তাকে খুন করেনি। তাসফিয়া হত্যা মামলায় গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তাসফিয়া পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

গত বছরের ২ মে সকালে কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গার ১৮ নম্বর ঘাটে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে থাকা অবস্থায় তাসফিয়ার লাশ পাওয়া যায়। নগরীর সানসাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে।

মামলাটি প্রথমে পতেঙ্গা থানাপুলিশ তদন্ত করলেও রহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। পরে নগর গোয়েন্দা পুলিশকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মামলাটি তদন্ত করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক স্বপন সরকার।

তাসফিয়া আমিনের লাশ উদ্ধারের পর থেকে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়। প্রেমিক আদনান সিএনজিচালককে দিয়ে খুন করিয়েছেন তাসফিয়াকেÑ এমন প্রশ্ন ছিল শুরু থেকেই। এ মামলার প্রধান আসামি আদনানকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।

এ ছাড়া তাসফিয়ার হাতে থাকা স্বর্ণের আংটি ও আইফোন ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার না হওয়ায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আবার কর্ণফুলী নদীপারের যেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়, তার আশপাশে স্থানীয়রা তাসফিয়াকে একা দেখতে পেয়েছিলেন বলে পুলিশকে জানান।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (বন্দর) আসিফ মহিউদ্দীন বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের দেওয়া তথ্য ও সার্বিক তদন্ত করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি

তাসফিয়া আত্মহত্যা করেছে। ভিসেরা রিপোর্টে তাসফিয়ার শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, ধর্ষণের কোনো প্রমাণও নেই। আসামিদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেও হত্যার কোনো তথ্য মেলেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের সদস্যরা দাবি করে, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে নগরীর আরেকটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আদনানের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। লাশ উদ্ধারের আগের দিন বিকালে আদনানের সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাসফিয়া। আদনান ও তাসফিয়া নগরীর গোলাপাহাড় মোড়ে ‘চায়না গ্রিল’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে খাবার খান। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে দুজনে দুটি অটোরিকশায় উঠে চলে যান বলে সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানিয়েছে পুলিশ।

তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদনানকে থানায় ডেকে আনা হয়। পরে তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিনের করা মামলায় আদনানসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদনানকে একাধিকবার হেফাজতে নেয় পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, আদনানের সঙ্গে ঘটনার এক মাস আগে সম্পর্ক শুরু হয় তাসফিয়ার। বিষয়টি জেনে তাসফিয়ার কাছ থেকে মোবাইলের সিম নিয়ে ফেলে দেয় পরিবার। আদনানের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখতে চাপ সৃষ্টি করে। এর পরও গোপনে তারা সম্পর্কে রাখে। সম্পর্কের এক মাস পূর্তি উদযাপন করতে তারা ১ মে একসঙ্গে বের হয়। বিষয়টি জেনে ফেলেন তাসফিয়ার মা। ফলে লজ্জায় তাসফিয়া পতেঙ্গায় নদীতীরে নেভাল বিচে চলে যায়। সেখানে হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় বসে থাকে। পরে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ১৬ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন