স্বস্তিতে কক্সবাজারে ভ্রমন পিপাসুরা

Cox-12-December-Pic_1-1.jpg

ওমর ফারুক হিরু :
গত ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে থাকা অস্থিত পরিস্থিতির কারনে ওই সময়ের ভরা মৌসুমেও পর্যটকের দেখা মেলেনি। ফলে মারাত্বক ক্ষতি হয়েছিল কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে। পাশাপাশি ভ্রমণ পিপাসুরা উপভোগ করতে পারেনি কক্সবাজারের সৌন্দর্য।
কিন্তু এইবারের চিত্র ভিন্ন। এখনো নির্বাচনীর অস্থিরতার কোন প্রভাব পড়েনি পর্যটন খাতে। মৌসুম অনুযায়ী যথারীতি আশানুরূপ পর্যটক এসে নিরাপদে ভ্রমন করছে। পর্যটকেরা নিরাপদে ভ্রমন করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতরাও সন্তুষ্ট। এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রতি বছরে যে পরিমান পর্যটকের সমাগম হয় এবারেও ঠিক তাই হয়েছে। শহরের আবাসিক হোটেল-মোটেল, কটেজ আর গেস্ট হাউস গুলো ভরে গেছে পর্যটকে। কক্সবাজারে থাকা প্রায় ৫শ’ এর কাছাকাছি হোটেল-মোটেল, কটেজ-গেস্ট হাউসে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করছে। আগত পর্যটকরা সমুদ্রের বালিয়াড়ি সহ ভ্রমন করছে সেন্টমার্টিন, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, সোনাদিয়া, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মেধাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক সহ বিভিন্ন দর্শনিয় স্থান।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক সাইমা সোলতানা জানান, কক্সবাজারে নির্বাচনী অস্থিরতার কোন প্রভাব দেখা যাচ্ছেনা। নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সব কিছু ঠিক আছে। ফলে নিরাপদে ভ্রমন উপভোগ করতে পারছি।
বেড়াতে আসা রাকিবুল ইসলাম নামে আরেক পর্যটক জানান, তিনি প্রায়ই কক্সবাজার ভ্রমনে আসেন। গত নির্বাচনে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে ভ্রমনে আসতে পারেননি। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে ওই সমস্যা নেই। তাই নিরাপদে ভ্রমন করতে পারছে।
‘কয়লা’ নামে অভিজাত এক রোস্তুরার মালিক জানান, গত নির্বাচনের সময়ের তুলনায় এইবারে পর্যটকের আনাগোনা বেশি। যার ফলে গতবারের তুলনায় এইবারে ব্যবসাও ভাল হচ্ছে।
সুগন্ধ্যা পয়েন্টস্থ ঝিনুক ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জনান, তিনি দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী। গত কয়েক বছর ধরে তার ব্যবসা ভাল হলেও গতবারের নির্বাচনে অস্থিত পরিস্থিতির কারনে ব্যবসা ভাল ছিলনা। তিনি আশা করছেন ওই ধরনের পরিস্থিতিতে আর কখনও পড়তে হবেনা।
কক্সবাজার কটেজ মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহম্মদ নোবেল জানান, গত নির্বাচনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারনে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এইবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত। যারফলে শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছে ব্যবসায়ীরা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর, থার্টি ফাস্ট নাইট, ২১ ফেব্রুয়ারীসহ বড় ছুটিগুলোতে ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে ব্যবসার মাধ্যমে পর্যটকের সেবা দিতে পারবে।
বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে জেলা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ একসাথে কাজ করছে। এছাড়া অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও জোরদার রয়েছে। প্রতিবছরের মত পর্যটকের চাপ বাড়লেই পর্যটন জোন সহ পর্যটনের সমাগম স্থানগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এইবারেও তাই করা হয়েছে। প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচনের প্রভাব যেন কোনভাবে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ভ্রমনে ব্যাঘাত না ঘটায়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানান, নির্বাচন এবং পর্যটকের আগমন এই দুইটি বিষয় মাথায় রেখেই জেলায় নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে পুরো বীচ সিসিটিভি ক্যামরার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তায় ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে। ফলে পর্যটকদের ভ্রমণের স্থান নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন