স্ট্রেচারে ইসির সঙ্গে দেখা করতে গেলেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, এরপর…

Presentation1-74.jpg

দিসিএম ডেস্ক।।

প্রচারণার মাঠে সন্ত্রাসী হামলায় শিকার হয়ে পা ভেঙে যাওয়া বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জেএম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কবিতা খানমের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বরিশাল জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তাকে দেখা করতে দেননি।

আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জেএম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর। পরে পুলিশ আহত প্রার্থীকে সার্কিট হাউজ এলাকা থেকেও বের করে দেয় বলে অভিযোগে বলা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটায় বরিশাল সার্কিট হাউজে এ ঘটনা ঘটে।

আহত প্রার্থী জেএম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর অভিযোগ করে বলেন, ‘গত বুধবার আমার নির্বাচনী এলাকার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সদর পাতারহাট বন্দরে থানার ওসিকে অবহিত করে ধানের শীষের পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগে অংশ নেই। জোহরের আযানের পর নেতাকর্মীদের বিদায় দিয়ে আমি বন্দরে অবস্থিত বিএনপি নেতা আফসার হোসেন আলমের বাসভবনে নামাজের জন্য প্রবেশ করার মুহূর্তে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাকিলের নেতৃত্বে অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও শ্রমিক লীগ ক্যাডার হকস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এ সময় মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি শাহিন খানকে বিষয়টি জানানো হলেও থানা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরত্বের ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করেননি।’

ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমার বাম পায়ের হাটু থেকে গোরালি পর্যন্ত পিটিয়ে ভেঙে বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করার প্রায় দু’ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়।’

হামলায় আহত জাহাঙ্গীরকে বুধবার রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আহত ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জেএম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কবিতা খানম বরিশাল সার্কিট হাউজে অবস্থান করছেন এ সংবাদ পাওয়ার পর হাসপাতাল থেকে অ্যাম্মুলেন্সযোগে সেখানে সাক্ষাত করতে আসেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সার্কিট হাউজের দ্বিতীয় তলায় অবস্থানরত কবিতা খানমের সাক্ষাতের জন্য নিচতলার সিড়ির সামনে এস্টেচারে শুয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

বিষয়টি নির্বাচন কমিশনারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা কবিতা খানমের রুমে অবস্থানরত জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমানকে অবহিত করলে তিনি নিচে নেমে আসেন এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চান।

এ সময় কবিতা খানমের সঙ্গে দেখা করা যাবে না উল্লেখ করে অজিয়র রহমান বলেন, ‘গতকালের ঘটনা আমি তো কিছুই জানি না।’ এরপর ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এবং তার সঙ্গে থাকা বরিশাল বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যান।

এর কিছুক্ষন পর ঘটনাস্থলে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম আসেন এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একই সুর মিলিয়ে আহতকে হাসাপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের চাপে আহত প্রার্থীকে অ্যাম্মুলেন্সে তুলতে বাধ্য হন তার সঙ্গে আগত নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আমাদের সময়কে বলেন, ‘সার্কিট হাউজে দেখা করার জন্য বরিশাল-৪ আসনের ঐক্যপ্রন্টের প্রার্থী এসেছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার মহোদয়ের সময় স্বল্পতার কারণে দেখা করতে পারবে না বলে তাকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর আমাদের সময়কে বলেন, ‘বরিশাল-৪ আসনে সরকার দলীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা বর্তমানে অনিরাপদ। প্রশাসনের সহায়তায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হচ্ছে।’

জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘আমার পা ভেঙে দিয়েছে। তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের সাথে দেখা করে জীবনের নিরাপত্তা চাইতে গিয়েছি। কিন্তু বরিশাল প্রশাসনের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা আমাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।’ প্রশাসন শতভাগ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ তার।

আপনার মন্তব্য লিখুন