সুপ্রিম কোর্টে তালা, মিছিল, ধাক্কাধাক্কি

images-22.jpeg
আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আদালত বর্জন করে সুপ্রিম কোর্ট ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে আদালতে যাওয়ার প্রবেশপথে তালা দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তাঁরা এ সময় আদালত চত্বরে মিছিল বের করেন।

আপিল বিভাগের রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির প্রতিবাদে আদালত বর্জন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী ও আওয়ামী লীগ আইনজীবীরা পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল করেছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষ মিছিল নিয়ে মুখোমুখি হলে মৃদু ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোল হয়। আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আদালত বর্জন করে সুপ্রিম কোর্ট ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে আদালতে যাওয়ার প্রবেশপথে তালা দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তাঁরা এ সময় আদালত চত্বরে মিছিল বের করেন।

তার কিছু পরেই আদালত বর্জনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারপন্থী আইনজীবীরা মিছিল বের করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুটো মিছিল মুখোমুখি হলে তাদের মধ্যে মৃদু ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়।তবে আইনজীবীদের মিছিল-পাল্টা মিছিলের মধ্যেও আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আদালতে বিচার কার্যক্রমে আইনজীবীদের উপস্থিতি কম লক্ষ করা গেছে।এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সারা দেশের আদালত বর্জনের হুমকি দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির নিজ কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এই বর্জনের কথা বলেন। এ সময় শত শত বিএনপিপন্থী আইনজীবী মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে প্রদক্ষিণ করে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।

খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির প্রতিবাদে আদালত বর্জন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী ও আওয়ামী লীগ আইনজীবীরা পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল করেছেন। 

আদালত ঘুরে দেখা যায়, বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়েছে। তবে আইনজীবীদের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় কম লক্ষ করা গেছে। সকাল ৯টা থেকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বিচারপতির বেঞ্চের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হতে দেখা গেছে। আদালত বর্জন কর্মসূচিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সভাপতির কক্ষের সামনে গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এ সময় ‘বর্জন চলছে চলবে’, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বর্জন চলছে চলবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন তাঁরা।সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সভাপতির কক্ষের সামনে গেটে তালা লাগিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ ছাড়া আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে হাইকোর্ট বিভাগের অ্যানেক্স ভবনের দিকে যাওয়ার পথে অর্থাৎ অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পাশের গেটেও তালা দেওয়া হয়। এ কারণে সকাল থেক্ইে কিছু আইনজীবী নিচতলার সিঁড়ি দিয়ে আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বেঞ্চগুলোতে যেতে দেখা যায়।সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বার সভাপতির কক্ষের সামনের দিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের নেতৃত্বে আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে এলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয়পক্ষ এ সময় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা তালা ভাঙতে গেলে বিএনপিন্থী’আইনজীবীরা বাধা দেন। তবে এই সুযোগে অ্যানেক্স ভবনের দিকের গেটের তালা হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আইনিভাবেই করতে হবে। আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত নয়। আদালত বর্জন করলে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা করতে পারে। গেটে তালা দিয়ে সাধারণ আইনজীবীদের তাঁরা বাধ্য করতে পারেন না। এ তালা ভাঙতে হবে। এর আগে বিক্ষোভ চলাকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ঘোষিত আদালত বর্জন কর্মসূচিতে সাধারণ আইনজীবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছে। তাঁরাই সুপ্রিম কোর্ট আদালত ভবনের গেটে তালা দিয়েছেন।’

খালেদ জিয়ার সাজা বৃদ্ধির প্রতিবাদে আদালত বর্জন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী ও আওয়ামী লীগ আইনজীবীরা পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল করেছেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতের দেওয়া পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে ১০ বছর করেন। এ ছাড়া পাঁচ বছরের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়া এবং ১০ বছরের দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে কাজী কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের আপিল খারিজ করেন আদালত।হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ বর্জনের ঘোষণা দেন।এর আগের দিন সোমবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অস্থায়ী আদালতের বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন