দুদককে হাইকোর্ট

সর্ষের মধ্যে যদি ভূত থাকে ভূত তাড়াবেন কীভাবে?

-মধ্যে-যদি-ভূত-থাকে-ভূত-তাড়াবেন-কীভাবে.pptx.jpg

নিউজ ডেস্ক।।

বিনা দোষে সাড়ে তিন বছর জাহালমের জেল খাটার ঘটনায় জড়িত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১১ জন কর্মকর্তার শুনানিতে আদালত বলেন, ‘যে সর্ষে দিয়ে ভূত তাড়াবেন সেই সর্ষের মধ্যে যদি ভূত থাকে, ভূত তাড়াবেন কীভাবে? আগে তো সর্ষের ভূত তাড়াতে হবে।’ জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘আপনাদের আদেশের পর আমরা দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেন।’

আজ বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানিকালে এ আদেশ দেন।

দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে আসাদুজ্জামান শুনানি করেন। সোনালী ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জাকির হোসেন। এ সময় জাহালম আদালতের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

আজ দুপুর ২টার পর দুদকের প্রতিবেদনের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান দুদকের প্রতিবেদন পেশ করে বলেন, ‘জাহালমকে ভুল আসামি করা ৩৩ মামলা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জন কর্মকর্তার অবহেলা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘এ রিপোর্ট ভাসাভাসা রিপোর্ট। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারা প্রতিবেদনে বলেছেন ১১ জন দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু ১১ জন কর্মকর্তা কারা। তাদের নাম নেই কেন? কোন কর্মকর্তার কী দোষ, সুনির্দিষ্টভাবে তা উল্লেখ নেই কেন?’

এ সময় দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘আমরা আদালতের নির্দেশ অনুসারে ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে বিস্তারিত তৈরির জন্য সময় প্রয়োজন।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘১১জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে বিভাগীয় মামলা করবেন তাদের বিরুদ্ধে শোকজ কই? তালিকা দিলেন না কেন? কী কারণে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলো তার বিবরণ কই? কার কতটুকু দায় তার বিবরণ কই?’

জবাবে খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘আমরা বিস্তারিত দিয়ে দেব।’

এরপর আদালত বলেন, ‘যে সর্ষে দিয়ে ভূত তাড়াবেন সেই সর্ষের মধ্যে যদি ভূত থাকে ভূত তাড়াবেন কীভাবে? আগে তো সর্ষের ভূত তাড়াতে হবে।’

জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘আপনাদের আদেশের পর আমরা দুদক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের পর্যাপ্ত সময় দেন।’

আদালত আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাদের প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

এ সময় আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘আপনারা এ প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে আদেশ দেন।’ জবাবে আদালত বলেন, ‘আদেশ এটাই; আপনাদের প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য হয়নি।’

এ সময় আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন,’তদন্ত কর্মকর্তা প্রস্তত করেনি।’

এ সময় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা কি আদালতের আদেশ অমান্য করেছে? তাদের কে তো আদালতে ডাকতে হয়।’

এ সময় আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘আমরা বিস্তারিত করে দেব। একটু পর্যাপ্ত সময় দেন। এরপর আদালত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে আগামী ২৮ আগস্ট দাখিল করতে নির্দেশ দেন।’

এর আগে দুদকের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) জালাল সাইফুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জাহালমকে ভুল আসামি করা ৩৩ মামলাই পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।’

আদালতের আদেশে গঠিত দুদকের তদন্ত কমিটি গত ১১ জুলাই একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। সেখানে বিনা দোষে জাহালমের জেল খাটার বিষয়ে দুদক, মামলার পিপিসহ সব পক্ষের দায় ও সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে নির্দেশ দেন।

গত ২৭ জুন আদালত জাহালমের ঘটনায় দুদকের দায় আছে কি না, তা নির্ণয় করে গঠিত কমিটিকে ১১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, একটি জাতীয় দৈনিকে “৩৩ মামলায় ‘ভুল আসামি জেলে’‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না…’” শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ডুমুরিয়া গ্রামের জাহালম ‘ভুল আসামি’ হয়ে বিনা দোষে তিন বছর জেল খাটার ঘটনায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত।

আপনার মন্তব্য লিখুন