সমিতিপাড়ায় ৭মাসের অন্ত:সত্তাসহ দুই মহিলার উপর হামলা : গর্ভের সন্তান নষ্ট

PicsArt_06-07-12.21.22-1.jpg

কক্সবাজার পৌর ১নং ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ায় (বাগান পাড়ায়) তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিলাসহ ৩জনকে গুরুতর আহত করেছে এক সন্ত্রাসী গ্রæপ। গত ৩১মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, কক্সবাজার পৌর ১নং ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ায় (বাগানপাড়ায়) বসবাস করে আসছেন হাজেরা, সনজিদা প্রকাশ ছমুদা, রহিমা ও ছকিনা। তারা সম্পর্কে আপন বোন। সকলেই আলেদা আলেদা সংসার করছেন। ঘটনার বিবরণে ভোক্তভোগীরা জানান, সনজিদা প্রকাশ ছমুদা স্বামী পরিত্যাক্ত হলেও প্রকাশ আছে সম্প্রতি নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করছে বলে শুনা যাচ্ছে। তারা আরও জানান, নুরু থানার লোক হিসাবে সকলের কাছে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তার দাপটেই তার স্ত্রী খ্যাত সনজিদা প্রকাশ ছমুদা কাউকে পাত্তা দেয়না। নুরুর ক্ষমতার দাপটে বাতাসে চলাফেরা করে সনজিদা। কোন মানুষকে মানুষ হিসাবে দাম দেয়না। তাদের অত্যাচারে নিয়মিত নির্যাতিত হয়ে আসছে রহিমা ও ছকিনার পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন। এলাকাবাসী অনেক শালীসি বিচার করেও কোন ভাবে দমাতে পারেনি সনজিদাকে। তার সাথে জোট বেঁধেছে তার বোন হাজেরা বেগম। এর আগেও সনজিদা ও হাজেরা জোট বেঁধে রহিমা ও ছকিনাকে বেদড়ক মারধর করে। যা থানা পর্যন্ত গড়ায়। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর ও স্থানীয় শালিশকারগণ বৈঠকের মাধ্যমে তা মিমাংশা করে দেয়। ওই বিচারের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও রহিমা, ছকিনা ও রহিমার স্বামী রুবেলকে পিঠিয়ে রক্তাক্ত জখম করে সনজিদা গং। ওই ঘটনার বিররণে জানা গেছে, ৩১ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সামান্য জায়গার বিষয়ে রহিমার সাথে সনজিদা প্রকাশ ছমুদার কথা কাটাকাটি হয়। এরই ফাঁকে সনজিদা প্রকাশ ছমুদা, তার স্বামী খ্যাত নুরু ও হাজেরা বেগম রহিমাকে বেদড়ক মারধর করে। তাদের উপর্যপুরী আঘাতে রহিমা মাটিতে লুটে পড়ে। রহিমা ৭মাসের অন্ত:সত্তা হওয়ায় তাদের অব্যাহত পিটুনী সইতে না পেরে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। হামলাকারীরা হত্যা করে রহিমার পেটে থাকা ৭মাসের শিশুকে। শুরু হয় মারাত্বক বিøডিং। নষ্ট হয়ে যায় রহিমার গর্ভে থাকা ৭মাসের শিশু। পরে ছকিনা খবর পেয়ে ছোট বোনকে উদ্ধার করতে গেলে ওই গ্যাং এর পিটুনী থেকে সেও রক্ষা পায়নি। হামলাকারীদের দায়ের কোপে ছকিনার মাথা চৌছির হয়ে যায়। এমনকি রহিমার স্বামী মো: রুবেল তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে তাদের হামলায় সেও আহত হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রহিমা ও ছকিনাকে হামলাকারীদের হাত থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহিমার পেট থেকে বের করা হয় ৭ মাসের মৃত সন্তান। পাশাপাশি ছকিনকে মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই করা হয়। এখনও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে রহিমা। সন্তানের শোকে হতাশ হয়ে পড়েছে ওই শিশুর পিতা-মাথা। এ বিষয়ে এলাকাবাসী ঘটনার সত্যাতা স্বিকার করে জানান, সনজিদার স্বমী খ্যাত নুরু থানার লোক পরিচয় দিয়ে বার বার এ ধরণের ঘটনা ঘটায়। এ বিষয়ে শিশু হত্যা, রহিমা ও ছকিনার উপর নির্মম অত্যাচারের বিচার চেয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি ওই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জোরদাবী জানান আহতদের পরিবার।

আপনার মন্তব্য লিখুন