‘শান্তিমেচের মালিকের পুত্রবধূ ঋতুপর্নাকে হত্যা করা হয়েছে’

Screenshot_2-1.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক:
১৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে শহরের শান্তিমেচের মালিকের পুত্রবধু ঋতুপর্না চৌধুরীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেসময় শ^শুরবাড়ির লোকজন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবী করে । কিন্তু মৃত্যুর ১৮ দিন পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয় ঋতুপর্ণাকে শ^াসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।
ওই ঘটনায় নিহতের ভাই শুভ বাদী হয়ে ৩ অক্টোবর নিহতের শ^শুর –শ্শুড়ি, স্বামী, দেবর সহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা করে । সেই মামলার অভিযুক্ত হিসেবে শ^শুর ও স্বামীকে গ্রেফতার করে ৩ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে ২ অক্টোবর রাতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের (লালদীঘির পশ্চিম পাড়) শান্তি মেচের মালিক নেপাল চৌধুরী ও তার ছেলে রানা চৌধুরী টুটন (ঋতুপর্নার স্বামী) কে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে শান্তিমেচ থেকে আটক করে।

পুলিশ সূত্র জানায় , ঋতুপর্ণা হত্যা মামলায় মোট ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ঋতুপর্নার স্বামী রানা চৌধুরী টুটন (৩২) শ্বশুর নেপাল চৌধুরী (৫৫) শ্বাশুড়ি আভা চৌধুরী (৪৮) দেবর রিপন চৌধুরী (৩০) নিকট আতœীয় চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার সুখছড়ি গ্রামের সাজু দাশ (৩০) ও নন্টু বিকাশ দাশকে। অভিযুক্তদের মধ্যে ২ জন কারাগারে রয়েছে। বাকীরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ও নিহতের ভাই শুভ চৌধুরী বলেন, আমার বোনের মৃত্যুর সময় থেকে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ ছিল। তবুও আমি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় ছিলাম । প্রতিবেদন হাতে পেয়েই হত্যা মামলাটি দায়ের করেছি।

তিনি আরো বলেন, ২০১৫ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি ঋতুপর্নার সাথে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে বিয়ে হয় রানা চৌধুরীর। বর্তমানে ঋতুপর্না ও রানা চৌধুরীর সংসারে তুর্ন নামে ২ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী রানাসহ তার পরিবারের সদস্যরা ঋতুপর্নাকে যৌতুকের জন্য শারিরীকভাবে নির্যাতন চালাতো। এরই জের ধরে গত ১৪ই সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় আসামীরা যৌতুকের দাবীতে মারধর করে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে। পরে তারা হত্যাকান্ডকে আতœহত্যা বলে প্রচার চালায়। তিনি আরো বলেন, ঋতুপর্নার গলায় আঘাতের দাগ, বাম হাতের বাহুতে, শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের দাগ ও রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখা যায়।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, গৃহবধূ ঋতুপর্ণা মৃত্যুর ঘটনায় ১৫ই সেপ্টেম্বর কক্সবাজার থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ময়না তদন্তকারী কর্মকর্তা ডা: আবুল খায়ের আজাদ তাঁর প্রতিবেদনে ঋতুপর্নাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে দাবী করে প্রতিবেদন দিলে হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ঋতুপর্ণার মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তার শ^শুর বাড়ির লোকজন অদ্ভুদ আচরণ শুরু করে। তারা নিহতকে মানসিক রোগী হিসেবে দাবী করে আতœহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালায়। কিন্তু আমাদের কাছে কয়েকটি বিষয় খটকা লাগলে আমরা ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেসময় প্রভাব বিস্তার করে ময়নাতদন্ত না করার জন্য প্রেসার তৈরির চেষ্টা করে অভিযুক্ত পক্ষ। কিন্তু আমরা তারপরও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন করি।
ওসি আরো বলেন, পলাতক অন্য ৪ আসামীর সন্ধান চলছে।

এদিকে নিহতের দেবর ও মামলার অভিযুক্ত ডা. রিপন চৌধুরী বলেন, আমার বৌদি মানসিক রোগী ছিলেন। তিনি একজন সাইক্লোজিস্টের কাছে চিকিৎসাধীন ছিল। আর ঘটনার দিন আমি ঢাকার পপুলার হাসপাতালে কর্মরত ছিলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন