কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী

লুৎফুর রহমান কাজলের গণসংযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও পুলিশী বাধার অভিযোগ

95bd8556e19e6306030b241807f2185e-5c1dc77c5dd8e-28.jpg

বিশেষ প্রতিবেদন

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও পুলিশী বাধার কারণে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল তার প্রতিদ্ব›িদ্ব নৌকার প্রার্থীর নেতৃত্বে ধানের শীষের কার্যালয় ভাংচুর ও কর্মীদের প্রকাশ্যে হাত নেয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এছাড়া পাল্টা কর্মসূচি ও পুলিশী নিষেধাজ্ঞার কারণে মঙ্গলবার রামুতে তার নির্ধারিত গণসংযোগ কর্মসূচি বাতিল করতেও বাধ্য হন বলে জানান।

বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ধানের শীষের কর্মীদের উপর পুলিশ ও আওয়ামীলীগ কর্মীদের হামলা ততই বেড়ে যাচ্ছে। হামলায় খোদ আওয়ামীলীগ প্রার্থী নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কোথাও তিনি গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করলেই সেখানে পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছেন তার প্রতিদ্ব›িদ্ব নৌকার প্রার্থী। আর এসব ঘটনা পুলিশকে জানানো হলেও তারা সেব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে প্রচারণা বন্ধ রাখতে বলছেন। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তিনি রামুর গর্জনীয়া ও কচ্ছপিয়ার নির্ধারিত গণসংযোগ কর্মসূচি বাতিল করতেও বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, একদিকে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্বে হামলা চলছে, অন্যদিকে চলছে পুলিশের মামলা-হামলা ও গ্রেফতার-হয়রানি।

বিএনপি প্রার্থী কাজল বলেন, মঙ্গলবার বিকালে ও সন্ধ্যায় পুলিশ ও আওয়ামীলীগ কর্মীরা মিলে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীতে ধানের শীষের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ভাংচুর করে। এসময় নারী-শিশুসহ ৩০ জনের বেশি আহত হয়। এরআগে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঈদগড় বাজারে ধানের শীষের প্রচারণাকালে পুলিশ প্রচারণাকর্মীকে গ্রেফতার করে। একইদিন বিকাল চারটার দিকে রামুর খুনিয়াপালং-এর ধোয়াপালং থেকে বিএনপি কর্মী আবদুর রহমানকে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং অমানুষিক নির্যাতন চালায়। আর সোমবার রাতে ঈদগড় ও গর্জনীয়ার থিমছড়িতে ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস ভাংচুরে সরাসরি সরকারদলীয় প্রার্থী নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, সোমবার রাত পৌনে ৯টায় ঈদগড় বাজারে অফিস ভাংচুর করা হয়। এরপর সেখানে এক সমাবেশে নৌকার প্রার্থী কমল ধানের শীষের পক্ষে যারা ভোট চায় তাদের হাত কেটে নিতে পারলে বিভিন্ন অংকের পুরস্কার ঘোষণা করেন। এরমধ্যে বিএনপি নেতা নুরুল আজিম মাইজ্জার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং সাধারণ সমর্থকদের হাত কেটে নিতে পারলে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবেও ঘোষণা দেন। এছাড়া ভোটের আগের দিন বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বাড়িঘর থেকে গরু ধরে এনে জবাই করে মেলার আয়োজনেরও ঘোষণা দেন নৌকার প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী আরো অভিযোগ করেন, নৌকার কর্মীদের রাত ৮টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানোর পর থেকে রাতব্যাপী বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের হামলা চালানোর জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল। যারা নৌকায় ভোট দেবে না তাদেরকে তালিকাভূক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন নৌকার প্রার্থী।

বিএনপি প্রার্থী আরো অভিযোগ করেন, নৌকার প্রার্থী ঈদগড়ের নির্বাচনী সভা থেকে ফেরার পথে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গর্জনীয়ার থিমছড়ি বাজারের নির্বাচনী অফিসে ভাংচুর চালান। এবিষয়ে রিটার্নিং অফিসার, পুলিশসহ নির্বাচন কমিশনে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন