লাখো মানুষের অংশগ্রহণে প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের জানাযা অনুষ্ঠিত

INSAF24-R5656.jpg

দিসিএম ডেস্ক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের দ্বিতীয় ছেলে মাওলানা ইউসুফ।

প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমানের জানাযা উপলক্ষে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জানাযায় সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। নামাজের পূর্বে মরহুমের জীবনী নিয়ে দেশ বরেণ্যে রাজনীতিবিদ, আলেম-উলামারা বক্তব্য রাখেন।

জানাযায় উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা রশীদ আহমদ ভর্নবী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা ইসমাঈল নুরপুরী, মাওলানা শফিকুল ইসলাম আমকুনী, সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া মাহমুদ,  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর জুবায়ের আহমদ আনসারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখ।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া বারোটার দিকে সিলেটের ইবনেসিনা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান।

মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিলো ৬৯ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন থেকেই হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। ভারত থেকে তিনি চিকিৎসা নিয়ে গত মঙ্গলবার দেশে ফেরেন। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বুধবার থেকে তিনি যথারীতি মাদরাসায়ও আসা-যাওয়া শুরু করেন।

প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের শিক্ষা জীবনের শুরু ফুলবাড়ির বইটিকর প্রাইমারী স্কুল থেকে। পরে কিছুদিন রুস্তুমপুর কওমি মাদরাসায় পড়ে ভর্তি হন ফুলবাড়ি আজিজিয়া আলিয়া মাদরাসায়। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে ফুলবাড়ি মাদরাসা থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ফাজিল এবং ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে সিলেট আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেন।

ছাত্র জীবন থেকেই তিনি তার বাবার সূত্রে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর হজরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জি হুজুর (রহ.) কর্তৃক খেলাফত আন্দোলনে যোগ দেন। পরে খেলাফত আন্দোলন ছেড়ে শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিতি খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুকালে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন