‘লক্ষ্মী’ আসনে জয় পেতে দু’দলই মরিয়া

2204_me.jpg

আজিম নিহাদ :
দেশের শেষ সীমান্তের আসন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ)। মুরুব্বিদের কাছে এটি ‘লক্ষী’ আসন হিসেবে পরিচিত। এই লক্ষী আসনে জয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।
নৌকায় চড়ে এই লক্ষী আসনে ২০০৮ সাল ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে পর পর দুইবার সংসদে যান ‘আলোচিত’ সাংসদ আবদুর রহমান বদি। কিন্তু নৌকার দল আওয়ামী লীগ এবার তাকে মনোনয়ন দেয়নি। দলটি মনোনয়ন দিয়েছে তার স্ত্রী শাহীনা আক্তারকে। বদিকে ঘিরে ‘বিতর্ক’ যেমন আছে, তেমনি জনপ্রিয়তাও তাঁর আকাশচুম্বি। উখিয়া-টেকনাফের রাজনৈতিক সচেতন মানুষের ধারণা, স্বামীর জনপ্রিয়তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে আসনটিতে শাহীন আক্তার নৌকার জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবেন। শাহীন আক্তারেরও দাবী তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।
উখিয়া-টেকনাফ আসনে চারবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। কিন্তু টানা ১০ বছর ক্ষমতায় না থাকায় বিএনপির জন্য কিছুটা ‘গ্যাপ’ তৈরী হয়েছে। সেই গ্যাপটি কাটিয়ে উঠতে পারলে শাহাজাহান চৌধুরী তথা বিএনপি আসনটি দীর্ঘদিন পর আবারও পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবে।
বিএনপির দাবী, উখিয়া-টেকনাফে শাহজাহান চৌধুরীর মত জনপ্রিয় নেতা এখনো দ্বিতীয় কেউ হয়ে উঠেনি। তাছাড়া এ আসনের ভোটারেরা ধানের শীষের জন্য পাগল। তাই লক্ষী আসনে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়ী হবেন মনে করেন তারা।
উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে প্রধান দুই দলের প্রার্থীরা কেউ কারোর থেকে কম নয়। জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে প্রায় সমান। তাই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ মনোনীত শাহীন আক্তার নারী প্রার্থী হলেও প্রায় সবদিক থেকে ক্ষেত্র বিশেষে ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর চেয়েও এগিয়ে আছেন। শাহীন আক্তারের স্বামী বর্তমান সাংসদ আবদুর রহমান বদি এ আসনে পরপর দুইবার সাংসদ নির্বাচিত হন। তাছাড়া তিনি (শাহীন আক্তার) উখিয়ার বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে। তার বাবা মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরী ঠান্ডা মিয়া উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। টেকনাফের বউ এবং উখিয়ার মেয়ে হিসেবে ভোটের মাঠে বেশ সুবিধায় তিনি। অন্যদিকে চারবারের সাংসদ হিসেবে উখিয়া-টেকনাফে বেশ অবস্থান রয়েছে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর।
বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থানের কারণে আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চাইছে আসনটি হাতছাড়া না করতে। এ আসনে জয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া দলটি। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর সাথে আবদুর রহমান বদির সাপে-নেউলে সম্পর্কেও কিছুদিন আগে বরফ গলেছে। নৌকার বিজয়ের প্রশ্নে মান-অভিমান ভুলে এখন তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ।
টেকনাফের বাহারছড়া এলাকার তরুণ ভোটার মো. তারেক বলেন, উখিয়া-টেকনাফে বদি ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তাই এবারের নির্বাচনেও জনগণ তার স্ত্রীকে ভোট দেবে।
রাজাপালং ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষক মো. আলী বলেন, বদি গরীবের বন্ধু। যেকোন বিপদের সময় তাকে পাওয়া যায়। তারমধ্যে কোন অহংকার নেই। সব সময় আমাদের খবর রাখেন। তার স্ত্রী শাহীন আক্তারও গরীব বান্ধব। আমরা নৌকায় ভোট দিয়ে শাহীন আক্তারকে বিজয়ী করবো।
আবার বিএনপি সর্বাত্মক ভোটারেরা বলছেন, আবদুর রহমান বদির আমলে ইয়াবার বিস্তার বেড়েছে। প্রজন্ম ধ্বংসের জন্য বদিও কম দায়ী নয়। ইয়াবা বদনামের জন্য খোদ আওয়ামী লীগ তাকে (বদি) মনোনয়ন দেয়নি। বদির বদনামের জন্য জনগণ তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে ভোট দেবেনা। এই সুযোগে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিনিয়ত নেতাকর্মীদের উপর হামলা, ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট কেন্দ্রে না আসার জন্য এলাকায় এলাকায় গিয়ে ধানের শীষের সমর্থকদের হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে। অনেক কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে না পারার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। তারপরও আতঙ্কিত কর্মীদের নিয়ে প্রস্ততি নিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ জনগণ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারলে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।’
নৌকার প্রার্থী শাহীন আক্তার বলেন, ‘উখিয়া-টেকনাফে আমার স্বামী (বর্তমান সাংসদ আবদুর রহমান বদি) টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দরিদ্র মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমিও নির্বাচিত হয়ে স্বামীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত এবং উখিয়া-টেকনাফের মানুষের জন্য যা যা করতে হয় সবকিছু করবো।
তিনি আরও বলেন, উখিয়া-টেকনাফে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়ন হয়, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। তাই জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী জেলার একমাত্র এ নারী প্রার্থী।

আপনার মন্তব্য লিখুন