রামুতে হত্যা মামলায় নিরীহ লোকজনকে জড়ানোর অভিযোগ

Presentation1-31.jpg

রামু প্রতিনিধি
রামু উপজেলার চাকমারকুলে ছিনতাইকারী কর্তৃক বেকারি কর্মচারিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় মামলা হলেও ওই মামলায় নিরীহ লোকজনকে জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি তাদের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিহতের স্ত্রীকে কৌশলে ম্যানেজ করে মামলাটি করিয়েছে বলে জানা গেছে। একটি বর্বরোচিত হত্যা মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করার খবরে এলাকায় জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৮ নভেম্বর সকালে রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের জারাইলতলী এলাকায় ছিনতাইকারির ছুরিকাঘাতে খুন হন ঢাকা ফুডস বেকারির বিক্রয় কর্মী আলী আকবর (৪৫)। তিনি রামুর রশিদনগর ইউনিয়নের পানিরছড়া লম্বাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পরদিন ২৯ নভেম্বর ভিকটিমের স্ত্রী রুবি আকতার এ ঘটনায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে রামু থানায় মামলা (নং ৩৯) করেন।
মামলায় স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল বাদীকে কৌশলে ম্যানেজ করে প্রতিপক্ষকে হয়রানির উদ্দেশ্যে থানায় দেয়া মামলার এজাহারে কক্সবাজার সদর উপজেলার পূর্ব খরুলিয়া ও রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সাতঘরিয়াপাড়া এলাকার ৫ জন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের অভিযোগ মামলায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নন। সম্পূর্ণ হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের জড়ানো হয়েছে।
মামলায় একই পরিবারের ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার পূর্ব খরুলিয়া এলাকার দরবেশ আলীর ছেলে, জানে আলম, মোরশেদ আলম ও মনির আলম এবং জানে আলমের ছেলে মো. রুবেল। অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সাতঘরিয়াপাড়া এলাকার আবদু সালামের ছেলে সরোয়ার আলম।
মামলায় অভিযুক্ত জানে আলম, মনির আলম জানিয়েছেন, অভিনব কৌশলে স্থানীয় মামলাবাজ ও ভূমিদস্যু ব্যক্তিরা তাদের নাম মামলার এজাহারে দিয়েছে। এমনকি মামলায় আরো ২ জনসহ তাদের পরিবারের ৪জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ঘটনার পরই দোকানে কর্মরত অবস্থায় তাদের ভাই মোর্শেদ আলমকে পুলিশে ধরে নিয়ে যায়। পরে মামলার এজাহারে তাকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তারা আরো জানান, বছরখানেক পূর্বে তাদের দোকানে এলাকার প্রভাবশালী, মামলাবাজ ভুমিগ্রাসি চক্রের সদস্যরা হামলা, ভাংচুর, মারধর ও লুটপাট চালায়। ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তাদের বাবা দরবেশ আলী বাদি হয়ে কক্সবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার আসামীরাই আলী আকবর হত্যা মামলার বাদিকে ম্যানেজ করে তাদের অভিযুক্ত করে এজাহার দিতে সহায়তা করেছে। মামলায় তাদের পরিবারের ৪ জনকে আসামী করা হলেও তারা এ ঘটনায় কোনভাবেই জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন।
এদিকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিহত আলী আকবরের স্ত্রী মামলার বাদি রুবি আকতার জানান, মামলায় কাদের আসামী করা হয়েছে তিনি জানেন না। স্বামীর মৃত্যুর পরদিন চাকমারকুল এলাকার কিছু ব্যক্তি একটি এজাহার লিখে তাকে ডেকে নিয়ে তাতে স্বাক্ষর নেন। এর বেশী কিছু তিনি জানেন না। মামলা করার পর এজাহারে নিরীহ ব্যক্তিদের জড়ানোর বিষয়টি তাকে রশিদনগর ইউপি চেয়ারম্যান সহ অনেকে জানিয়েছেন। তাই মামলায় যাতে নিরীহ ব্যক্তিরা হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য তিনি যা প্রয়োজন তাই করবেন।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মামলার এজাহারে জারাইলতলী এলাকায় মোর্শেদ এর দোকানের ঘটনা ঘটেছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ জারাইলতলী বা শাহমদের পাড়া এলাকায় মোর্শেদ নামের কারো দোকান নেই। মোর্শেদ এর বাড়ি ও দোকান রয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার পূর্ব খরুলিয়া ভুতপাড়া এলাকায়। এছাড়া ঢাকা ফুডস বেকারির বিক্রয় প্রতিনিধি নিহত আলী আকবরও ওই এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির মালামাল বিক্রি করতেন না। যে কারনে মোর্শেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে তার লেনদেন ছিলো না। তাই এদের মধ্যে মারধর বা সংঘর্ষের আশংকাও ছিলো না।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ছিনতাইকারি কর্তৃক আলী আকবর ছুরিকাহত হয়ে মারা গেছেন। এখানে একাধিক ব্যক্তিকে জড়িয়ে মামলা করা মানেই নিরীহ মানুষকে জড়ানো। তাই এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের সজাগ ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এলাকাবাসী নিরীহ ব্যক্তিদের মামলা থেকে বাদ দেয়ার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার দিন (২৮ নভেম্বর) ঘটনাস্থলে যান রামু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মং ছাই মারমা। তিনি জানান, সেদিনের ঘটনাস্থলে পাওয়া তথ্যমতে একজনই ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই এখানে নিরীহ ব্যক্তিদের জড়ানো উচিত হয়নি। তবে তদন্তে দোষী ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের বাদ দেয়া যায়।
বাদির পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও জানিয়েছেন, মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে বলে তারা জেনেছেন। যারা নিরীহ তাদের মামলা থেকে বাদ দিতে তারা সহযোগিতা করবেন।
এদিকে এ মামলায় পরিবারের সকল পুরুষ সদস্যদের জড়ানোর কারনে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন বৃদ্ধ দরবেশ আলী। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত করে তার ছেলেদের মামলা থেকে বাদ দিয়ে হয়রানির কবল থেকে মুক্ত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি এ মামলা নিয়ে এমন অনৈতিক কাজে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি থানায় যেতে বলেন। কিন্তু থানায় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন