রামুতে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা

FB_IMG_1539533353911.jpg

আহমদ গিয়াস।।

কক্সবাজারের রামুতে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে এক অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিটি মৃত্যুর আগে নিজেকে নাটোরের কবিরাজের ছেলে হাকিম (৫০) বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু মৃত্যুর পর পুলিশ খোঁজ নিয়ে তার আত্মীয়স্বজনের হদিস বের করতে না পারায় আজ বিকালে তার লাশটি বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার কিছুদিন আগে লোকটি রামুর কাউয়ারখোপ এলাকায় গিয়ে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি শুরু করে। তাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করলে উল্টা-পাল্টা উত্তর দেয়। এলাকার মানুষ তাকে পাগল বলেই জানে। গত মঙ্গলবার বিকালে লোকটি রামুর কাউয়ারখোপের বৈলতলী ফরেস্ট অফিসের পূর্বপাশ্বের নদীরপাড়ে ঘোরাঘুরি করার সময় একদল বখাটে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার চারদিনের মাথায় শনিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আর তার এ মৃত্যুর খবর পেয়ে রামু থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত এক বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার যুবক মো. আলম (৩০) ওই ইউনিয়নের ডিক্কুল এলাকার শফিউল আলমের ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রামু থানার ওসি আবুল মনসুর জানান, একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রামুর কাউয়ারখোপের বৈলতলী ফরেস্ট অফিসের পূর্বপাশ্বের নদীরপাড়ে ঘোরাঘুরি করছিল। আর এ সময় নদীপাড়ে আড্ডারত ১০/১১ জন বখাটে যুবক অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিটিকে ‘ছেলেধরা’ আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেয় এবং এরপর গুরুতর আহতাস্থায় তাকে নদীপাড়ে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয় একদল মানবিক মানুষ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে, পরে সেখান থেকে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা যায় লোকটি।
তিনি জানান, এরপর রামু থানা পুলিশ শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত বখাটে যুবক মো. আলমকে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে গ্রেফতার যুবককে প্রধান আসামী করে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে রামু থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকী আসামীদেরও গ্রেফতার করা হচ্ছে।
ওসি জানান, নিহত ব্যক্তিটি মৃত্যুর আগে নিজেকে নাটোরের কবিরাজের ছেলে হাকিম (৫০) বলে পরিচয় দিয়েছে। এর বেশি আর কিছু বলেনি। খোঁজ নিয়ে লোকটির কোন আত্মীয়স্বজনকেও বের করা যায়নি। ফলে রবিবার বিকালে লাশটি বেওয়ারিশ হিসাবে দাফনের জন্য কক্সবাজার পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন