মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে বিবৃতিতে যা বললেন ব্যারিস্টার মইনুল

358237_140.jpg

দিসিএম ডেস্ক

ইংরেজি দৈনিক দি নিউ নেশনের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, ‘মাসুদা ভাট্টি আমার রাজনৈতিক সত্তা ও সততা নিয়ে দারুণ আপত্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য রেখেছেন। তাই আমি তার সাংবাদিকতার নিরপেক্ষ চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করেছি। তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি না, তাই তার ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলারও প্রশ্ন ওঠে না।’

বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রে প্রকাশের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
বিবৃতিতে মইনুল হোসেন বলেন, ফোনে মাসুদা ভাট্টির কাছে দুঃখ প্রকাশ করার পরও দেখা যাচ্ছে মহলবিশেষ আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অশালীন ভাষায় বক্তব্য রাখছে। তাই বিষয়টির ব্যাপারে একটি ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘গত মঙ্গলবার রাতে ৭১ টেলিভিশনে জার্নাল’ ৭১ প্রোগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিভূ (চর) হিসেবে আমি জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ায় ঢুকেছি দাবি করে তিনি প্রশ্ন করেন। দল বিশেষের চর হিসেবে মন্তব্য করে আমাকে এ দেশের কোনো সাংবাদিক প্রশ্ন করতে পারে তা আমার কাছে অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। অন্যান্য বিষয়েও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি আমার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রেখেছেন।’

মইনুল হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি বলেছেন লোকে আমাকে সেইভাবে দেখে বলেই তিনি বলেছেন। কিন্তু ফেইসবুকে মাসুদা ভাট্টির ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে জঘন্য ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। এসব বিষয় উল্লেখ করে আমি তো তার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করছি না।’ তিনি বলেন, ‘অবাধ নির্বাচনের দাবিতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ায় কিছু লোক বেসামাল হয়ে যাওয়ার কারণ আমি বুঝি।’

দেশকে ভয়াবহ সঙ্ঘাত থেকে বাঁচাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে সবাইকে এ ফ্রন্টে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নবগঠিত ফ্রন্টটির নেতারা। গতকাল জাতীয় প্রেস কাবে এক আলোচনা সভায় তারা এ আহ্বান জানান। ন্যায় প্রতিষ্ঠার সামাজিক আন্দোলন ‘মুভমেন্ট ফর জাস্টিস’-এর আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের প্রধান সমন্বয়ক সাবেক ছাত্রনেতা সানাউল হক নীরুর সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা তাপস পাঠানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা আ ব ম মোস্তফা আমিন, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান, ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এনামুল করিম শামীম, সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ উদ্দিন খান, শহিদুল্লাহ শহীদ, সাবেক ছাত্রনেত্রী আসমা শহীদ প্রমুখ।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, দেশ আবার ভয়াবহ সঙ্ঘাতের দিকে যাচ্ছে। এ থেকে দেশকে বাঁচানো যায় কিনা সে লক্ষ্যেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। গণতন্ত্র ফেরাতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা ঐক্য গড়েছি। এই প্রক্রিয়া ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। তিনি বলেন, দলীয় অন্ধগলির রাজনীতি করতে গিয়ে আজ আমরা বিভক্ত হয়ে পড়েছি। অবিশ্বাস আজকে মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ের জন্যই।

তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট দেখে সরকার ভয় পেতে শুরু করেছে। সরকার জানে এবার কাজটা এত সহজ হবে না। কিন্তু তারা যাওয়ার আগে একটা মরণ কামড় দেবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো দলীয় জোট নয়, এতে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ সব দল অংশ নিতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাচ্ছি জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। সরকার গঠন হবে জনগণের ভোটে, বিদেশীদের কথায় নয়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে দু’টি অংশ ছিল। প্রথমত, ভারত আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশের জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে লড়াই করেছিল। আমরা স্বাধীন ভূমি পেয়েছি; কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাইনি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ তাই এখনো শেষ হয়নি।
বিশিষ্ট এ আইনজীবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এটা বোকারাও বিশ্বাস করে না। ভারত, ব্রিটেন কোথাও সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হয় না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বর্তমান সরকারি দলই আন্দোলন করে এনেছে। এখন তারা বলছে এটা চলে না। পদ্ধতির প্রয়োগে ভুল থাকতে পারে, তাই বলে পদ্ধতি ভুল হবে কেন? রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে আবার ভুলে যাওয়া মেনে নেয়া যায় না। ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, গত নির্বাচনের পর সরকার বলল এটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। কিন্তু পরে আর নির্বাচন দিলো না। এভাবে জাতিকে বোকা মনে করার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে যে সংসদ চলছে তার এমপিরা নির্বাচিত নয়। দেশকে লুটেরাদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, ডা: জাফরুল্লাহ সেনাপ্রধান নিয়ে একটি মন্তব্য করে একটি ভুল করেছিলেন, এ জন্য তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাই বলে একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা কেন?

ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন চান। কিন্তু তার আশপাশে যেসব চাটুকার আছে তাদের বিশ্বাস নেই। তারা আমাদের সিকি, আধুলি বলেছেন। একবার সিকি আধুলিদের সুযোগ দিয়েই দেখেন আমরা পারি কিনা। তিনি বলেন, স্কুলশিক্ষার্র্থীরা আন্দোলনের সময় লিখেছিল-রাষ্ট্রযন্ত্রের মেরামত চলছে। আসলেই, এখন এ রাষ্ট্রযন্ত্রের মেরামতের সময় এসেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজন। কিন্তু সে পরিবেশ নেই। সরকার নিজে কথা বলছে, জনসভা করছে, কিন্তু বিরোধীরা করতে গেলেই বাধা দেয়া হচ্ছে।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন সবাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেই। জনগণ সাহস দিলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রধানমন্ত্রীও লাভবান হবেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনিও জিততে পারেন। আর যদি হারেন তাহলে তাকে জেলে যেতে হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। সেনাপ্রধান সম্পর্কে দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমার শব্দ চয়নে কিছু ভুল হয়েছে। আমি সেটি স্বীকারও করেছি। তারপরও রাষ্ট্রদ্রোহ হয় কী করে? আমরা আসল জিনিস দেখতে পাচ্ছি না।

নবগঠিত ঐক্যপ্রক্রিয়ার উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে আসিফ নজরুল বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় যারাই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় আসবে তাদেরকেই সাথে নেবেন। আগে থেকেই শর্ত দেবেন না। কোন দল মতায় আসবে কি আসবে না সেটি জনগণের ওপর ছেড়ে দিন।

সূত্র – নয়া দিগন্ত

আপনার মন্তব্য লিখুন