মহেশখালীর পান বরজে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

2-1-768x576.jpg

শাহেদ মিজান,
ঘুর্ণিঝড় তিতলি আঘাত না হানলেও তার প্রভাবে সৃষ্ট অতিবৃষ্টিতে কক্সবাজারে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে বেশি ক্ষতি হয়েছে মহেশখালীর পান বরজের। ঢলের পানি এবং জলাবদ্ধায় ডুবে সদ্য রোপন করা বিলের পানের বরজের এই ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতিকে অপূরণীয় বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। কারণ যে পান বরজগুলো পানিতে ডুবে তলিয়ে গেছে সেগুলো মড়ক লেগে একেবারে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে সে ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এত ক্ষতি কিভাবে সইবে তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবল বর্ষণে মহেশখালীতে তলিয়ে গেছে শতশত একর পান বরজ। টানা প্রবল বৃষ্টিতে সদ্য রোপিত বিলের বরজগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার হোয়ানক, কালারমার ছড়া, শাপলাপুর ও বড়মহেশখালী এলাকায় শতশত একর পান বরজ নষ্ট হয়ে অন্তত ১০ কোটি টাকার ক্ষতির হয়েছে।

হরিয়ারছড়ায় ঢলের পানিতে খুড়ে গিয়ে পানের বরজে সৃষ্টি হয়েছে পুকুর! ছবি মোহাম্মদ রাসেল।

হরিয়ার ছড়া থেকে মো: আবছার জানান, তার নিজের একটি পান বরজসহ ওই এলাকার ফোরকান. মো: হোছন, নজরুল, ভুট্টো, সোলতান, ওসমান, মো: শরিফ, সাহেব মিয়া, জালাল, মামুন, নজির আহমদসহ আরো অনেকের পান বরজ নষ্ট হয়ে গেছে।
হোয়ানক ইউনিয়নের মাঝের পাড়া থেকে মো আনচারুল করিম জানান, তার নিজের পান বরজসহ ওই এলাকার প্রায় ৫০/ ৬০ টি পানের বরজ ঢলের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আজ সকালে বিরতিহীন তুমুল বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢলে ছড়ার(খালের) বাঁধ ভেঙ্গে গভীর স্রোতে পান বরজটি ভেসে নিয়ে যায়। ওই এলাকার পান চাষি কৃষক রমজান আলী,আবুল কাসেম,মোহাম্মদ হোসেন,কমল,কাউচার,আলী আসকর জানান তাদের প্রত্যেকের পান বরজ নষ্ট হয়ে গেছে।

এছাড়া হোয়ানকের ছনখোলা পাড়া, কালারমার ছড়ার মিজ্জির পাড়া,আঁধার ঘোনা, ছরার লামা,নোনাছড়ি, ছামিরা ঘোনা, নয়া পাড়া, ঝাপুয়া ও উত্তর নল বিলা এলাকার শতশত একর পান বরজ পাহাড়ী ঢল ও জলাবদ্ধতায় ডুবে ও তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব পান বরজের প্রতিটিতে ন্যুনতম ২ লাখ টাকা করে ক্ষতি হলে অন্তত ৫ শতাধিক পান বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কম পক্ষে ১০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন