ব্যাংকার হেলাল উদ্দীনের হাত ৬ কিলোমিটার লম্বা!

received_503349936738252.jpeg

শাহী কামরানঃ শিরোনাম শুনে চমকে উঠার মতন ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার সদরের কলেজ গেইট এলাকায়। ব্যাংকার হেলাল উদ্দিন সারাদিন কর্মরত ছিলেন ইসলামী ব্যাংক কক্সবাজার শাখায়। ব্যাংকের রেজিষ্টার খাতা ও সিসিটিভি ফুটেজ তাই বলছে। গত ২৩ জানুয়ারী কক্সবাজার কলেজ গেইট এলাকার শিফাউল আজিজ (২৪)পিতা মাওলানা ইসমাইল ও তার বন্ধু মোঃ সেলিমের টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে এক পর্যায়ে মারামারি হয়। ওই ঘটনায় শিফাউল আজিজ কে মারাত্মক ভাবে যখম করে তারি বন্ধু মোঃ সেলিম। অথচ কক্সবাজার ইসলামী ব্যাংক থেকে কলেজ গেইট এলাকা দূরত্ব ৬ কিলোমিটার। তাহলে হেলাল উদ্দীন কীভাবে ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং মারধর করেছেন?
উক্ত ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জনমনে তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ভিকটিমের মা প্রাইমারী শিক্ষিকা সেলিনা মমতাজ বাদী হয়ে 3 জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৯৪, তারিখ ২৪-০১-২০১৯। সেই মামলার আসামী করা হয়েছে একই এলাকার সমাজ সেবক ও ঠিকাদার নাজিম উদ্দিন এবং ইসলামী ব্যাংক কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন কে।

এজাহারে উল্লেখ আছে, সকাল আনুমানিক ১২টার সময় কক্সবাজার কলেজ গেইট এর সামনে একটি টম টম গ্যারেজে শিফাউল আজিজ কে মারাত্মকভাবে যখম করা হয়েছে। ২ নং আসামী ঠিকাদার নাজিম উদ্দিন ও ব্যাংকার হেলাল উদ্দীন নিজ হাতে যখম করেছেন শিফাউল আজিজ কে। এমনকি মারার পরে ২এবং ৩নং আসামী প্রান আছে কি না চেক করে আবারো আঘাত করেন বলেই অভিযোগ আনা হয়েছে। অথচ ঠিকাদার নাজিম উদ্দীন ও ব্যাংকার হেলাল উদ্দীন কে প্রত্যক্ষদর্শী কেউ দেখেননি ঘটনাস্থলে। এদের সম্পূর্ন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবী প্রতক্ষ্যদর্শীদের।
এ ব্যাপারে ব্যাংকার হেলাল উদ্দীন জানান, আমার বাড়ি টেকনাফ হওয়াই কাজের সুবিধার্তে আমি কক্সবাজার শহরে ভাড়া থাকি দীর্ঘ বছর। ওইদিন সকাল থেকে ব্যাংকে কর্মরত ছিলাম, যা আমার প্রতিদিনের রেজিষ্টার ও ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজে প্রমান রয়েছে। আহত শেফাউল আজিজের সাথে আমার কোন ধরনের খারাপ সম্পর্ক তো দূরের কথা পরিচয় ও ছিলনা। শেফাউল আজিজের বাড়ির সামনে আমার নতুন ঘর নির্মানের কাজ চলতেছে। দুই বাড়ির পথ নিয়ে গত ২বছর আগে তার মা বাবার সাথে আমার ফোনে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তা এক পর্যায়ে সমাধান ও হয়েছে। সেই বাড়ির দেখাশুনা করেন আমার শ্যালক কলেজ গেইট এলাকার ঠিকাদার নাজিম উদ্দীন। আমার মনে হচ্ছে সেই ঘটনার জের ধরে তারা আমাদের হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে।

ঘটনাস্থল টমটম গ্যারেজ মালিক মনজুর জানান, ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তার চোখের সামনে আহত শিফাউল আজিজ কে তারি বন্ধু মোঃ সেলিম হঠাৎ করে এসে হাতে লাঠি নিয়ে মারধর শুরু করে এক পর্যায়ে শিফাউল আজিজ মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে। আমি সহ আরো উপস্থিত কয়েকজন তার পরিবারকে খবর জানাই। এতে তার বন্ধু সেলিম ছাড়া বা বাহিরের কেউ উপস্থিত ছিলনা।
টমটম গ্যারেজের পার্শবর্তী কুলিং কর্নার মালিক এমরান জানান, ঘটনার কিছুক্ষন আগে তারা দুই বন্ধু আমার দোকানে বাকিতে চা নাশতা পান করে। দোকানের ভিতর তাদের দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সবাই বারন করার কারনে এক পর্যায়ে তারা কুলিং কর্নার ত্যাগ করে এবং এর কিছুক্ষন পরেই শুনি মারামারির ঘটনা। তখন ঠিকাদার নাজিম উদ্দীন ও ব্যাংকার হেলাল উদ্দীন কে আমরা দেখিনী।

মামলার বাদী শিক্ষিকা সেলিনা মমতাজ জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার ছেলেকে মারা হয়েছে। আমার ছেলের বন্ধু সেলিম ও ব্যাংকার হেলাল এবং ঠিকাদার নাজিম উদ্দীন নিজ হাতে হত্যা করার উদ্দেশ্য ঘটনা ঘটিয়েছে। শিফাউল আজিজ এখন চমেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অবস্থা খুবি আশঙ্খাজনক এবং বেশ কয়েকটা অপারেশন হয়েছে বলে জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন