বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মিলবে ‘আদর্শ বউ’র সনদ

fb8258f00973baba2238099ddd40e632-5b9e6ace69d1f.jpg

অনেকেই ‘সুশীলা বউ’ ঘরে আনতে চান। আবার অনেক নারীই শ্বশুরবাড়িতে ‘আদর্শ বউ’ হতে চান। কিন্তু কোনও মানদণ্ড না থাকায় ‘আদর্শ’ বা সুশীলা বউ’ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে যায়। তবে এবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া যেতে পারে ‘আদর্শ বউ’ হওয়ার সনদপত্র। সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বরকতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় নারীদের ‘আদর্শ বউ’ হিসেবে গড়ে তুলতে একটি কোর্স চালু উদ্যোগ নিয়েছে। কীভাবে ভালো বউ হওয়া যায় আর এজন্য কী কী করতে হবে, তারই বিস্তারিত পড়ানো হবে ওই কোর্সে। নারীর ক্ষমতায়নের যুক্তিতে কোর্সটি চালু করতে চাইছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে খবরটি প্রকাশের পর থেকে সমালোচনাও হচ্ছে অনেক।

আনলাইন ডেস্ক

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, ভোপালের বরকতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় ‘আদর্শ বউ’ তৈরির জন্য তিন মাসের ওই কোর্স চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান ও উইমেন স্টাডিজ বিভাগে কোর্সটি চালু করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই চালু হওয়া কোর্সের প্রথম ব্যাচে ৩০ জন নারী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

বরকতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডি সি গুপ্তা জানান, বিয়ের পর নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে মেয়েদের সচেতন করার লক্ষ্যে কোর্সটি চালু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সমাজের প্রতিও আমাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। শুধু পুঁথিগত বিদ্যাতেই শিক্ষার্থীকে আটকে রাখলে চলবে না। আমাদের লক্ষ্য এমন বউ তৈরি করা, যারা পরিবারকে একসূত্রে বেঁধে রাখতে পারবে।’

এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডি সি গুপ্তা বলেন, ‘এই বিষয়ে এখনই বলার সময় আসেনি। আমরা বিষয়টি নিয়ে এখনও কাজ করছি।’

বরকতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কেএন ত্রিপাঠি বলেন, ‘মহৎ চিন্তা’ থেকেই এই কোর্স চালু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উপাচার্য সমাজে একটা পরিবর্তন আনতে চান। আমি বাকি বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারবো না।’

উইমেন স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আশা শুকলা এ ধরনের কোনও কোর্সের খবর জানেন না। তিনি বলেন, শিক্ষাবিদরা একে মহৎ চিন্তা হিসেবে মেনে নেবেন না। যদি বরকতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় এটা বাস্তবায়ন করতে চায় তাহলে তা খুবই হাস্যকর চিন্তা হবে। তার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরীক্ষা, ক্লাস ও শিক্ষার্থীদের দাবি সংক্রান্ত বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া বেশি প্রয়োজন।

আপনার মন্তব্য লিখুন