বিএনপি কিছু একটা ষড়যন্ত্রে আছে, বড় চোর মহাচোর খুনি দাগি একটা বসে আছে লন্ডনে

48380397_815985685460099_3174197933750878208_n-8.jpg

দিসিএম ডেস্ক :
বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন নিয়ে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলে সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জাল ব্যালট পেপার ছাপানো হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার ধানমন্ডির সুধাসদন থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পিরোজপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, নৌকার প্রার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এই শঙ্কার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কক্সবাজারের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি কিছু একটা ষড়যন্ত্রে আছে। তাদের প্রচারণা নাই। বড় চোর মহাচোর খুনি দাগি একটা বসে আছে লন্ডনে। তাদের কোনো একটা দুরভিসন্ধি আছে। কোথায় কোন প্রেসে তারা জাল ভোট ছাপায়, সেটা খবর রাখতে হবে।”

বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেরা ‘নিজেদের গাড়ি ভেঙে’ আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “আজকে এইটুকু জানাব, প্রত্যেকে খোঁজ নেন যে তারা কোথায় ব্যালট পেপার ছাপায়। এই সমস্ত অপকর্মে তাদের জুড়ি নেই। আরেকটা করতে পারে সন্ত্রাস। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে।”

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা তিনমাসের অবরোধে সহিংসতায় প্রাণহানির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “তাদের অগ্নিসন্ত্রাস মানুষ রুখে দিয়েছে। খালেদা জিয়া নাকে খত দিয়ে অফিস থেকে ফিরে গেছে। সেখান থেকে আদালতে হাজিরা দিয়েছে।”

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সুপরিকল্পিতভাবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে আমরা পরিকল্পনা করেছি। কক্সবাজারকে আগামী পাঁচ বছরে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তোলা হবে। সোলার প্যানেল দিয়ে লবণ চাষের বিষয়ে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।”

ইয়াবা চোরাচালানের অভিযোগ নিয়ে সমালোচিত টেকনাফের সাংসদ আবদুর রহমান বদির জায়গায় তার স্ত্রী শাহীনা আক্তার চৌধুরীকে এবার প্রার্থী করেছে আওয়ামী লীগ।

তার পক্ষে ভোট চেয়ে কক্সবাজারবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “কক্সবাজার থেকে এই প্রথম একজন মহিলা নির্বাচন করছেন। কাজেই আপনারা তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।।”

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোয় ওই অঞ্চলের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি জানি আপনাদের ওপর বিরাট একটা বোঝা এসে পড়েছে। সেটা হচ্ছে রোহিঙ্গা সমস্যা। সেটার জন্য আপনাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই। নিজেদের এতো কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আপনারা মানবতার জন্য বিরাট ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আসলে মানুষের বিপদে মানুষকে পাশে দাঁড়াতে হয়। সারা বিশ্ব  আপনাদের এই কাজের প্রশংসা করেছে।”

পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা বলেন, “সব ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। সেজন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছি, ৫৬০টি মসজিদে ইসলামিক কালচারাল সেন্টার চালু করেছি।”

পিরোজপুরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেন, “পঁচাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের সব চেতনা বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়। রাজাকার, আল-বদর বাহিনীকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা হয়। ফলে সাধারণ জনগণের আর ভাগ্য বদলায়নি। ভাগ্য ফিরল মুষ্টিমেয় মানুষের।”

ভিডিও কনফারেন্সে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আবারো নৌকায় ভোট চান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “সমগ্র বাংলাদেশে যে উন্নয়ন চলছে সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি, যারা গত ১০ বছরে ক্ষমতায় ছিল, তাদের আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসলে এই উন্নয়ন ব্যাহত হবে।”

আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ. ম রেজাউল করিম বলেন, “যুদ্ধাপরাধীরা বিজয়ের মাসে আমাদের পরাজিত করবে, এটা পিরোজপুরের মানুষ কোনো দিনও বরদাশত করবে না। শেখ হাসিনা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। বাংলাদেশ ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব।”

আপনার মন্তব্য লিখুন