বাবা ডাকতে ২৫ বছরের লড়াই

jewel-2-10-2018-962151278.jpg

দিসিএম ডেস্ক

২০১১ সালে আদালত ওই রায় ঘোষণা করে। তবে বিধি বাম। যথেষ্ট প্রমাণ ও অর্থের অভাবে ভালো আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারায় এই মামলাতেও কোনো প্রতিকার পাননি রাসেদা ও জুয়েল।

এই ঘটনার পরে ২০১৭ সালে ২২ আগস্ট জুয়েল চলে আসেন ঢাকার উচ্চ আদালতে। সেখানে তিনি জাতীয় আইন সহায়তা প্রদান সংস্থা লিগ্যাল এইড অফিসে এসে মামলাটি পুনরায় ফাইল করার জন্য একটি আবেদন করেন।

সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জুয়েলের মামলাটির দায়িত্ব দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাসকে। তিনিই বর্তমানে এই মামলাটি পরিচালনা করছেন। আর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে গ্রাম থেকে ব্যাগ, বস্তা নিয়ে প্রায়ই আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হন জুয়েল।

রাসেদার নামে উল্টো মামলা করেছিলেন সেই রফিকুল

রাসেদার দায়ের করা মামলা চলাকালে রফিকুল ইসলামও ২০০৮ সালে রাজশাহীর আদালতে রাসেদার নামে একটি মানহানির মামলা করেছিলেন। সেই মামলাতে সঠিকভাবে হাজিরা দিতে না পারায় রাসেদার নামে ২০১২ সালে আদালত থেকে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। অবশেষে ২০১২ সালের ১৪ জুলাই রফিকুলের দায়ের করা সেই মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়া হয় রাসেদাকে। আর ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর আদালত এক আদেশে পুঠিয়া থানাকে সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দেয়।

যা বললেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার সাক্ষী

রাসেদার করা সেই মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন শফিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। মূলত জুয়েলকে গর্ভে থাকা অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে নষ্ট (অ্যাবোরশন) করার চেষ্টাকালে তিনিই এই কাজে প্রথম বাধা দিয়েছিলেন। ঘটনার পরে তিনি গ্রাম্য সালিশি এবং আদালতে মামলা হবার পরে আদালতেও সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে শফিঊল ইসলাম স্থানীয় ধোপ্পাপাড়া মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন।

রাজশাহীতে রাসেদা বেগমের মামলার কপি। ছবি: প্রিয়.কম
রাজশাহীতে রাসেদা বেগমের মামলার কপি। ছবি: প্রিয়.কম

ঘটনা সম্পর্কে জানাতে চাইলে শফিউল ইসলাম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘১৯৯২-৯৩ সালের দিকে আমি একটি ওষুধ কোম্পানিতে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কাজ করতাম। আর আমার স্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সের চাকরি করতেন। জুয়েলের মা রাসেদা আমার একই গ্রামের মেয়ে। ঘটনার দিনে আমি হাসপাতালের স্টাফ কোয়াটারে ছিলাম। দুপুরের দিকে আমি হাসপাতালের গেটে সেই রফিকুল ইসলামের দুলাভাই নুরুল ইসলাম ও এক ব্যক্তিসহ রাসেদাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। ওই সময় রফিকুলও আশেপাশেই ছিলেন। আমি জানতে চাই কী কারণে তারা হাসপাতালে এসেছেন। এরপর রফিকুলের সেই দুলাভাই বলেন যে, তারা রাসেদার গর্ভের সন্তানটা নষ্ট করতে এসেছেন। আমি তখন এই অমানবিক কাজটি করতে নিষেধ করি। তাদের কৌশলে বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাই। সেই ঘটনার পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান এলাকায় বড় একটি শালিস ডাকেন। সেই শালিসে আমিসহ অন্যদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে ঘটনা প্রমাণিত হয়। কিন্তু রফিকুল রাসেদার গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করে সেখানে বিবাদের সৃষ্টি করেন। পরে শালিস বৈঠক ভেঙে যায়।’

‘এরপর রাসেদা আদালতে একটি মামলা করেন। আর সেই মামলাতেও আমি আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলাম। আদলতেও আমি ঘটনার একই রকমের বর্ণনা দিয়েছিলাম’, যোগ করেন শফিউল ইসলাম।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে যা বলেছিলেন সেই চেয়ারম্যান

রাসেদা আদালতে মামলা করার পরে স্থানীয় আব্দুল মান্নান চেয়ারম্যানও সেই মামলার অন্যতম একজন সাক্ষী ছিলেন। তিনিই প্রথমে এই ঘটনার বিচার করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।

ওই মামলার সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আব্দুল মান্নান আদালতে বলেছিলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে ১৯৯৩ সালে আমার কাছে রাসেদা একটি অভিযোগ করেন যে, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি ১৯৯৩ সালে ২৯ জুলাই স্কুল মাঠে একটি সালিশি বৈঠকের আহ্বান করি। সেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ উপস্থিত ছিল। সালিশি চলাকালে আমি উভয় পক্ষের সাক্ষ্য নেওয়া শুরু করেছিলাম। তবে সেখানে গোলযোগের সৃষ্টি হবার কারণে আমি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হয়ে। অভিযোগকারীকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেই।’

সন্তানের জন্য বিদেশের জেলাখানায় বন্দী ছিলেন রাসেদা

একদিকে সন্তানের বৈধতা প্রমাণের লড়াই, অন্যদিকে সেই সন্তানের ভরণ-পোষণের খরচে যোগাতে অন্যের বাসায় কাজ করতে থাকেন রাসেদা। কিন্তু ছেলে যত বড় হতে থাকে, তার খরচ তত বাড়তে থাকে, তাই বাধ্য় হয়ে ২০১৫ সালে গৃহকর্মীর কাজ করতে দুবাই যান রাসেদা। কিন্তু সেখানেও ভাগ্য তাকে প্রতারিত করেছে। দালালের মাধ্যমে দুবাই গিয়ে আকামা করতে না পারায় তাকে দুবাই পুলিশের হাতে আটক হতে হয়। এরপর দুবাইয়ের জেলে আড়াই বছর কাটানোর পর দেশে ফিরে আবারও গৃহকর্মীর কাজ করেই জীবন চালাচ্ছেন রাসেদা। শুধু গৃহকর্মীর কাজ করেই সংসার চলে না রাসেদার। এ জন্য এলাকার মানুষের কাছে থেকে ফিতরা ও সাহায্যের টাকা তুলে জীবনযাপন করছেন তিনি।

‘অবৈধ সন্তান’ কলঙ্ক নিয়ে এইচএসসি পাস করেছে জুয়েল

গ্রামের মানুষ ছোটবেলা থেকে জুয়েলকে দেখলেই বলত, জারজ সন্তান, বেজন্মা, জন্মের ঠিক নাই। নানা রকমের কটূক্তি শুনেও মায়ের কষ্টের উপার্জনের টাকায় পড়াশোনা চালিয়েছেন জুয়েল। ২০১৪ সালে স্থানীয় লোকনাথ হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করেছেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে ধোপ্পাপাড়া মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন জুয়েল। তবে অভাবের সংসারের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। একদিকে মায়ের সাথে মামলা জন্য গ্রাম থেকে ঢাকা, আর ঢাকা থেকে গ্রামে দৌড়াঝাঁপ, তার ওপরে জীবন বাঁচানোর তাগিদ। সব মিলিয়ে আর লেখাপড়া চালাতে পারছেন না জুয়েল। তাই খরচ যোগাতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেছেন তিনি।

‘বৈধ সন্তানের’ স্বীকৃতি না পেলেও কাগজপত্রে রফিকুলই বাবা

জুয়েলকে সন্তান হিসেবে এখনো স্বীকৃত না দিলেও বাবার নাম হিসেবে রফিকুল ইসলামের নামই লেখা আছে জুয়েলের সব কাগজপত্রে। ২০০৭ সালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে দেওয়া জন্ম সনদেও জুয়েলেয়ের বাবার নামের স্থানে লেখা আছে রফিকুল ইসলাম। জুয়েলের জাতীয় পরিচয়পত্র, তার এসএসসি ও এইচ এসসি পাসের সকল সার্টিফিকেটেও জুয়েলের বাবার নাম লেখা আছে মো. রফিকুল ইসলাম।

জুয়েলে এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেটে বাবা হিসেবে রফিকুলের নাম রয়েছে। ছবি: প্রিয়.কম
জুয়েলে এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেটে বাবা হিসেবে রফিকুলের নাম রয়েছে। ছবি: প্রিয়.কম

এই বিষয়ে জুয়েল প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমার বাবার নাম এলাকার মানুষ স্কুলে গিয়ে বলে কয়ে রফিকুল ইসলাম করে দিয়েছে। কারণ এলাকার সবাই জানে আমি তারই সন্তান।’

ডিএনএ টেস্টের দাবি জানিয়ে যা বললেন জুয়েল

আদালতের মাধ্যমে নিজের আর রফিকুল ইসলামের ডিএনএ টেস্টের দাবি জানিয়ে জুয়েল প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমার বাবার বাড়ি, আমার মায়ের বাড়ি একই গ্রামে। পাশাপাশি হওয়ায় আমার মা আমার বাপের বাড়িতে গিয়ে রান্নাবান্নার কাজ করতেন। আমার মায়ের মুখ থেকে আমি জানতে পারি, আমার মাকে সে (রফিকুল ইসলাম) শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে করেছে। এরপর আমি পেটে আসি। কিন্তু আমার বাবা অস্বীকার করে যে, আমি তার ছেলে না। তখন আমি পেটে ছিলাম। তখন আব্দুল মান্নান চেয়ারমানের কাছে যান বিচার চাইতে। সেখানে গ্যাঞ্জাম হবার কারণে আমার মা আদালতে যান। আমার মা আর আমি ২০০৮ সালে আদালতে আবারও মামলা করি। সেই মামলায় আমরা হেরে যাই। রায়ে বলা হয়, যেহেতু এক নম্বর বাদী বিয়ে প্রমাণ করতে পারে নাই, সেহেতু দুই নম্বর বাদী ঔরসজাত সন্তান হওয়া সত্ত্বেও বৈধ সন্তান নয়। আদালত কিন্তু আমাদের কোনো ডিএনএ টেস্ট করায় নাই।’

জুয়েলের জাতীয় পরিচয়পত্র। ছবি: প্রিয়.কম
জুয়েলের জাতীয় পরিচয়পত্র। ছবি: প্রিয়.কম

জুয়েল আরও বলেন, ‘আমি চাই উচ্চ আদালতে আমার, আর আমার বাবার ডিএনএ টেস্ট করানো হোক। তাহলেই বোঝা যাবে, আমি তার সন্তান কি না? কোনো মানুষ কি অবৈধ সন্তান হতে পারে! বলুন।’ এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানান জুয়েল।

‘বাবা ডাকতেই চড়’

জুয়েল তার বাবা দাবিকারী রফিকুল ইসলাম সম্পর্কে বলেন, ‘আমার আর আমার বাবার চেহারা একই রকম। যেই দেখে সেই বলে। আমি ৯ বছর বয়সে একদিন পুঁঠিয়া থানায় গিয়েছিলাম। তখন ওই থানার ওসি আমার বাবা এবং মাকে থানায় ডেকেছিলেন। সেই দিনের কথা আমার সব সময় মনে পড়ে। কারণ ওই দিন আমি থানার ভেতরে জীবনে একবার আমার বাবাকে বাবা বলে ডেকেছিলাম। বিনিময়ে বাবার কাছ থেকে একটা চড় খাই। আমাকে চড় মেরে আমার বাবা বলেছিলেন, তুই আমাকে বাবা বললি কেন?’

‘এই কথা শুনে থানার ওসি বাবাকে একটা জোড়ে চড় মেরে বলেছিলেন, ওই এই ছেলে একদম দেখতে তোর মতো চেহারা। আর তুই এত কিছু করছিস, তাও এটা স্বীকার করছিস না কেন’, বলেন জুয়েল।

‘বাবার স্বীকৃতি না দিলেও, দাদা আদর পেত জুয়েল’   

রফিকুল ইসলাম জুয়েলকে মেনে না নিলেও তার বাবা অর্থাৎ জুয়েলের দাদা জুয়েলকে অনেক বেশি ভালোবাসতেন বলে জানান জুয়েল।

জুয়েল বলেন, ‘আমার দাদার কথা আমি কোনো দিন ভুলব না। দাদা যতদিন বেঁচেছিলেন, আমাকে চুরি করে খাবার কিনে দিতেন। জামা-কাপড় কিনে দিতেন। এজন্য আমার বাবা রফিকুল ও আমার চাচারা আমার দাদাকে একবার মারধর করেছিল।’

‘তবে দাদা আমাকে ওই বাড়িতে কোনো দিন নিয়ে যেতে পারেননি। আমার দাদা বাবাকে বলত- জুয়েল তো তোরই ছেলে, ছেলেটাকে এত কষ্ট দিস না।’

জুয়েলের দাদা যে তাকে ভালোবাসত, এলাকাবাসী ও জুয়েলের মা রাসেদাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে জুয়েলের দাদা বছর দশেক আগে মারা যাবার পরে সেই আদর থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন জুয়েল।

যা বললেন জুয়েলের মা

মা-ছেলের সংগ্রামে বিষয়ে জানতে চাইলে জুয়েলের মা প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমি সারাটা জীবন আমার এই ছেলেটাকে নিয়েই পার করে দিলাম। আর ওর বাবা রফিকুল সে বিয়ে করেছে, সুখে আছে। আমার টাকা-পয়সার দরকার নাই। আমি চাই, আমার ছেলে আর আমার স্বীকৃতি। এজন্য আমি আজ ২৫ বছর ধরে জীবনের সাথে, সমাজের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছি। অনেক বার ভেবেছি, গলায় ফাঁসি দিয়ে মরে যাই। পরে ভাবি আমি না থাকলে জুয়েলকে জারজ সন্তান বলে লোকজন আরও বেশি যন্ত্রণা দিবে।’ জীবদ্দশায় এই ঘটনার শেষ দেখতে চান তিনি।

জুয়েলের মা আরও বলেন, ‘আমার সন্তান বৈধ কি না, সেটা আল্লাহ জানে। তাই আল্লাহ একদিন আমাদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দেবেন। সেজন্যই এখনো ন্যায়বিচারের আশায় মা-ছেলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছি।’

সেই রফিকুল এখন সরকারি চিকিৎসক

রাসেদার স্বামী ও জুয়েলের বাবা দাবি করা সেই রফিকুল ইসলাম এখন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। সেখানেই তিনি তার অন্য স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন।

সুপ্রিম কোর্টে জুয়েলের আবেদন। ছবি: প্রিয়.কম
সুপ্রিম কোর্টে জুয়েলের আবেদন। ছবি: প্রিয়.কম

সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে পর পর দুই দিন রফিকুলের মুঠোফোনো একাধিক বার ফোন করা হলেও কল রিসিভ হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, লিগ্যাল এইড সুপ্রিম কোর্ট শাখার কো-অর্ডিনেটর রিপন পল স্কু প্রিয়.কমকে বলেন, ‘মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির জন্য আবেদন করেছি। অল্প সময়ের মধ্যে আদালতের কার্যতালিকায় আসবে শুনানির জন্য। প্রথমে তামাদি মওকুফের আবেদন গ্রহণ করা হলে পরে আপিল শুনানি হবে। এ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে আমরা ভুক্তভোগীকে সার্বিক সহযোগিতা করছি।’

আপনার মন্তব্য লিখুন