বাঁশখালীতে আলোচনায় মাহমুদুল-জহির

Presentation1-63.jpg
বিশেষ প্রতিনিধি: এবারের নির্বাচনে বাঁশখালীতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মহাজোটের প্রার্থী, আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান (নৌকা), ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী, বিএনপির সাবেক সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির প্রার্থী, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী (লাঙ্গল) ও জামায়াতের প্রার্থী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা জহিরুল ইসলামের (আপেল) মধ্যে।

গত মেয়াদে সরকারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে ভালো অবস্থানে আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। সাংগঠনিকভাবেও আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ। তবে অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুল্লাহ কবির লিটন ও মুজিবুর রহমান এবং তাঁদের অনুসারীদের অবস্থান কী হয়, তা আসন্ন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে মহাজোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রার্থীও মাঠে থাকায় জয় নিয়ে ফিরতে মোস্তাফিজুরকে বড় ধরনের পরীক্ষার সামনেই পড়তে হবে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীকেও নির্বাচনের সমিকরণ থেকে বাদ দেওয়ার উপায় নেই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক এই মেয়রের বাবা ছিলেন চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় গুণী ব্যক্তিত্ব খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী। পারিবারিক পরিচিতও তাই তাঁর ভোট ব্যাংকে বড় ব্যবধান গড়ে দেবে। তাছাড়া অতীত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক-সেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে।

বিএনপি প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে এলাকায় অভিযোগের শেষ নেই। এলাকার লোকজন তাঁর দেখা খুব কমই পান, আবার শহরে তাঁর খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে গিয়ে খালি হাতে ফেরার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অনেক ভোটার। একই অভিযোগ মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত এলাকার বিএনপি নেতা-কর্মীদেরও। জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতের অভিযোগের পাল্লাতো আরো ভারি। সবমিলিয়ে তাঁর দুয়ারে যাওয়া একটি বড় অংশের অনুসারীদের খালি হাতে ফেরানোর অভিযোগ মাথায় নিয়ে জাফরুল ইসলাম নির্বাচনে কত ভোট সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মাঝে।

বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বাঁশখালীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা জহিরুল ইসলাম। কর্মী-সমর্থকদের দিক থেকে বাঁশখালী আসনটি জামায়াতের সবচেয়ে বড় ঘাঁটির একটি। স্বতন্ত্র এই প্রার্থীর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, তাঁর দলের ভোটারদের পাশাপাশি বিএনপির একটি বড় ভোট ব্যাংকের তাঁর পক্ষে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া বাঁশখালীর অন্যতম সম্মানিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মাওলানা ইসহাক হুজুরের ছেলে হিসেবেও ভোটারদের বড় সমর্থন তাঁর প্রতি থাকবে। গত উপজেলা নির্বাচনেই তার ভালো প্রমাণ মিলেছে। জহিরুল ইসলাম যেখানে প্রায় ৬৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন, সেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী খোরশেদ আলম পেয়েছিলেন প্রায় ৫২ হাজার ভোট। অন্যদিকে জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ঘনিষ্ট অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিএনপি প্রার্থী আলমগীর কবির চৌধুরী হারেন অনেক বড় ভোটের ব্যবধানে।

সবমিলিয়ে এবারের নির্বাচনে বাঁশখালীতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান ও জামায়াতের জহিরুল ইসলামের মধ্যে। তবে শেষ মুহূর্তে চমক হয়ে আসতে পারেন জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

আপনার মন্তব্য লিখুন