পুরোদমে জমে উঠেছে কক্সবাজারের মুদ্রণ ব্যবসা

Cox-12-December-Pic_1-9.jpg

বলরাম দাশ অনুপম

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রত্যাশিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে যেমনি ভাবে স্ব স্ব দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ভোটের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে ঠিক তেমনি ভাবে ব্যস্ততা বেড়েছে কক্সবাজারের ছাপাখানার দোকানগুলোতে। প্রত্যেক দল ও স্বতন্ত্রী প্রার্থীরা স্ব স্ব প্রতীক নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচার প্রচারণায়। আর প্রচার-প্রচারণার অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে পোস্টার, লিপলেট ব্যানার, ফেস্টুন। তাই নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী ও তাদের শুভাকাঙ্খীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা সবাই এখন প্রেসপাড়ামুখী। তাই নির্বাচনের এই মৌসুমে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রেস শিল্পখাত। প্রতীক বরাদ্দের সাথে সাথে মুদ্রণ (প্রেস) ব্যবসা পুরোদমে জমে উঠেছে বলে জানিয়েছেন এই ব্যবসার সাথে জড়িতরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের বদরমোকাম এলাকা, থানা রোড, থানার পেছন রোড, ভোলা বাবুর পেট্টল পাম্প এলাকা, হাসপাতাল সড়কসহ শহরের বিভিন্ন প্রেসের দোকানে গিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের ভীড় দেখা গেছে। বছরের অন্যসময় কর্মকান্ড স্বাভাবিক নিয়মে চললেও নির্বাচনী মৌসুমে মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের কাছে যেন ঈদবাজার। এসময় তারা অন্য কাজ ফেলে নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী তৈরিতেই নির্ঘুম সময় পার করেন। ডিজাইনার, প্রিন্টার, প্লেইট এক্সপোজার মেকার, কাটিং, কাগজ বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল কেবলমাত্র মহাজোটের অংশগ্রহণে। নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনে সেবার বিএনপিসহ শরিক দলগুলো অংশ নেয়নি। তাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণায় তেমন ঝোঁক ছিল না। এবার যেহেতু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট, বিএনপি-গণফোরাম নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তাই মুদ্রণ ব্যবসায়ীরাও প্রত্যাশিত আয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টির ব্যাপারে আশাবাদী। নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ করতে হবে সমস্ত অর্ডার। তাই অনেক প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা নিয়োগ করছেন খন্ডকালীন কর্মীও। কক্সবাজার শহরের থানার পিছন রোডের ফিউচার অফসেট প্রিন্টার্সের স্বত্ত্বাধিকারী প্রদীপ দাশ বলেন-নির্বাচন উপলক্ষে কাজের চাপ বেড়েছে। তাই খন্ডকালীন কর্মীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ব্যবসা আশানুরূপের ভাল হবে বলেও তিনি জানান। অন্যদিকে একই এলাকার কোয়ালিটি প্রিন্টার্সের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ শফিউল কাদের জানান, এরই মধ্যে তিনি সদর-রামু আসনের মহাজোট প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল এবং কমলের একাধিক সমর্থকের ব্যানারের অর্ডার নিয়েছেন। পাশাপাশি মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে গণফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ড. আনছারুল করিমের ব্যানারের অর্ডারও নিয়েছেন বলে জানান। শুধু এতেই শেষ নয় মুদ্রণ শিল্পের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কাগজ ব্যবসা। নির্বাচনকে সামনে রেখে কাগজ ব্যবসায়ীরাও লাভের আশায় থাকেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন