পায়ের ধুলা নেওয়ার কালচার চিরতরে কবর দেওয়া হবে : ড. কামাল

IMG_20180927_004443.jpg

নয়াদিগন্ত

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহবায়ক গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, যারা মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছিল তারা কী ধরণের বাংলাদেশ চেয়েছিলেন- সবাইকে জানতে হবে। তাদের স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশ হোক। সুষ্ঠু-অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হবে । তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বুধবার নির্বাচনকালীন দলভিত্তিক সরকারের অপরিহার্যতা শীর্ষক আলোচনায় তিনি একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

আলোচনা সভায় ড. কামাল আরো বলেন, আজ যারা ঐক্য চায় না, অনৈক্য চায়, তারা সংঘবদ্ধ। জনগণের বৃহত্তর ঐক্য হলে পায়ের ধুলা নেওয়া, কালো টাকার প্রভাব চিরতরে শেষ হবে। দেশে জবাবদিহিতার সরকার গঠন হবে। তবে দেশকে রক্ষায় দেশের সব মানুষকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।তিনি তার বক্তব্যে জানান নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আপাদের (রাজনীতিবিদদের) পায়ের ধুলা নেওয়ার কালচার চিরতরে কবর দেওয়া হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য টাকা লেনদেনের সংস্কৃতি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ড. কামাল বলেন, যাদের কালো টাকা আছে, তারাই এখন দেশের মালিক। তবে উনারা বলে থাকেন সৃষ্টিকর্তা নাকি ওনাদের রাষ্ট্র পরিচালনার লাইসেন্স দিয়েছে। আসলে তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি করছেন, আর দায়ী করছেন সৃষ্টিকর্তাকে। তারা গণতন্ত্রের নামে রাষ্ট্রের ১২টা বাজিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্যরা অন্ধ ও বোবা। তারা দেশের সমস্যার কথা বলছেন না। তাদের বেতন-ভাতা তো ঠিক আছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, কথা বলবে কেন? সরকার বলছে, এ দেশ সত্যিকারের উন্নয়নশীল হয়েছে। উন্নয়নশীল হলে তো বস্তিবাসীর জন্য আবাসন দেখছি না, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি দেখছি না। বাবা যেমন যেমন ছেলে-মেয়ের জন্য বাড়ি-সম্পদ রেখে যায়, বাড়ির মালিকের দলিল থাকে, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু একটি সংবিধান দিয়ে গেছেন। এর ৭ অনুচ্ছেদে লেখা আছে, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। সেই মালিক জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের দলিল ছিনিয়ে নিয়েছে। জনগণ কথা বলতে পারছে না। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হচ্ছে না।

আলোচনা সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘দেশের মালিক জনগণ। কিন্তু দলিল জনগণের হাতে নেই। দেশের দলিল একটি দলের কাছে, একটি ব্যক্তির কাছে জিম্মি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে কথা বলে একরকম, ক্ষমতায় না থাকলে কথা বলে অন্যরকম। তারা দুই রূপ ধারণ করে। তিনি আরও বলেন, আজ মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা নেই। রাষ্ট্র পরিচালনার গুণগত কোনো পরিবর্তন নেই। আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্বের সরকার গঠন করে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন করা হবে।

অপরদিকে গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন,সরকার উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্ধীদের জামিনে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আহবান জানান। তিনি অভিযোগ করেন এসরকার যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাতে শুধু স্বৈরাচার নয় ফ্যাসিস্ট শাসনের দিকেই যাচ্ছে বলে মনে হয। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যার সুষ্ঠু পরিকল্পনা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনে আগে ডাকসু’র নির্বাচন দিতে হবে। এতে প্রমানীত হবে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন তার বক্তব্যে জানান খুব শিগগিরই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের মহাসমাবেশ ডাকা হবে। দুর্নীতিবাজ এই সরকারের কাছ থেকে শেয়ারবাজার, ব্যাংকের টাকা লুটপাটের হিসাব নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শেয়ার বাজার, লুটপাটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের কেউ নেই।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, স্বাধীন দেশের জনগণের ভোট চুরি করে তারা ক্ষমতায় রয়েছে। জনগণের টাকা চুরি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে। চোর আবার বড় কথা বলে! আজ ৪৭ বছর পর আমাদের ভোটের জন্য কথা বলতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে সরকার জনগণের ভোট চুরি করে। এত বড় দুঃসাহস! মানুষকে রেসপেক্ট পর্যন্ত করতে জানে না।তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধেরন স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে বলেই কষ্ট হয় রাগে ক্ষোভ দেখা দেয়।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে হবে। মাসল দেখাতে আমরা আসিনি, কেউ যেন না আসে। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে কেয়ারটেকার সরকার মেনেছে, এখন তারা মানে না। দেশটা কি মগের মুল্লুক পেয়েছে তারা? ভোট চোরদের অধীনে আগামী নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডাকসু’র সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, আর ভোট চুরির সরকার দেশ শাসন করতে দেয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধেও স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া হবে।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, জনগণকে বারবার ধোকা দেযা যাবে না। তারা এবার ভোটচোরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ বলেন, জনগণ চায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। আর দেশের উন্নয়ন ও শান্তির জন্য প্রয়োজন এখন একটি গনতান্ত্রিক সরকার। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন,গণফোরাম নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক । জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন আলোচনা সভাটি সঞ্চলনা করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন