‘নির্বাচন কমিশন নখদন্তহীন বাঘ নয়, বিড়ালে পরিণত হবে’

Presentation2-7.jpg

ফাইল ছবি

দিসিএম ডেস্ক।।

প্রস্তাবিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধনী (আরপিও) এবং স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা আইনের বিরোধিতা করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সেই সঙ্গে আরপিওকে একটি ঐতিহাসিক আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনন্য স্মারক উল্লেখ করে এর সংশোধনীতে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি এবং এর প্রতিবাদও করেন। এতে নির্বাচন কমিশন নখদন্তহীন বাঘ নয়, বিড়ালে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) ইসির কমিশন বৈঠকে আইন দুটির বিরোধিতা করে তিনি নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগেও তিনি একাধিকবার নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে আলোচনায় আসেন।

নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, “আমি সবিস্ময়ে লক্ষ্য করেছি, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ইতোপূর্বে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’ রহিত করে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ২০২০ বিল’র খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতে, এই প্রস্তাবে ১১টি মৌলিক ও পদ্ধতিগত বিধান বাদ দিয়ে খসড়াটি উক্ত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এতে সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, আরপিও বা ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’র ৯১-ই ধারায় কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সরাসরি ক্ষমতা, যা নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত ছিল, তার বিলোপ সাধন। এ ধারাটি সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।”

পূর্ববর্তী কমিশনও ধরনের উদ্যোগ নিলেও সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, রকিবউদ্দীন কমিশন এটি বাতিলের উদ্যোগ নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে এবং পরে ওই উদ্যোগ থেকে সরে আসে। প্রার্থিতা সরাসরি বাতিলের একক ক্ষমতা থেকে সরে আসা নির্বাচন কমিশনের একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করি। এতে নির্বাচন কমিশন নখদন্তহীন বাঘ নয়, বিড়ালে পরিণত হবে।

আমি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি। আমার মতে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা এককভাবে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা আবশ্যক। ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ রহিতপূর্বক সংশোধনসহ ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ২০২০’ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমি এ উদ্যোগের সম্পূর্ণ বিরোধী। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের তৃতীয় অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’ প্রণয়ন ও জারি করেন। এটি একটি ঐতিহাসিক আইনগত দলিল, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনন্য স্মারক। কী কারণে বা কোনো যুক্তিতে এই পরিবর্তন প্রয়ােজন, তা আমার বােধগম্য নয়।

সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনায় এ প্রসঙ্গে এই কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা আইনের সংস্কারের যে প্রস্তাব করেছে, আমি তার সঙ্গেও একমত নই। কেবল নির্বাচন পরিচালনার জন্য ভিন্ন আইন হতে পারে না, তা সার্বজনীন হতে হবে।

এতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কাঠামো, মেয়াদকাল ইত্যাদি পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের কর্তব্য নয়। বিশেষত স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদ ও পদবি পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয়। এই সংস্কার কার্যক্রম নিতান্তই স্থানীয় সরকারের বিষয়।

বর্ণিত অবস্থায় আমি উল্লিখিত তিনটি বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন