নারী ও শিশু নির্যাতন ঠেকাতে তারেকের নির্দেশে বিএনপির নতুন সংগঠন

bnp-20190823155008.jpg

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতা নিপুণ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে ৬৬ সদস্যের গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটি ঘোষণা করতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, লোমহর্ষক নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলেও অনেক ঘটনা আড়ালে চলে যায়। এখন থেকে যাতে এসব ঘটনা আড়াল হতে না পারে, সেই কাজ করবে জাতীয় নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম।

এই কাজে মিডিয়ার সহায়তা চেয়ে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, নির্যাতনের শিকার নারীদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তাও দেবে এই ফোরাম। ফেনীর নুসরাত হত্যাকাণ্ড মিডিয়ায় আসার কারণেই জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বাধ্য হয়েছে।

নিপুণ রায় চৌধুরী জানান, ঘোষিত কমিটিতে চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, ব্যবসায়ী নানা শ্রেণি–পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এভাবেই সারা দেশে কমিটি করে ফোরামের কার্যক্রম করা। এই ফোরামের ৫ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সদস্য হলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কবির রিজভী।

ফোরামের আহ্বায়ক সেলিমা রহমান বলেন, ‘অনাচারমূলক দুঃশাসনে জবাবদিহির অভাবের কারণেই নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলেই নারী ও শিশু নির্যাতন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। কারণ, অধিকাংশ নির্যাতনকারী সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই কারণে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার পরেও তাদের কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করতে পারছে না।’

সেলিমা রহমান বলেন, প্রিয় বাংলাদেশ আজ পরিণত হয়েছে ধর্ষণের লীলাভূমিতে। বখাটে প্রেমিক, পাড়ার মাস্তান, কর্মকর্তা, বাস কন্ডাক্টর, শিক্ষক, মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ কিছু বিকৃত মানুষের লালসার শিকার নারী ও শিশুরা। ৯ মাস বয়স থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা—ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কেউ বাদ যাচ্ছে না। এমনকি রেহাই পাচ্ছে না বাক্প্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও।’

গত ছয় মাসেই ৪৯৬টি কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে, এদের মধ্যে নির্যাতনের পর ২৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে সেলিমা রহমান বলেন, সুবর্ণচরের পারুল, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি, খুলনায় পুলিশ কাস্টডিতে রাতভর নারীর ওপর গণধর্ষণ চালানোর পর মিথ্যা ও সাজানো মাদক মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেয়া, সিরাজগঞ্জের মেয়ে কলেজছাত্রী রূপাকে টাঙ্গাইলের কাছে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যা, কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রিশাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, ইবনে সিনা হাসপাতালের নার্স তানিয়াকে বাড়ি যাওয়ার পথে কিশোরগঞ্জের বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এভাবে বর্তমান সরকারের আমলে জিম-মিম-তনু-মিতু-খাদিজাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন