নন্দিতা দাসের বাবা যৌন হেনস্তাকারী!

Screenshot_2018-10-21-13-12-02-796_com.android.chrome.jpg
নন্দিতা দাস ও যতীন দাস

দিসিএম ডেস্ক

‘#মি টু’ ঝড় এখন বিটাউনের সীমানা ছাড়িয়ে ধীরে ধীরে সর্বত্র আছড়ে পড়ছে। এমনকি সমাজের গুণী ব্যক্তিরাও এর থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। এবার এই ঝড়ের কবলে পড়েছেন প্রখ্যাত চিত্রকর যতীন দাস। তিনি চলচ্চিত্রের দাপুটে পরিচালক ও অভিনেত্রী নন্দিতা দাসের বাবা। ‘#মি টু’ অভিযান শুরু হওয়ার পর হিন্দি চলচ্চিত্র দুনিয়ার কিছু নারী সদর্পে জানিয়েছিলেন, যৌন হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁরা আর কাজ করবেন না। এই তালিকায় আছেন কঙ্কণা সেন শর্মা, রীমা কাগতী, মেঘনা গুলজার, গৌরী সিন্ধে, কিরণ রাও, জোয়া আখতার ও নন্দিতা দাস। এবার সেই নন্দিতা দাসের বাবা যতীন দাসের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। নিশা বোরা নামের এক নারী খ্যাতনামা এই চিত্রকরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। নিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।

নিশা বোরা জানিয়েছেন, যতীন দাস তাঁকে জোর করে চুম্বনের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘যতীন দাসের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ২০০৪ সালে দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের এক নৈশভোজের অনুষ্ঠানে। এই আয়োজন আমার শ্বশুর করেছিলেন। আমার পুরো পরিবারের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিই। আমার বয়স তখন ২৪ বছর। আর মাত্র কিছুদিন আগেই আমার বিয়ে হয়। কথায় কথায় যতীন দাস আমাকে তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। তাঁর মতো চিত্রকরের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের ছিল। আমি পরিবারের সবাইকে বিষয়টা জানাই।’

যতীন দাসযতীন দাস

নিশা আরও লিখেছেন, ‘প্রথম দিন যতীন দাস আমাকে তাঁর বাড়িতে ডেকেছিলেন। তাঁর ওয়ার্ক রুমে বসে আমি কাজ করি। তিনি আমাকে জানান, তাঁর প্রোজেক্ট ‘পংখা’কে তিনি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। ওডিশায় তিনি নিজের স্কুল খুলতে চান। পরদিন তিনি আমাকে আবার আসতে বলেন। সেদিন নিজের বাড়িতে না ডেকে স্টুডিওতে ডেকে পাঠান। তাঁর স্টুডিও যেন সৃষ্টির অফুরন্ত ভান্ডার। আমি তাঁকে কাজে সহযোগিতা করছিলাম, তিনি নিজের জন্য একটি গ্লাসে মদ ঢালেন। আমাকেও তিনি মদ্যপান করার প্রস্তাব দেন। আমি তাঁর প্রস্তাব নাকচ করি। এরপর তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরতে আসেন। আমি তাঁর থেকে দূরে সরে যাই। আবার তিনি আমাকে এসে জড়িয়ে ধরেন। আর আমাকে জোর করে চুম্বনের চেষ্টা করেন। আমি তখন তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিই। তখন তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আরে দাঁড়াও, তোমার ভালোই লাগবে।” আমি আমার ব্যাগ নিয়ে সেখান থেকে ছুটে বেরিয়ে আসি।’

নিশা লিখেছেন, ‘পরে তাঁর মেয়ে নন্দিতা দাস আমাকে ফোন করে বলেন, বাবার কাছ থেকে তিনি আমার ফোন নম্বর পেয়েছেন। নন্দিতা বলেন, আমার মতো কোনো সহযোগীর নম্বর আমি তাঁকে দিতে পারব কি না।’

তবে নিশা জানিয়েছেন, নন্দিতার কাছ থকে ফোনটা আসার পর তিনি ভীষণ অবাক হন। কিন্তু নিশা মাত্র বিয়ে করেছেন, তাই তখন বিষয়টা নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি করেননি। নিশা চাননি তাঁর জন্য পরিবার কোনো ঝামেলায় জড়াক। আজ অনেক নারীর আওয়াজ শুনে তিনিও সাহস পেয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন