দীর্ঘ যানজট থেকে স্বস্থিতে ছিল পৌরশহর টমটমের অনুপস্থিতিতে রিক্সা-সিএনজি ছিল বিকল্প

received_2247049938647960.jpeg

জাহাঙ্গীর আলম শামস্ :
টমটমের শহর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কক্সবাজার শহর গতকাল সকাল থেকে ১২ পর্যন্ত ছিল টমটম শূণ্য। ভাবা যায়? হ্যাঁ, তেমনটাই হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাস্তায় ছিল না একটি টমটমও। কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কসহ অলিগলি ছিল টমটমহীন রিক্সা আর সিএনজির দখলে। টমটমের কারণে সৃষ্ট যানজটের এই শহরে ফাঁকা রাস্তায় সাধারণ মানুষ হেঁটেই রাস্তায় চলেছে। তাতে কিছুটা স্বস্থি ফিরে পেয়েছিল কর্মমুখী মানুষ ও স্কুলগামি শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিন হঠৎ টমটম উদাও হওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েছিল এই ফাঁকা শহরে পথচারীরা। তবে কক্সবাজার শহরে টমটম চালকদের কর্মবিরতির সুযোগে রিক্সা-সিএনজির রাজত্ব বেড়েছিল। শহরে রাস্তায় সিটি সার্ভিস চলে আসায় ফাঁকা রাস্তায় যাত্রা পথে নতুন মাত্রাযুক্ত হয়। বিশেষ করে সকাল ৯ টা থেকে এ অবস্থার প্রকট আকার ধারণ করেছে। শহরের অন্যতম অভ্যন্তরিন পরিবহন টমটম চলাচল না করার সুযোগ লুফে নিচ্ছে সিএনজি, মাহিন্দ্রা চালকেরা। নিয়মিত ভাড়ার তারা সেবা দিয়েছে পর্যটকসহ স্থানীয়দের। কিছুটা ভাড়া বেশি আদায় করতে দেখা যায় রিক্সা চালকদের। কক্সবাজার সিটি কলেজের ছাত্রী নাসরিন জাহান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজে যাওয়ার জন্য বের হলে রাস্তায় টমটম না দেখে কিছুটা সমস্যায় পড়লেও মাহিন্দ্রা নিয়ে টামটমের ভাড়ায় কলেজে পৌছে যায়। শহরের পৌরসভা চত্বর থেকে কলাতলি যাওয়া আবুল কালাম বলেন,টমটম নিয়েও ১০ টাকায় যেতাম এখন মাহিন্দ্রা নিয়ে একই ভাড়া দিয়ে যাচ্ছি। তবে রিক্সায় একটু ভাড়া বেশি আদায় করছে।
মামুন নামের আরেক যাত্রী বলেন,আমি দুুপরে সমিতি পাড়া থেকে ১০ টাকা দিয়ে লালদীঘিপাড় পর্যন্ত এসেছি, টমটম চললেও যা না চললে তাই হবে। এদিকে, এদিকে ট্রফিক পুলিশের হয়রানী বন্ধ, পৌরসভার টমটম শ্রমিকদের স্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৩ দফা দাবীতে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ করেছে কথিত একটি সংগঠন। মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারী) বেলা ১২ টায় শহরের প্রধান বিক্ষোভ মিছিল করে। এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই শহরে টমটম চলাচল বন্ধ রাখায় পথচারীরা কিছুটা দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে । এবিষয়ে একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্ত জাহেদ উল্লাহ জাহেদ বলেন,কক্সবাজার শহর ‘টমটমের শহর’ হিসেবে অনেকে মনে করে। অতিরিক্ত টমটমের কারণে সদা যানজট লেগেই থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে চিরচেনা টমটমের শহরে কোথাও টমমটমের দেখা মেলেনি। পুরো সড়ক ফাঁকা। কর্মমুখি মানুষ হেঁটে কর্মে যেতে দেখলাম, আবার অনেকেই সিএনজি মাহিদ্রা নিয়ে কর্মে গেছে কিছুটা দূর্ভোগ হলেও ছিল স্বস্থি। একটি সুত্রে জানা গেছে, ২ শিফটে টমটম চালানের বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১ দিনের কর্মবিরতি শুরু করে টমটম মালিক, চালক ও শ্রমিকদের একটি অংশ। মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে তাদের কর্মসূচি চলে । দাবীর পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেয় বলে জানা গেছে । বাংলাদেশ অটো বাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি জেলা শাখার কার্যকরী সভাপতি মোঃ বাবুল বলেন, অটো বাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নাম ব্যবহার করে যারা গতকাল মিছিল সমাবেশ করেছে তারা শহর থেকে টমটম মুক্ত করার এজেন্টা বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছে। মূলত শহর থেকে টমটম মুক্ত করা গেলে সিটি সার্ভিস চালু হয়ে যাবে,যার প্রমান গতকাল আন্দোলন চলাকালীন সময়ে আমরা দেখলাম শহরে বহুদিন পরে সিটি সার্ভিস যা দিয়ে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌছে যায়। এবিষয়ে কক্সবাজার পৌর টমটম মালিক-চালক ঐক্য পরিষদের সভাপতি নাজিম উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে বার বার বলে এসেছি শহরে অবৈধ টমটম চলাচল নিষিদ্ধ করতে। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমে যানজট নিরসন করতে হবে, সেই দাবীর পেক্ষিতে পৌর মেয়র যে উদ্দ্যেগ নিয়েছে তা সাধুবাদ পাওয়ার মতো। পৌর মেয়রের প্রতি কক্সবাজার টমটম মালিক চালক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করব টমটম দুই শিফট করার পর যেন আর কোন টমটমের লাইসেন্স না দেয়! একই সাথে টমটমের ভাড়া পুনরায় নির্ধারণের দাবী জানাচ্ছি। দুই শিফট টমটম চালু করার বিষয়ে জেলা জাসদের দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বাহাদুর, যানজট নিরসনে পৌরসভার যে উদ্দোগ তাতে একটা ফাঁকি রয়েছে,মূলত নতুন টমটমের লাইসেন্স দেওয়ার ফাঁয়তারা করার চিন্তা। টমটম দুই শিফটে চললে ক্ষতিগ্রস্ত হবে টমটম মালিক চালকরা আর অতিরিক্ত ভাড়ায় আদায় করা হবে যাত্রী থেকে। যানজট নিরসনে রাস্তা প্রসস্ত করতে হবে মূলত। অটো বাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে আন্দোলন করার বিষয়ে জানতে চাইলে, বাংলাদেশ অটো বাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি কক্সবাজার জেলা সভাপতি রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, অটো বাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির নামে বিগত কয়েক মাস ধরে, দাবী আদায়ের নামে শহরে নানা ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করছে একটি পক্ষ। কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন প্রাপ্ত একমাত্র কমিটি আমাদের নামে, গতকাল যে মিছিল মিটিং হয়েছে তার সাথে বাংলাদেশ অটো বাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির কোন সম্পর্ক নেই। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে আমরা ব্যক্তি স্বার্থ আদায় করতে সংগঠন করছিনা, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান একজন জনবান্ধব ব্যক্তি নিশ্চয় তিনি টমটম মালিক চালকদের স্বার্থ রক্ষা করেই পৌর পরিষদের সিদ্ধান্ত নিবে। কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমদ বাবু বলেন,পৌর কর্তৃপক্ষ যে দুই হাজার টাকা যে ফি নির্ধারণ করেছে তাতে কি কি আছে তা জানার সকলের দরকার। আমি যতটুকু জানি উক্ত দুই হাজার টাকার মধ্যে ডিজিটাল নাম্বার প্লেট চালক এবং মালিকের পরিচয় পত্র ও যে গাড়ি গুলো ২ধরনের রং করা হবে। কারণ ইতিপূর্বে আমরা দেখেছি মালিকগণকে রং করার দায়িত্ব দেওয়া হলে তারা একেক জন একেক ধরনের রং করে। তাই পৌর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে গাড়ি গুলো নিজেরা রং করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবিষয়ে কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পৌর শহরে টমটম দুই শিফটে চালানোর সিদ্ধান্তটি পৌর পরিষদের নয়, এটি জেলা আইনশৃখলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত, পৌরসভাকে দায়িত্ব দেওয়ায় মূলত আমরা পৌর পরিষদ কার্যকর করছি। শহরের যানজট নিরসন করতে ও পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে জেলা আইনশৃখলা কমিটির সিন্ধান্ত কার্যকর করবে পৌরসভা। কে কি বলছে তা দেখা হলে কোন উন্নয়ন মূলক কাজ করা যাবে না,জনগণের প্রয়োজনে যা দরকার সবটাই কার্যকর করবে পৌর পরিষদ।

আপনার মন্তব্য লিখুন