দিদার বলীসহ এবার রামুতে ৫৬ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

Screenshot_2018-10-31-00-24-14-616_com.facebook.katana.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক

কক্সবাজার সদর থানায় বিএনপি-জামায়াতের ১৪৯ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে মামলা দায়েরের একদিন পর এবার রামু থানায়ও একই ধরণের অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়েছে। হাত বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ এনে করা ওই মামলায় রামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মাহিন চৌধুরীসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৫৬ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। এই মামলায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জব্বারের বলিখেলা ও কক্সবাজারের ডিসি সাহেবের বলিখেলার একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন বলি দিদারুল আলম ওরফে দিদার বলিকে ১ নাম্বার আসামি করা হয়েছে। জানা গেছে, তিনি রামু উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপি পুলিশের দায়ের করা এই মামলাকেও ‘গায়েবি’ মামলা বলে দাবি করেছে।সোমবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে রামু বাইপাস এলাকায় ৪টি হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় রুজু করা একটি সাধারণ ডায়েরিকে কেন্দ্র করে রামু থানার উপ-পরিদর্শক মংছাই মারমা বাদি হয়ে বিস্ফোরক আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে এই মামলাটি দায়ের করেছেন।

এই মামলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের যে ১৬ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন যথাক্রমে- রামু উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের গণি সওদাগর পাড়ার আশরাফ আলীর ছেলে দিদারুল আলম ওরফে দিদার বলি, একই ইউনিয়নের দক্ষিণ মিঠাছড়ি গ্রামের মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ফতেখারকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরুংলোরার বদরুজ্জামানের ছেলে কামাল উদ্দিন, কাওয়াখোপ ইউনিয়নের মৃত আবুল বশর সওদাগরের ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন, রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৃত আহমদুল হক চৌধুরীর ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহিন চৌধুরী, পশ্চিম মেরুংলোয়ার এনামুল হকের ছেলে মনোয়ার হোসেন ওরফে ধলাইয়া, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম গোয়ালিয়া পালং এলাকার মৃত ওসমান গণির ছেলে শহিদুজ্জামান বাহাদুর, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের মাদ্রাসা গেইট এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে শাহজাহান পুতু, একই ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে আবছার কামাল, ফতেখারকুল ইউনিয়নের মধ্যম মেরুংলোয়া এলাকার মৃত মুফিজুর রহমানের ছেলে জিল্লুর রহমান, রাজারকুল ইউনিযনের সিকদার পাড়ার মৃত আহমদুল্লাহ সিকদারের ছেলে ফয়েজ উদ্দিন রাশেদ, ফতেখারকুল ইউনিয়নের মধ্যম মেরুংলোয়ার সৈয়দ জামানের ছেলে আবুল বশর বাবু, গর্জনিয়া ইউনিয়নের বোমাংখিল এলাকার টুক্কু চৌধুরীর ছেলে জিল্লুর চৌধুরী, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম গোয়ালিয়া পালং এলাকার নজির আহমদের ছেলে কবির আহমদ, একই ইউনিয়নের পূর্ব ধেচুয়াপালং এলাকার মৃত গোরা মিয়ার ছেলে ফরিদুল আলম ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা এলাকার মৃত মৌলভী মোহাম্মদের ছেলে কলিম উল্লাহ।

এছাড়াও এই মামলায় অনন্ত ৩০-৪০জন কে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।মামলার এজাহারে বাদি এসআই মংছাই মারমা উল্লেখ করেছেন, ২৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা দিকে রামুর নতুন বাইপাসের দিকে ৪টি বিকল শব্দের বিস্ফোরণের শব্দ পান। বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে তিনি বিষয়টি থানার ওসিকে অবহিত করেন। পরে তিনি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রচন্ড বারুদের গন্ধ দেখতে পান।

তিনি এজাহারে দাবি করেন, ৫-৬ টি অজ্ঞাতনামা সিএনজি অটো রিক্সা নিয়ে ২০-২৫ জন এবং পায়ে হেঁটে ৪০-৫০ জন দুষ্ক্রকারী ঘটনাস্থলে সমাবেত হয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত ও ভাংচুর করে ক্ষতিসাধন এবং জনগণের জীবন ও সম্পদ বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করে ৪টি হাত বোমা (ককটেল) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ‘অবৈধ সরকারের অবৈধ রায় মানি না মানব না’ বলে স্লোগান দিয়ে পালিয়ে যায়।

এজাহারে বাদি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বিস্ফোরিত হাত বোমার টিনের কোটা, ৯ পিচ ব্যবহৃত ছোট পাটের রশি, বিস্ফোরিত লাল রংয়ের স্কচটেপ ও পাথর জব্দ করেন।

এদিকে এই মামলাকে বর্তমান সরকারের আরো একটি ‘গায়েবি’ মামলা দাবি করে রামু উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল আলম জানান, যে ঘটনার সময় উল্লেখ করা হয়েছে ওই সময়ে তিনি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের গোপন সহকারী (সিএ) ফরিদ আহমদের বিয়ের অনুষ্টানে ছিলেন। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফাসহ আরও গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

তিনি দাবি করেন, রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনি ওই বিয়ে অনুষ্ঠানে ছিলেন।

অন্যদিকে এই ‘গায়েবি’ মামলা প্রত্যাহার করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিস্কৃতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল।

আপনার মন্তব্য লিখুন