ডিসি কোর্স প্রশিক্ষণে দেশসেরা মহেশখালীর সন্তান এস.আই রাজীব

.আই-রাজীব.jpg

জিকির উল্লাহ জিকু :
মা-বাবা আদরের সন্তানকে নাম রেখেছিলেন রাজীব। যার অর্থ শোভিত, যথোপযুক্ত। নামের প্রতি সুবিচার করেই চাকুরীজীবনের প্রতিটি স্তরে পেশাদারিত্ব ও মেধার সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন তিনি। সর্বশেষ চলতি বছরে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, টাঙ্গাইলে ৬ মাস ব্যাপী ডিসি কোর্সে (বিভাগীয় ক্যাডেট প্রশিক্ষণ কোর্স) সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
তিনি উক্ত ডিসি কোর্স পরীক্ষায় ৬৪৪ জন ডিসিদের (ডিপার্টমেন্টাল ক্যাডেট ) মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষায় আইন ও বিধিতে প্রথম স্থান অধিকার করে নির্বাচিত হন বেস্ট ক্যাডেট অব ১৬ তম ডিসি ব্যাচ। কোর্স শেষে ডিআইজি মোহাম্মদ ময়নুল ইসলাম (কমাড্যান্ট পিটিসি) ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করেন। এর আগে পুলিশ বাহিনীর চৌকস এই মেধাবী কর্মকর্তা ২০০৩ সালেও পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, নোয়াখালীতে ৪৫৩ জনের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেন।
এছাড়া ২০১১ সালে এএসআই পরীক্ষায় সিএমপিতে প্রায় ১২০০ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম হওয়ার সুবাধে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে অল্প সময়ে ব্যবধানে ২০১৬ সালে এসআই (সাব ইন্সপেক্টর) পরীক্ষায় সিএমপিতে প্রায় ২১০ জন পরীক্ষাথীর মধ্যেও প্রথম স্থান ধরে রাখেন।
শৈশব থেকেই দুরন্তপনায় কাটানো কঠোর পরিশ্রমী, বন্ধুবৎসল রাজীব দৃঢ়চিত্তে দেশ সেবার ব্রত নিয়ে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। সেই থেকে আইনশৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত রেখে পেশাদারিত্বের সহিত পুলিশের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রেখেছেন।
তাঁর জন্ম কক্সবাজার জেলার মহেশখালী পৌরসভার পুটিবিলা কায়স্থপাড়ার শ্রী অনিল চন্দ্রের ও মৃত পূবালী প্রভার সংসারে। ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে রাজীব দ্বিতীয় সন্তান। বর্তমানে তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক বড় মেয়ে নাসিরাবাদ গার্লস স্কুলের ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তিনি মাধ্যমকি ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও মহেশখালী কলেজ থেকে এবং বোটানীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স সম্পন্ন করেন।
এই অনন্য অর্জন সম্পর্কে এক প্রতিক্রিয়ায় রাজীব জানান, আমার এই সফলতা অর্জন মা-বাবার দোয়া এবং আমার চেষ্টা, অনুপ্রেরণা, অধ্যবসায় ও ৬ মাসের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। এমন অর্জনে আমি তৃপ্ত। তবে ভবিষ্যতে আরো পদোন্নতি পেলে দেশ ও সমাজের জন্য ভাল অবদান রাখব।

আপনার মন্তব্য লিখুন