টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে বরণে প্রস্তুত মোমিনুল

S5-6-e1566589365158.jpg

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ক্যারিয়ারটা কি দুর্দান্তভাবেই না শুরু করেছিলেন মোমিনুল। তিন বিভাগেই দারুন ছন্দে ছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের শুরুতে। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে নিজেকে কেবলই টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন মোমিনুল। কিন্তু সে টেস্ট ক্রিকেটটাও নিয়মিত খেলা হচ্ছেনা মোমিনুলের। হবেই বা কিভাবে। বাংলাদেশ যে খুব কমই টেস্ট খেলে। বাংলাদেশ সবশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছে কবে চটজলদি কেউই উত্তরটি দিতে পারবেন না। থামতে হবে। একটু ভাবতে হবে। যেহেতু ঘটনাটি কয়েক মাস আগের। চলতি বছরের মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে সবশেষ সাদা পোশাকে নেমেছিল লাল সবুজের দল। কাজেই এই ফরম্যাটে টিম বাংলাদেশকে পিছিয়েই রাখা যায়। যদিও চিত্রটি এদেশের জন্য নতুন নয়।
সাদা পোশাকে বাংলাদেশের মতো অনিয়মিত দলগুলোর জন্য গেল মাসে এক সুখবার্তা দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। ঘোষণা দিয়েছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের। যার উদ্বোধনী মৌসুম চলবে টানা দুই বছর। ৯টি দেশকে নিয়ে হতে চলা এই চ্যাম্পিয়নশিপে প্রত্যেকটি দেশকে ছয়টি করে সিরিজ খেলতে হবে লিগ পর্বে। দু’বছরের এই সময়ে প্রত্যেকটি দলই নিজেদের পছন্দের দলের বিরুদ্ধে ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ (তিনটি হোম ও তিনটি অ্যাওয়ে) খেলবে। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল।
এতে করে আর যাই হোক টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোকে ম্যাচের জন্য তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকতে হবে না। অনিয়মিতরা টেস্টে এবার নিয়মিত হবে। সামগ্রিক বিষয়টিকে তাই এদেশের টেস্ট ক্রিকেটের প্রভূত উন্নয়নে দারুণ ইতিবাচক দেখছেন টাইগার লিটল মাস্টার মোমিনুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে অনুশীলনের আগে মোমিনুল জানান, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ায় বাংলাদেশের জন্যই ভালো হয়েছে। কারণ টেস্ট ক্রিকেটকে তেমন ফোকাস করা হয় না। সেই দিক দিয়ে চিন্তা করলে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্যই ভালো হয়েছে। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা দলগুলো ইতোমধ্যেই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মিশনে নেমে গেছে। অ্যাশেজে লড়ছে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। শ্রীলংকায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে খেলছে নিউজিল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে খেলছে ভারত। বাংলাদেশ তাদের মিশন শুরু করবে নভেম্বরে ভারত সফর দিয়ে। এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আফগানিস্তানকে পাচ্ছে সাকিব আল হাসান ও তার দল। যার শুরুটা হবে আগামী মাসে ঘরের মাঠে। মূল মিশনের আগে এক ম্যাচ সিরিজের এই টেস্ট শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে দারুণ কিছু করার জ্বালানি যোগাবে বলে বিশ্বাস মোমিনুলের। তিনি বলেন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে প্রস্তুতি হিসেবে একটা টেস্ট পাচ্ছি এটা সবার জন্য ভালো।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যরা লম্বা সময় টেস্ট থেকে দূরে থাকলেও মোমিনুল কিন্তু খেলার মধ্যেই ছিলেন। গেল মাসে ভারত সফরে খেলে এসেছেন মিনি রঞ্জি ট্রফি। সেঞ্চুরিও পেয়েছেন। এখন চলছে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের অনুশীলন। দলীয় অনুশীলনের বাইরে মোমিনুল অনুশীলন করছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগেও। আসন্ন সিরিজগুলোতে তাই রান উৎসবে বেশ নির্ভার এই টাইগার টেস্ট স্পেশালিস্ট। মোমিনুল বলেন টেস্টে মানসিকভাবে অনেক শক্ত থাকতে হয়। শারীরিকভাবেও ফিট থাকতে হয়। আমার ব্যক্তিগতভাবে সমস্যা হবার কথা না। খেলার মধ্যেই আছি, কয়েক দিন আগেও ভারতে মিনি রঞ্জি ট্রফিতে খেলে এসেছি। খেলার মধ্যে থাকলে বিষয়টি সহজ হয়ে যায়। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বসে থাকলে হয় না। অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয়। যে জায়গায় উন্নতি করা দরকার সে জায়গায় কাজ করা প্রয়োজন। এজন্য আমি বাড়তি অনুশীলন করি। মোমিনুলের বাড়তি অনুশীলন মানেই তো টাইগারদের অসাধারণ কিছুর হাতছানি। কেননা সাদা পোশাকে তার ব্যাট হাসলেই যে হাসে বাংলাদেশ।
মোমনিুলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে। খেলেছেন টি-২০ ম্যাচও। অথচ ৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টি-২০ থেকে নির্বাসনে ৫ বছর ধরে। আর ওয়ানডে ক্রিকেটে সেখানে ব্রাত্য এখন মোমিনুল। টেস্টে যেখানে গড় ৪১.৯৩, সেখানে ওয়ানডেতে ২২.২৮। স্ট্রাইক রেট মাত্র ২২.২৮। ২০.০০ গড়ে টি-২০ ক্যারিয়ার গেছে থেমে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ২ ম্যাচে সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেননি। গত বছর আয়ারল্যান্ড সফরে ‘এ’ দলের হয়ে এক ইনিংসে ১৩৩ বলে ১৮২ রানের ইনিংসে নির্বাচকদের চোখে পড়েও মেলে ধরতে পারেননি। ৩ বছর ৭ মাস পর ওয়ানডেতে প্রত্যাবর্তন হয়নি সুখকর। গত বছরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ৯ এবং ৫ রানের ইনিংসে ওয়ানডের বাইরে এখন ১ বছর। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৫০ ওভারের ম্যাচে করছেন ধারাবাহিক পারফর্ম। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ৪৭.৪০ গড়ে করেছেন রান। ওয়ানডেতে ফেরার রাস্তাই পাচ্ছেন না মোমিনুল। যদিও হোমে টেস্ট রেকর্ডটা তার বেশ ভাল। তবে ক্যারিয়ারে হোমে গড় যেখানে ৫৬.৯৭ সেখানে চট্টগ্রামে গড় ৮৩.৪২। টেস্ট ক্যারিয়ারে ৮ সেঞ্চুরির ৬টিই তার চট্টগ্রামে। লাকি ভেন্যতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে পারফর্ম করে গড়টা আরো বাড়িয়ে নিতে চান। তিনি বলেন টেস্টে যদি গড়টাকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারি কিংবা বিপিএলে যদি ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারি তাহলে হয়তো ওয়ানডেতে সুযোগ আসতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন