জোট-উপজোটের খেলা

e41e5de70ebf62a5ea55e0124c54e9d6-5bb3a78edf815.jpg

সালমান তারেক শাকিল

যতই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসে, ততই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য থাকে প্রধান দুই-তিনটি দলের কাছে গুরুত্ব তৈরি করা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত দুই যুগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই গুরুত্ব পাওয়ার বিষয়টি জোটগঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিকে কেন্দ্র করেই জোটগুলো গঠন করা হচ্ছে। বামধারার রাজনৈতিক দলগুলো জোটভিত্তিক রাজনীতি করলেও প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে চরিত্র ভিন্ন। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর জোটবদ্ধতা তৈরি হলেও ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের উত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর ঐক্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে সব জোট সক্রিয় রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে—আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট; যেখানে আছে ১২টি রাজনৈতিক দল। এই জোটে ৫টি দল নিবন্ধিত রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মহাজোট গঠিত হলেও আওয়ামী লীগের সে জোটটি এখন নেই। আছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এই জোটের ৯টি দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, জাপার এরশাদের নেতৃত্বে সম্মিলিত জাতীয় জোট সক্রিয়। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট রয়েছে আলোচনায়। এই জোটের দু’টি দল নিবন্ধিত। কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে। এই জোটে ১ টি দল নিবন্ধিত। ইতোমধ্যে কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে আছে আটদলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট। এই জোটে ৩টি দল নিবন্ধিত। গঠন করার পর প্রতিনিধি সম্মেলন করেছে ১৬ দলের ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। এই জোটে একটি দল নিবন্ধিত। এছাড়া আরও কিছু জোট আছে, গঠনের পর থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও কর্মসূচি দেয়নি এসব জোট।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৩৯। রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটের সংখ্যা প্রায় ১৪টি। এই জোটগুলোর মধ্যে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত দল এবং সংগঠন মিলিয়ে সংখ্যা প্রায় ১৫২টি। জোটগুলো হচ্ছে, ১৪ দলীয় জোট, ২০ দলীয় জোট, সম্মিলিত জাতীয় জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, জাতীয় ইসলামী মহাজোট, বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ),  ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এনডিএফ, গণতান্ত্রিক জোট, প্রগতিশীল জোট, হুদা জোট ও বিজেপি।

উল্লিখিত জোটের বাইরে কয়েকটি নিবন্ধিত দল যেমন আছে, তেমনি অনিবন্ধিত কয়েকটি সংগঠন আছে, যেগুলো কোনও জোটে নেই। এই দলগুলোর মধ্যে আছে, খেলাফত আন্দোলন উভয় অংশ, ববি হাজ্জাজের এনডিএম। এছাড়া আর কয়েকটি দল রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে ভুঁইফোড়, কর্মী-সংগঠনবিহীন ব্যক্তিরা জোট গঠন করে বড় দলগুলোর কাছে ঘেঁষতে চান। আবার নির্বাচন হয়ে গেলে এই দলগুলো থেকে সটকে পড়েন। ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজেদের কাজে।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে দ্বিদলীয় বা তৃতীয় ধারা রাজনৈতিক দল থাকে। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় সেটা গড়ে উঠছে না। এই কারণে আমাদের দেশের ভোটের আগে জোড় গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের আগে জোট গঠনের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটি দিকই আছে। এটা যদি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য হয়, তাহলে এটা হবে নেতিবাচক দিক। আর রাষ্ট্রের যেসব অসঙ্গতি রয়েছে, তা যদি সঠিক বা মেরামতের কাজ করে, তাহলে ভালো। যেমন—কয়েকদিন আগে আমাদের ছাত্ররা আন্দোলনের সময় বলছে, রাষ্ট্রের মেরামতের কাজ চলছে। এখন এই সব জোট যদি মেরামতের কাজ করে, তাহলে এটা ভালো হবে।’

জোটের ভেতরে উপজোট, সেখানেও ভাঙন

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে আছে ১২টি দল। ২টি দল কম থাকলেও নামে ১৪ দল হিসেবে পরিচিত এই জোট। এই জোটভুক্ত দলগুলো হলো—আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), ন্যাপ মোজাফফর, গণতন্ত্রী পার্টি, জাসদ, তরিকত ফেডারেশন, বাসদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, ওয়াকার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল ও  গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি। এই জোটে জাসদের দুই গ্রুপ আছে। একটি হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে, আরেকটি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার। ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা আটটি। এর বাইরে চারটি দলের নিবন্ধন নেই। নিবন্ধিত দলগুলো হচ্ছে—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু), ন্যাপ (মোজাফফর), তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু), গণতন্ত্রী পার্টি ও সাম্যবাদী দল।

আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। দলটির সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপি নতুন একটি জোটের কো-চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হয়েছেন।  একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগপন্থী বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ‘ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের’ কো-চেয়ারম্যান।

১৪ দলীয় জোটের দলে থেকে পৃথক জোটের কেন প্রয়োজন হলো—এমন প্রশ্নের উত্তরে এম এ আউয়াল বলেন, ‘ইসলামপন্থী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করা সময়ের দাবি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতপন্থী দলগুলো যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্যই আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎভাবে কাজ করবে এই জোট।’

ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স গঠনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও অন্য নামে আত্মপ্রকাশ করে এই জোট। সে জোটের নাম রাখা হয়েছিলো পিপলস ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স।

উল্লেখ্য, ৫ বছর আগে তরিকত ফেডারেশনের নেতৃত্বে প্রগতিশীল ইসলাম জোট নামে একটি জোট গঠন করার হলেও পরে কার্যক্রম বন্ধ করে রাখেন উদ্যোক্তারা।

১৪ দলীয় জোটের১৪ দলীয় জোটের সভা

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বাকি শরিক দলগুলো হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী (নিবন্ধন স্থগিত), বিজেপি, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, এলডিপি, জাগপা, কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, লেবার পার্টি, মুসলিম লীগ, ন্যাপ ভাসানী, ইসলামিক পার্টি দুই গ্রুপ, ডেমোক্রেটিক লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম দুই গ্রুপ, পিপলস লীগ, জাতীয় পার্টি ও সাম্যবাদী দল। এই জোটে কয়েকটি দল ভেঙে পৃথক নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে ইসলামিক পার্টির দুই অংশ, জমিয়তের দুই অংশ আলাদাভাবে প্রতিনিধিত্ব করে জোটে। ২০ দলীয় জোটে কোনও উপজোট নেই।

২০ দলীয় জোটে.jpসভায় ২০ দলীয় জোটের নেতারা

২০ দলীয় জোটের নয়টি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। দলগুলো হলো—বিএনপি, এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিএমএল।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে গত বছরের ৭ মে ৫৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’ আত্মপ্রকাশ করে। ২টি নিবন্ধিত দল ও ২টি জোটসহ মোট ৪টি শরিক দল নিয়ে এ জোট গঠন করা হয়েছে। সম্মিলিত জোটের শরিক দলগুলো হলো—জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় ইসলামী মহাজোট ও বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ)। এর মধ্যে ইসলামী মহাজোটে আছে ৩৪টি ইসলামি দল এবং বিএনএতে আছে ২২টি দল। সব মিলিয়ে এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটে দলের সংখ্যা ৫৮টি। এরশাদের এই জোটের নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৩ টি। দলগুলো হলো—জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। এরশাদের এই জোট গঠনের পর ১৮ মে  বিএনএ-এর চেয়ারম্যান সেকান্দার আলীকে অব্যাহতি দিয়ে গণজাগরণ পার্টির চেয়ারম্যান সেলিম হায়দারকে চেয়ারম্যান, আমজনতা পার্টির চেয়ারম্যান বেনজির আহমদকে সদস্য সচিব ও গণঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান হোসেন মোল্লাহকে মুখপাত্র করা হয়। এরপর ২৫ মে ভাঙে জাতীয় ইসলামী মহাজোট। ৩৫টি দলের নামস্বর্বস্ব সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবু নাসের ওয়াহেদ ফারুককে অব্যাহতি দিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য খাজা মহিবউল্লাহ শান্তিপুরী।

সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর এরশাদের জোট থেকে শরিয়াহ আন্দোলন নামে একটি সংগঠন মিছবাহ-আউয়ালের আইডিএ জোটে যোগ দেয়। এর আগে ১১ আগস্ট বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে এরশাদের জাপার সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ ও বুলবুলি হুজুরসম্মিলিত জাতীয় জোটের সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ ও বুলবুলি হুজুর

এরশাদের জোটভুক্ত অনিবন্ধিত দল ও সংগঠনের জোট জাতীয় ইসলামী মহাজোটের দলগুলো হচ্ছে, গণ ইসলামিক জোট, পিপলস জাস্টিস পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ইসলামিক লিবারেল পার্টি, জাতীয় শরিয়া আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বাংলাদেশ জনতা পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামি জনকল্যাণ পার্টি, ইউনাইটেড ইসলামিক লীগ, জমিয়তে মুসলিমিন বাংলাদেশ, ন্যাপ-ভাসানী, খেলাফত সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি, ইসলামি গণ আন্দোলন, জাতীয় ইসলামি আন্দোলন, জমিয়তুল ওলামা পার্টি, জাতীয় ইসলামিক মুভমেন্ট, খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশ, ইনসানিয়াত পার্টি, খেলাফত বাস্তবায়ন পার্টি, ইসলামি আক্বিদা সংরক্ষণ পার্টি, ইসলামী সংরক্ষণ পার্টি, ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশ, মুসলিম জনতা পার্টি, ইসলামি আক্বিদা সংরক্ষণ আন্দোলন, খেদমতে খালক পার্টি, ওলামা মাশায়েখ সমন্বয় পরিষদ, ইউনাইটেড ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ইসলামি পার্টি, ইসলামী সমাজ কল্যাণ আন্দোলন, বাংলাদেশ ইত্তেহাদুল মুসলিমিন, বাংলাদেশ খেলাফাতুল উম্মাহ, বাংলাদেশ আক্বিমুদ্দিন মজলিস, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জমিয়তুল হেদায়াহ মুভমেন্ট।

বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে আছে যুক্তফ্রন্ট। এই জোটে আছে আ স ম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য। বিকল্প ধারা ও জেএসডি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত।

যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সংবাদ সম্মেলনযুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সংবাদ সম্মেলন

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এই জোটে কামাল হোসেনের গণফোরাম ও আবম মোস্তফা আমীনের ফরোয়ার্ড পার্টি আছে। এছাড়া, ব্যক্তি হিসেবেও কয়েকজন যুক্ত আছেন এই জোটে। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে নাগরিক সমাবেশ করে আলোচনায় আসে জাতীয় ঐক্য-প্রক্রিয়া। বিএনপির নেতারাও এই সমাবেশে যোগ দেন। ইতোমধ্যে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সমন্বয়ে নতুন জোট গঠন করেছে।

মিছবাহ ও এমএ আউয়ালের নেতৃত্বে আছে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। এই জোটে ১৬টি সংগঠন আছে। উল্লেখযোগ্য দলগুলো হলো—এম আউয়াল এমপি (ব্যক্তি হিসেবে), বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট (মিছবাহ), গণতান্ত্রিক ইসলামিক মুভমেন্ট, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি (রশিদ), বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (রুমা আলী), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (হাসরত খান ভাসানী), বাংলাদেশ জমিয়তে দারুস সুন্নাহ (শাহ মুস্তাকিম বিল্লাহ সিদ্দীকি), বাংলাদেশ গণ কাফেলা (হাকিম গোলাম মোস্তফা), বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলন (ফখরুল ইসলাম, সাবেক নেতা খেলাফত আন্দোলন), ইমাম-উলামা কল্যাণ পার্টি (জহিরুল ইসলাম), ইসলামী পেশাজীবী পরিষদ (ক্যাপ্টেন রেজাউল করিম চৌধুরী) ও শরিয়াহ আন্দোলন।

ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যলায়েন্সইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স

২০১৮ সালের ৩০ মার্চ গণফ্রন্টের নেতৃত্বে গঠিত হয় প্রগতিশীল জোট। জোটের চেয়ারম্যান ও চিফ কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে গণফ্রন্টের চেয়ারম্যান  মো. জাকির হোসেনকে। জোটবদ্ধ দলগুলো হচ্ছে—গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) ও মুসলিম লীগ। এই জোট এখনও কোনও নতুন কোনও কর্মসূচি দেয়নি। ব্যক্তিগত আলাপে কর আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই জোটে আরও নতুন দল যুক্ত হবে।’ তরিকতের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়ালের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে জানা গেছে একটি সূত্রে।

বড় জোটে নেই ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। এই জোটে আটটি দল আছে। সেগুলো হলো—ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনডিপি), তৃণমূল ন্যাপ, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। এই জোটে নিবন্ধিত দল শুধু ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনডিপি)। জোটের ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনডিপি) চেয়ারম্যান শেখ ছালাউদ্দিন ছালু বলেন, ‘আমরা বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসেছি। সেখানে ৩ জনের একটি অংশ সেখানে রয়েছে। আমাদের ১০ দলের জোট আছে। ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক জোট।’

বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে আছে, তৃণমূল বিএনপি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, সম্মিলিত ইসলামিক জোট, কৃষক শ্রমিক পার্টি, একামত আন্দোলন, জাগো দল, ইসলামিক ফ্রন্ট ও গণতান্ত্রিক জোট। এই জোট ক্ষমতাসীনদের জোটে যেতে আগ্রহী। এরআগে ২০১৫ সালে নাজমুল হুদার নেতৃত্বে ২৫ দলীয় জোট বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) গঠন হলেও তা কিছুদিন পরই ভেঙে যায়। নাজমুল হুদার জোটের কোনও সংগঠনের নিবন্ধন নেই।

এই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়েছে আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক জোট। জোটের শরিক দলগুলো হলো—বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স, বাংলাদেশ জনতা দল, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামিক মুভমেন্ট, বাংলাদেশ আইডিয়াল পার্টি, জমিয়াতুল উলামা ফ্রন্ট, বাংলাদেশ আওয়ামী পার্টি, স্বাধীনতা পার্টি, বাংলাদেশ প্রতিবাদী জনতা পার্টি, জন গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি ও বাংলাদেশ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এই জোটের শরিক সংগঠনগুলোর কারও নিবন্ধন নেই।

নাজমুল হুদার জোটের সম্মেলননাজমুল হুদার জোটের সম্মেলন

ধর্মভিত্তিক দলের জোট নেই, হেফাজতের একচেটিয়া প্রভাব

২০১৩ সালের আগে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে ইউনিটি বজায় থাকলেও ওই বছরের ফেব্রুয়ারির পর তা পুরোটায় চট্টগ্রামভিত্তিক হেফাজতে ইসলামের প্রভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিরোধিতা করে ধর্মভিত্তিক দলগুলো। ওই সময় ও এর আগের দিনগুলোতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনী, শায়খুল হাদিস আজিজুল হকের নেতৃত্ব থাকলেও ১৩ সালে এসে ঢাকার নেতৃত্ব চট্টগ্রামে ঝুঁকে পড়ে। নেতৃত্বে আসেন আল্লামা আহমদ শফী। দলীয় রাজনীতিতে আহমদ শফী নিষ্ক্রিয় থাকলেও ‘অরাজনৈতিক হেফাজত’ই ঢাকাসহ পুরো দেশে নেতৃত্ব বিস্তার করে। ২০১১, ১২ সালে ইসলামী ও সমমনা ১২ দল, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদসহ একাধিক সংগঠনের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর জোটবদ্ধতা থাকলেও হেফাজতের পর আর কোনও সংগঠন প্রকাশ্যে আসেনি। উল্টো দিকে হেফাজতের নেতৃত্বেই কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি আসে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর।

গত বছর ও এই বছরের শুরু থেকেই কওমি ঘরানার দলগুলোর স্বতন্ত্র জোট হওয়ার আলোচনা হলেও তার বাস্তবে কোনও চিত্র নেই। ২০১৬ সালে ইসলামী ঐক্যজোট ২০ দলীয় জোট ছেড়ে এসে এককভাবে চলছে। কোনও জোটে নেই খেলাফত আন্দোলন। বরং গত বছর দলটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন চলছে একাই। খেলাফত মজলিস বিএনপি জোটে থাকলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গেছে এরশাদের জোটে। কওমি ঘরানার বাইরে সাধারণ ধর্মভিত্তিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, তরিকতের সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়ালের নেতৃত্বে জোট আছে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। এই জোটে আছেন অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম; তিনি জমিয়তের সাবেক নির্বাহী সভাপতি প্রয়াত মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের জামাতা।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (একাংশের) আমির মুফতি ওয়াক্কাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটা সময় ইসলামপন্থীদের জোট ছিল। কিন্তু সেই জোট আর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জোটবদ্ধ না থাকার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সবাই নিজের দলের ভালো অবস্থান চায়, সেজন্য তারা বড় দলের সঙ্গে জোটে যেতে চায়। অন্যদিকে শুধু ইসলামপন্থী জোটের প্রভাবও কম। সব মিলিয়ে রাজনীতির হিসাব করে সবাই  সিদ্ধান্ত নেয়।’

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘ইসলামি দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকা আল্লাহর নির্দেশ। তবু ঐক্যবদ্ধতা নেই। ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা সবাই অনুভব করে কিনা, সেটিও ভাবনার বিষয়। একইসঙ্গে  আস্থা, বিশ্বাস না থাকাও কারণ। এগুলো দূর হলে ইসলামি দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে।’

২০১৭ সালে ২০ সেপ্টেম্বর জনৈক মিঠুন চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জনতা পার্টি বিজেপি গঠিত হয়। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ও সমমনা অর্ধশতাধিক সংগঠনের উদ্যোগে বিজেপি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি ছাড়াও এই দলে আছে মুক্তির আহ্বান, বাংলাদেশ সচেতন সংঘ, জাগো হিন্দু পরিষদ, আনন্দ আশ্রম, হিন্দু লীগ, সনাতন আর্য সংঘ, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন, বাংলাদেশ ঋষি সম্প্রদায়, বাংলাদেশ মাইনরিটি ফ্রন্ট, হিউম্যান রাইটস, হিন্দু ঐক্য জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন। দলের সভাপতি ও মুখপাত্র হয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী, মহাসচিব হয়েছেন দেবাশীষ সাহা। দলের মহানগর সম্পাদক দেবদুলাল সাহা, দলের যুব পার্টির সভাপতি আশিক ঘোষ। পরে ওই বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন মিঠুন চৌধুরী। নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে দলটির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও যুব শাখার প্রধান অজিত কুমার দাসকে।

বামদের দল বেশি, জোট কম

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক (বাম) দলের সংখ্যা ১০টি। এগুলো হলো—বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলনবাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলন

তবে এর বাইরেও অনিবন্ধিত রয়েছে আরও কমপক্ষে ১৪টি দল। অনিবন্ধিত দলগুলো হচ্ছে গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল,  জাতীয় গণফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (সাইদ আহমেদ)।

বাম দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোটে আছে ১০টি দল। এই দলগুলো হলো—ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু), জাসদ (বাদল), ন্যাপ (মোজাফফর), গণতন্ত্রী পার্টি, গণআজাদী লীগ, বাসদ (রশীদ খান), কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ও সাম্যবাদী দল।

আর ২০ দলীয় জোটে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (সাইদ আহমেদ)।

এর বাইরে বাম দলগুলোর আরও ২টি জোট রয়েছে। সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা মিলে গঠন করা হয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এই জোটের দুটি উপজোট রয়েছে। সেগুলো হলো— সিপিবি-বাসদ ও বাম মোর্চা। বাম মোর্চার শরিক সংগঠনগুলো হলো—বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ (মার্ক্সবাদী)। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন—এই তিন দল নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় মুক্তি জোট। এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন বদরুদ্দীন উমর।

 

বামমোর্চা ও গণতান্ত্রিক বাম জোটের অন্যতম নেতা, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বামপন্থীদের নানান সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। শাসকশ্রেণির বাধা, লুটপাটের রাজনীতি, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাম আন্দোলন বিকাশের প্রধান বাধা। পাশাপাশি বামপন্থীদের নিজেদের ভেতরে কিছু সমস্যা রয়েছে। এর ফলে  পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কীভাবে জনগণের কাছাকাছি যেতে হবে বামদের, সেই ভাবনা-চিন্তা এখনও যথেষ্ট পরিণত হয়নি। তারপরও জনগণের কাছে বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য বামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে ধীরে ধীরে।’

ভবিষ্যতের জোট

জানা গেছে, বিএনপির ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে থাকলেও সরকারবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে দলটির প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এক্ষেত্রে যুক্তফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জোট করার একটি প্রবল সম্ভাবনা আছে এখনও।

বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলোর তৎপরতা দেখে  ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও আলোচনা আছে জোট করার। ইতোমধ্যে সরকারের একাধিক প্রভাবশালী গোয়েন্দাসংস্থা সরকারের শীর্ষপর্যায়ে পরামর্শ দিয়েছে, বিরোধী জোট হলেও ক্ষমতাসীনদের যেন জোট করা হয়। এই চিন্তাও এখন বাস্তবায়নের পথে।

বিএনপি নির্বাচনে না গেলে তিন থেকে চার দলের সমন্বয়ে একটি জোট হতে পারে। তবে এখনও তা প্রাথমিক চিন্তাতেই আছে বলে উদ্যোরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।

নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করতে ইসলামী দলগুলোর একটি জোট হতে পারে, তবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিত পরিষ্কার পেলেই জোটের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন