জাদীমুরা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধে নিহত

FB_IMG_1566843358047.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ

টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার সাথে জড়িত আরও ১জন রোহিঙ্গা পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তিনি টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ডি-বøকের আমিরুল ইসলামের ছেলে মো: হাসান (১৯)। ২৬ আগস্ট ভোররাতে টেকনাফের জাদীমুরা শালবাগান ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। এনিয়ে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা ঘটনায় ৩ জন নিহত হলেন। ৩ জনই রোহিঙ্গা। অপর দুইজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা হলেন জাদিমুরা ক্যাম্পের বাসিন্দা শব্বির আহমদের পুত্র মোঃ শাহ (৩৩) ও আবদুল আজিজের পুত্র আবদুল শুক্কুর (৩৫)।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদিপ কুমার দাশ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘যুবলীগনেতা উমর ফারুক হত্যা মামলার সাথে জড়িত মো: হাসানকে (১৯) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শনিবার ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-বøক থেকে পুলিশ আটক করেছিল। তার স্বীকারোক্তি মতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য ২৬ আগস্ট ভোররাতে পুলিশ শালবাগান ক্যাম্প সংলগ্ন রোহিঙ্গা পাহাড়ী বস্তিতে অভিযানে যায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। এতে এসআই সাব্বির আহমদ (৩০), কনস্টেবল লিটন (২১) এবং বাহার (৩৮) আহত হন। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আরো গভীর পাহাড়ের দিকে পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে এলজি, তাজা কার্তুজ ও কার্তুজের খোসাসহ নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের ডি-বøকের বাসিন্দা মোঃ আমিরুল ইসলামের পুত্র মোঃ হাসানকে (১৯) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোঃ হাসান (১৯) মারা যায়। তার মৃতদেহ পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত ৩ জনই শীর্ষ রোহিঙ্গা ও ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য’।
এদিকে রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র গ্রæপ কতৃক নৃশংসভাবে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে খুনের ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হ্নীলা ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুককে হত্যার ঘটনায় পিতা আবদুল মোনাফ কোম্পানী বাদী হয়ে মৃত কালা মিয়ার পুত্র বার্মাইয়া ডাকাত ও ইয়াবা গডফাদার নুর মোহাম্মদকে প্রধান আসামী করে নামীয় ২০ জন এবং অজ্ঞাতনামা ২০/৫০ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-টেক/৫৯/২৩-০৮-২০১৯ ইংরেজী। হত্যা মামলা দায়ের করার পর মামলার বাদীসহ পরিবার-পরিজন অঘোষিত হুমকির মুখে রয়েছে বলে নিহতের পিতা মোনাফ কোম্পানী জানিয়েছেন। এই খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই মামলা দায়ের করায় আবারো সংঘবদ্ধ ও স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রæপের অব্যাহত হামলার হুমকিতে নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নিহত ওমর ফারুকের আরেক ভাইকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ২৫ আগস্ট সকালে অপহরণের চেষ্টা করেছিল। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন প্রশাসনের নিকট নিরাত্তা দাবী করেছেন। আতংকে বেশীর ভাগ লোক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। যেকোন মুর্হুতে হামলার আশংকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে হ্নীলা জাদিমোরায় শালবাগান ক্যাম্পের রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা স্থানীয় আব্দুল মোনাফ কোম্পানীর ছেলে জাদিমোরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও হ্নীলা ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মোঃ ওমর ফারুককে (৩০) গুলি করে খুন করেছিল।

আপনার মন্তব্য লিখুন