জনপ্রিয়তার শীর্ষে কারাবন্দি হামিদ আযাদ সুযোগ পেলে ব্যালট বিপ্লব ঘটাবে দ্বীপের মানুষ

2204_me-1.jpg

প্রেস নিউজ

মহেশখালী ও কুতুবদিয়া-এই দুই উপজেলা নিয়ে কক্সবাজার-২ আসন। সাগর বেষ্টিত এই আসনের জনগণ মারাতœক প্রতিবাদি। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে এখানকার মানুষ সবসময় স্বোচ্ছার। বিগত দশটি বছর আওয়ামী লীগের নামধারী কিছু সন্ত্রাসী ও দখলবাজের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে দ্বীপের মানুষগুলো। মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুত প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের টাকা লুটপাট, নিরীহ লোকজনের উপর হামলা মামলায় সাধরণ মানুষ সরকারী দলের নেতাদের উপর অতীষ্ট। বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পেয়ে নেতৃত্বের কোন পরিবর্তন হয়নি। আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের মুক্তি, সর্বোপরী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে দ্বীপবাসীর কাছে এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ভোটারগণ। গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানি রিপোর্টে এমনটি তথ্য উঠে আসে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তথা ২৩ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ কারাবন্দি থাকলেও নানা সমিকরণে ভোটাররা তার হিসেবই কষছেন। সন্ত্রাসের জনপদের ‘নিরাপদ প্রার্থী’ হিসেবে তার পক্ষে সর্বস্তরের মানুষ। এছাড়া তার সময়কালের উন্নয়ন কর্মকান্ড এখনো দ্বীপবাসীকে নাড়া দিচ্ছে। ভোটারদের অভিমত, ৩০ ডিসেম্বর ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে গণবিপ্লব ঘটাবে জনগণ।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, কুতুবদিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন এবং মহেশখালী উপজেলার একটি পৌরসভার ৮টি ইউনিয়ন নিয়েই কক্সবাজার-২ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৬ হাজার ৮১ জন। ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ১০৫টি।
কুতুবদিয়া উপজেলায় ৬ ইউনিয়নের ৩৭টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ৪৪ হাজার ২৩ জন পুরুষ ও ৪০হাজার ৪৪২ জন নারী মিলিয়ে ভোটার রয়েছে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৫ জন।
মহেশখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ৬৮ ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৯ জন পুরুষ ও ১ লাখ ১ হাজার ৬৬৭ নারীসহ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৬১৬ জন। ভোটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কুতুবদিয়ার চেয়ে মহেশখালীতে ভোট বেশী।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিরাট একটি অংশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক জিতে আসুক, চাননা। তার আচার আচরণে ক্ষুব্ধ দলের অনেক সিনিয়র নেতারাও। প্রকাশ্যে তার পক্ষে মনে হলেও ভোটের বেলার চিত্র হবে উল্টো। তাছাড়া শ্বশুরালয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে হামিদ আযাদের সাথে আওয়ামী পরিবারের হৃদ্যতা রয়েছে। সমান সম্পর্ক অন্যান্য দলের নেতাদের সাথেও রয়েছে। আওয়ামী ঘরানার বিরাট একটি ভোট হামিদ আযাদের পক্ষে যাবে। জোটগত প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির বিশাল ভোট ব্যাংক তো হামিদ আযাদের জন্য রিজার্ভ রয়েছে। তার সাথে জামায়াতের ‘অটল ভোট’ যোগ হলে হামিদ আযাদের আপেল মার্কার বিজয় ঠেকানো সম্ভব নয় বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন।
এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক এমপি। রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তিনি গত প্রায় পাঁচ মাসের অধিক সময় ধরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। একটি আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হতে না হতেই আরেকটি নতুন জটিলতায় ফেলা হচ্ছে। কারামুক্ত হওয়ার পথ আটকে যাচ্ছে। একটি চিহ্নিত চক্রান্তকারী গোষ্টি তার মুক্ত জীবনের জন্য বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে হামিদ আযাদের জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং বেড়েছে। অনেকে মনে করেন, মুক্ত হামিদ আযাদের চেয়ে বন্দি হামিদ আযাদ বেশি জনপ্রিয়।
মহেশখালীর মাতারবাড়ীর ভোটার সত্তরোর্ধ আবদুল মোতালেব জানান, এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ২০০১ সালে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য। তার সময়কালের উন্নয়ন কর্মকা- এখনো উল্লেখযোগ্য। সামুদ্রিক ভাঙন থেকে দ্বীপবাসীকে রক্ষা করতে তিনিই স্থায়ী বেড়িবাঁধের রূপকার। তার সময়কালের পরিকল্পনায় গৃহীত প্রকল্প এখনো চলমান। দ্বীপাঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম ইমেজের অধিকারী।
কুতুবদিয়া দরবারঘাট জেটি এলাকার এক বাসিন্দার মতে, হামিদুর রহমান আযাদের সময়কালেই দরবারঘাট জেটি নির্মাণ করা হয়। আ.জ.ম সড়ক, মিরাখালী সড়কসহ উল্লেখযোগ্য অনেক গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। দ্বীপের প্রায় ২০টি মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছেন। হামিদ আযাদের প্রস্তাবনায় ‘কুতুবদিয়ায় ফায়ার সার্ভিস’ অনুমোদন হয়েছিল। দুঃখের বিষয়, বিগত ১০ বছরেও প্রকল্পের কোন অগ্রগতি নেই। যেটি কুতুবদিয়াবাসীকে অবজ্ঞার শামিল। কুতুবদিয়ার বিদ্যুৎ লাইনকে জাতীয় গ্রীডের আওতায় নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন হামিদুর রহমান আযাদ।
হোয়ানক টাইম বাজার এলাকার ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মহেশখালীর শাপলাপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, শাহ মজিদিয়া মাদরাসায় অবকাঠামো উন্নয়নে ৫ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেন। এরকম আরো অনেক প্রতিষ্ঠান তার অনুদানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছিল। শুধু মহেশখালী উপজেলাতে প্রায় ৩০টি মসজিদসহ অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তার আমলেই সংস্কার-উন্নয়ন হয়। মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস স্থাপন, আদিনাথ মন্দিরের নিরাপত্ত্বায় ‘পুলিশ ফাঁড়ি’ তার ক্ষমতাকালে করা হয়। টিআর, কাবিখার সঠিক ও ন্যায্য বণ্ঠনের মাধ্যমে মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়ন করেন।
অধিকাংশ ভোটারের অভিমত, হামিদ আযাদের জীবনে কোন কলঙ্ক নেই। ৫ বছরের এমপি থাকাকালে একফোঁটা দুর্নীতির কাঁদা তার গায়ে কেউ লাগাতে পারেনি। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, স্বাচ্ছা ঈমানদার হিসেবে জীবন পার করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের কাছে তিনি আজ বড্ড অসহায়। যার জীবনটাই গেছে মানুষের দুঃখে-সুখে। তিনি আজ চার দেওয়াল বন্দি। তাকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখেন দ্বীপের মানুষরা।
স্থানীয়দের মতে, হামিদ আযাদের একটিই অপরাধ, তিনি মহেশখালী-কুতুবদিয়াবাসীকে ভালবাসেন। মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য কাজ করেন। কৃষকের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে কথা বলেন। নির্যাতিত, অসহায় মানুষের মুক্তির জন্য অগ্রসেনানীর ভূমিকা পালন করেন। জুলুমবাজ সরকার মহেশখালী-কুতুবদিয়াবাসীর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে জেলখানায় বন্দি করে রেখেছে। ৩০ ডিসেম্বর ‘আপেল’ মার্কায় ভোট দিয়ে দ্বীপবাসীর প্রাণের অভিভাবক হামিদুর রহমান আজাদকে কারামুক্ত করবে-এমনটি সবার প্রত্যাশা। সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটধিকারপ্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সর্বস্তরের জনগণ।
উল্লেখ্য-কক্সবাজার-২ আসনে ২৩ দলের প্রার্থী এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ছাড়াও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন বর্তমান এমপি আশেক উল্লাহ রফিক। আওয়ামী লীগ নেতা পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনসারুল করিম মাছ প্রতীকে নির্বাচনের মাঠে নামলেও শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে ডেকে নিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মোহিব্বুল্লাহ নাটকীয়ভাবে এতদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও অবশেষে ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে চুপসে গেছেন। এমপি আশেক উল্লাহ রফিকের চাচা সাবেক এমপি আলমগীর মাহফুজুল্লাহ ফরিদ আদালতের আদেশে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামলেও সুবিধা করতে পারছেন না। প্রচারণা চালাতে গিয়ে হামলা, মামলার শিকার হচ্ছেন। ঘরছাড়া হয়ে গেছে আলমগীর ফরিদ সমর্থকেরা। প্রার্থী নিজেই অনেকটা কোণঠাসা। তার দলীয় লোকজন আশংকা করছেন ইতোপূর্বে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে দল থেকে তিনি বহিষ্কার হয়েছিলেন জাতীয় নির্বাচনেও হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে হয়তো ভোটের আগেই আবার বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে পারেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন