ছোট্ট ‘হামিদ’ কি জয়ের আনন্দ পাবে?

68bc926b62f3b5e06e6fa45624b44f4b-5d556469cabd7.jpg

বেশ কয়েক দিন তো হলো ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণার। বড় বড় তারকা আর নির্মাতা এরই মধ্যে বিজয় উদযাপন শেষ করেছেন। পুরস্কারজয়ী আয়ুষ্মান খুড়ানা কবিতা লিখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অক্ষয় কুমার তাঁর ছবি ‘প্যাডম্যান’-এর জয়ে শুটিং সেটে কেটেছেন কেক। কিন্তু একজন বিজয়ী এখনো রয়ে গেছে অন্ধকারে। ৮ বছর বয়সী সেই বিজয়ীর নাম তালহা আরশাদ রেশি। ভারতে জম্মু-কাশ্মীরের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে এই খুদে অভিনেতার ঘরে এখনো পৌঁছাতে পারেনি খুশির খবরটি।

‘হামিদ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা শিশুশিল্পী হিসেবে ভারতের ৬৬তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে তালহা আরশাদ রেশি। তালহা কাশ্মীরের ছেলে। ‘হামিদ’ ছবিটিও পুরোপুরি কাশ্মীরকে ঘিরেই তৈরি। ছবিতে দেখা যায়, ছোট্ট হামিদের বাবা কাশ্মীরের চলমান অস্থিরতার মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান। হামিদ তাঁর বাবাকে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যায়, হার মানতে চায় না। এর মধ্যে সে একদিন জানতে পারে ‘৭৮৬’ হচ্ছে একটি পবিত্র সংখ্যা। তাই সেই সংখ্যা দিয়ে অনেক চেষ্টা করে হামিদ একটি ফোন নম্বর বানায় আর সেটাকে সৃষ্টিকর্তার নম্বর ভেবে তাতে ফোন করে। কথা বলতে শুরু করে এক অচেনা মানুষের সঙ্গে। এগিয়ে যায় ছবির গল্প। ছবিতে কাশ্মীরের চোখ ধাঁধানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তো উঠে এসেছেই, সেই সঙ্গে দেখা গেছে যুদ্ধের ভয়াবহতাও। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে ছোট্ট হামিদ অর্থাৎ তালহা আরশাদ রেশির অভিনয়। তাঁর নিষ্পাপ প্রশ্ন, সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টা আর কঠিন কঠিন রূঢ় বাস্তবতাকে তাঁর সহজ দর্শন দিয়ে ব্যাখ্যা করা মন কেড়ে নেওয়ার মতো।

‘হামিদ’ ছবিটি উর্দু ভাষায় নির্মিত সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে। ছবির নির্মাতা আইজাজ খান এ জয়ে আনন্দিত। তবে সুখ, উল্লাস আর উদযাপন তাঁকে পুরোপুরি ছুঁয়ে যেতে পারছে না। কারণ হামিদের ঘরে এখনো জয়ের খবর পৌঁছাতে পারেননি তিনি। কাশ্মীরে এখনো ফোন আর ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ।

‘হামিদ’ ছবিতে তালহা আরশাদ রেশি

‘হামিদ’ ছবিতে তালহা আরশাদ রেশি

তবে গণমাধ্যমকে আইজাজ বলেছেন, তালহার সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়ের কথা। ছবির নাম ভূমিকায়, অর্থাৎ ‘হামিদ’ চরিত্র করার কথা ছিল ৮ বছর বয়সী আরেক শিশুশিল্পীর। কিন্তু শুটিংয়ের দুই দিন আগে সেই ছেলে অত মানুষ আর বড় বড় ক্যামেরা দেখে ঘাবড়ে যায়, অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে আইজাজের। তখন আবার শিশুশিল্পীদের অডিশনের ভিডিওগুলো নিয়ে বসেন ছবির সব কুশলী। প্রথমে দেখেন নির্বাচিত প্রথম ৫ শিশুশিল্পীর ভিডিও। কিন্তু কোনোভাবেই আইজাজের মন ভরে না। শেষমেশ প্রত্যেক শিশুশিল্পী অডিশনের ভিডিও দেখে তালহার সহজ অভিনয় আর স্বচ্ছ চোখে বাঁধা পড়েন আইজাজ।

শুটিং শুরু হওয়ার মাত্র এক দিন আগে তালহাকে ডেকে আনেন আইজাজ, পরিচিত হন এবং এক দিনের মধ্যেই ছোট্ট তালহাকে তৈরি করে শুরু হয়ে যায় শুটিং। তালহার প্রাণবন্ত অভিনয় সব কাজ সহজ করে দেয় নির্মাতা আইজাজের জন্য। কিন্তু এখন জাতীয় পুরস্কার জয়ের খবরটাই সহজে পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না তালহার কাছে। যে ছবিতে যুদ্ধ-সংঘাতকে ঘৃণা করে তালহা সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে একটা পবিত্র সম্পর্ক গড়ার বার্তা দিয়েছে, সেই তালহাই এখন পড়ে গেছে রাজনৈতিক আর আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ও যুদ্ধের ফ্যাসাদে।

আপনার মন্তব্য লিখুন