চকরিয়া-পেকুয়ায় ধানের শীষের মিছিলে হামলা, আহত ১৯

95bd8556e19e6306030b241807f2185e-5c1dc77c5dd8e-44.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক 

কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের মিছিলে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১৯ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় উল্টো বিএনপি নেতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে বিজিবি ও পুলিশ।
আটক নেতারা হলেন ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কায়ছার উদ্দিন, শ্রমিক দল নেতা ফোরকান ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন, মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফয়সাল চৌধুরী ও ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহিন। আহত নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমদ।
স্থানীয় ও বিএনপি সূত্রমতে, মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) সংসদীয় আসনের সবকটি ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে গণমিছিলের ডাক দেয়া হয়। বিকেলে মিছিল শুরু হলে উপকূলীয় ইউনিয়ন উজানটিয়া ও মগনামায় সশস্ত্র হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। মিছিল লক্ষ্য করে গুলিবষর্ণও করা হয়।
ধানের শীষের প্রার্থী হাসিনা আহমদের মতে, উজানটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা গোদারপাড় এলাকায় ধানের শীষের মিছিল বের করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে তার ভাতিজা আরফাত ও রিয়াদের নেতৃত্বে হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়।
হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন, সালাহউদ্দিন, আলাউদ্দিন, আলী আহসান মুজাহিদ, বিএনপি নেতা এমজারুল, ইয়াছিন আরাফাত, হাসেম, কাইছার হামিদসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কায়ছার উদ্দিন, শ্রমিক দল নেতা ফোরকান ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিনকে আটক করে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির পূর্বনির্ধারিত মিছিল ফুলতলা স্টেশনে পৌঁছালে স্থানীয় নূর নবীর ছেলে জয়নালের নেতৃত্বে হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফয়সাল চৌধুরী ও ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহিনকে আটক করে পুলিশ ও বিজিবি।
উজানটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম চৌধুরী মিন্টু বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে আওয়ামী লীগ নেতারা সশস্ত্র হামলা করেছে। পুলিশ উল্টো আমার নেতাকর্মীকে বিভিন্ন বসতঘরে অভিযান চালিয়ে আটক করে।
অন্যদিকে হারবাং ইউনিয়নের গণমিছিলেও নৌকার প্রার্থী জাফরের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমদ। ওই ঘটনায় আহত ৯ জন হলেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (৩৫), হারবাং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আজিম (৪৫), যুবদল নেতা শারেক (২০), জিয়া উদ্দিন (১৮), আবদুর রহিম (১৮), শাহেদ (১৫), মিনার (২১), সাইফুল (২১) ও রাজিব (২০)।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হাসিনা আহমদ বলেছেন, নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন হলেও বিএনপির মিছিলে হামলা দূরভিসন্ধির ইঙ্গিত। হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাফর আলম বলেন, এগুলো গতানুগতিক অভিযোগ। নৌকার গণজোয়ার দেখে বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেরা নিজেদের ভেতর ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, মিছিল থেকে কাউকে আটকের তথ্য নেই। কোথাও কোনো হামলার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন