চকরিয়ায় আ:লীগের দুপক্ষে  উত্তেজনা, বিষোদগার করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

197948593_871104907112710_3111358579041073436_n.jpg

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুইপক্ষেরই কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ নিয়ে আজ বুধবার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে বক্তব্য দিয়েছেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে পৌরসভার এক নম্বর গেইটের চিংড়ি চত্বরে হাতাহাতির ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ টহল ব্যবস্থা জোরদার করে। এর পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত হলেও উভয়পক্ষে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

দলীয় নেতাকর্মী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরীর পক্ষে মাঠে কাজ না করাসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুকে দলের স্বীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে জেলা আওয়ামী লীগ। এ সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ায়। এই বহিষ্কারাদেশ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বহিষ্কৃত লিটু এমপি জাফর আলমের অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই পরিস্থিতিতে রাতেই বিএমচর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানের জানাজায় অংশগ্রহণ করে বাড়ি ফিরছিলেন এমপি জাফর আলম। তাঁর গাড়িতেই ছিলেন পৌর সভাপতি লিটুসহ আরো কয়েকজন। তাদের গাড়িটি পৌরসভার চিংড়ি চত্বরে আসা মাত্রই কয়েকজন উচ্ছ্বৃঙ্খল যুবক এমপির গাড়ির গতিরোধ করে কটূক্তিমূলক শ্লোগান দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় লিটুসহ গাড়ির ভেতর থাকা কয়েকজন নেমে চিংড়ি চত্বরের কাছে দেখতে পান বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকজনকে। এ সময় তারা এমপির সাথে দুর্ব্যবহারের কারণ জানতে চাওয়া মাত্রই দুইপক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ইত্যবসরে এমপি গাড়ি থেকে নেমে একটি প্লাস্টিকের লাটি নিয়ে এক যুবককে (মেয়র আলমগীরের কর্মী) একটি লাঠির বারি দেন। এ সময় মেয়র ওই কর্মীর পক্ষ থেকে এমপির কাছে ক্ষমা চান। এরইমধ্যে খবর পেয়ে চকরিয়া থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এমপির অনুসারী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি (জেলা কর্তৃক পদ থেকে বহিষ্কৃত) জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘সামান্য বিষয়কে বড় করে তোলার জন্য জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের ইন্ধনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারে নামে মেয়র আলমগীর চৌধুরী ও তার পক্ষের লোকজন। এমনকি এই ঘটনা নিয়ে বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র আলমগীর চৌধুরীসহ তার পক্ষের নেতারা এমপিকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথাবার্তা বলেছেন। যা চকরিয়ার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার একটি পায়তারা। আর এসব কিছুই করা হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট নির্ভর রাজনীতির অংশ হিসেবে।’

লিটু অভিযোগ করেন, আমি নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরীর পক্ষে সওজের ডাকবাংলোতে নির্বাচনী সভা করায় গণমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। এখন জেলা আওয়ামী লীগ আমাকে পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন নৌকার পক্ষে কাজ করছিনা এমন অজুহাতে। এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগ সিন্ডিকেট নির্ভর রাজনীতি করছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে আমাকে পদ থেকে বহিষ্কারের আগে জেলা আওয়ামী লীগ একটি চিঠি বা ফোন করেও কোনো বক্তব্য জানতে চাননি। তাই এই বিষয়ে লিখিতভাবে এখনো আমি অবগত নই।

অপরদিকে বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী বুধবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেছেন, এমপি জাফর আলমের ভাতিজা জিয়াবুল হক মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই আমার পরাজয় নিশ্চিত করতে এমপি এবং তাঁর অনুসারী জাহেদুল ইসলাম লিটু গোপনে কাজ করছেন। তাই জেলা আওয়ামী লীগ লিটুকে পৌর সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় আমার ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।’

এ বিষয়ে এমপি জাফর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই রাতে আমি বিএমচর ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানের জানাজায় অংশ নেওয়ার পর গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলাম। পথিমধ্যে কয়েকজন উচ্ছ্বৃঙ্খল ছেলে আমার গাড়ির গতিরোধ করে কটূক্তিমূলক শ্লোগান দিলে গাড়ি থামিয়ে প্লাস্টিকের একটি লাঠি হাতে একজনকে একটি বারি দিই। এ সময় কাছে বসে থাকা মেয়র আলমগীর চৌধুরী উচ্ছ্বৃঙ্খল ছেলেটিকে কর্মী দাবি করে তার পক্ষ হয়ে আমার কাছে ক্ষমা চান আলমগীর। তখন আমি গাড়িতে উঠে বাড়ি চলে আসি। কিন্তু এই ঘটনাকে বড় করার মাধ্যমে চকরিয়ার শান্ত পরিবেশকে একটি মহল অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এসব কিছুর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন জেলায় সিন্ডিকেট নির্ভর রাজনীতির হোতারা। বিষয়টি দলের কেন্দ্রের নজরে আনা হয়েছে।’

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে জানিয়ে চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের আজ রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর থেকে পুলিশি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। তাছাড়া বর্তমানে পৌর নির্বাচনের প্রচারণা চলমান থাকায় সেদিকেও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে পুলিশের।’

আপনার মন্তব্য লিখুন