খালেদার সাজা ৫ বছর থেকে বেড়ে ১০ বছর

images-6-1.jpeg

দিসিএম ডেস্ক

বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছে হাইকোর্ট।

খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির আপিল এবং দুদকের একটি রিভিশন আবেদনের ওপর ‍শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) এ রায় দেয়। বিডিনিউজ

এ মামলার ছয় আসামির মধ্যে জজ আদালতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া এবং দশ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ হাইকোর্টে আপিল করে খালাস চেয়েছিলেন।

অন্যদিকে মামলাকারী ও তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন খালেদা জিয়ার সাজার মেয়াদ বাড়াতে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেছিল যার ওপর রুল দিয়েছিল হাইকোর্ট।

নিম্ন আদালতের রায়ের আট মাসের মাথায় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত জানাতে এজলাসে এসে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘তিনটি আপিল খারিজ করে দেয়া হলো। রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করা হলো।’

খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর ক্ষেত্রে হাইকোর্ট কোন বিষয়টিকে আমলে নিয়েছে, তা এই সংক্ষিপ্ত রায়ে আসেনি।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এ মামলার মুখ্য আসামি। অন্য আসামিদের যেখানে ১০ বছরের সাজা হয়েছে, মুখ্য আসামি তার চেয়ে কম সাজা পেতে পারেন না। এ কারণে হাইকোর্টের রায়ে সব আসামির সাজা সমান করা হয়েছে বলে অনুমান করছেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের পাশাপাশি দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামি খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের কেউ আদালতে আসেননি।

রায়ের পর খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম জিয়া ছিলেন এ মামলার মুখ্য আসামি। সেই গ্রাউন্ডে তার সাজা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছেন। ফলে মামলায় সব আসামির সাজাই ১০ বছর হলো।’

জজ আদালতের রায়

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের এই মামলা দায়ের করা হয়ে ২০০৮ সালে, দেশে তখন ছিল জরুরি অবস্থা।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস থেকে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক আখতারুজ্জামান।

খালেদা জিয়াকে ‘ক্ষমতায় থেকে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের’ কারণে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন তিনি।

মামলার বাকি পাঁচ আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে দেয়া হয় দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড।

সেই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন বিচারক।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে বয়স ও সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।’

ফেব্রুয়ারিতে ওই রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় তিনিই ছিলেন পরিত্যক্ত ওই কারাগারের একমাত্র বন্দি।

পরে হাইকোর্টের আদেশে ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। সেখানে তিনি কারা তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।

বাকি আসামিদের মধ্যে তারেক মুদ্রা পাচারের এক মামলায় সাত বছর এবং ২১ অাগস্ট গ্রেনেড মামলায় যাবজ্জীবন সাজার রায় মাথায় নিয়ে গত দশ বছর ধরে পালিয়ে আছেন দেশের বাইরে। কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানও পলাতক।

সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন জামিনে থাকলেও হাইকোর্টের রায়ের পর তা বাতিল হয়ে গেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন