কক্সবাজারে এগারো বার অভিযানের পর আবশেষে পাহাড়খেকো মাসুম ধরা

IMG_20181008_161656.jpg

বিশেষ প্রতিনিধি :

প্রায় এগারো বার অভিযানের পর কক্সবাজারের কলাতলী বাইপাস সড়কের উত্তর পাশে মো. মাসুম নামে এক পাহাড় খেকোকে আটক করেছে প্রশাসন। আটকের পর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ঘটনাস্থলে তাকে ২ বছরের কারাদন্ড দেন সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান। এসময় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত আট মাস ধরে প্রায় ৫ কানি পাহাড়ি জমির ৬০ শতাংশ কেটে সাবাড় করে মো. মাসুমের নেতৃত্বে একদল ভূমিদস্যু। এরমধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর প্রায় এগারো বার অভিযান চালায় সেখানে। কিন্তু একবারও প্রশাসনের জালে আটকা পড়েননি তিনি।

ফের সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে সরকারি পাহাড় খেকো মাসুমকে আটকের পর কারাদন্ড দেয়া হয়। মাসুম শহরের ঝাউতলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল হাসান বলেন, কলাতলী বাইপাস সড়কের বিপরীত পাশে দীর্ঘদিন ধরে বিশাল সরকারি পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়। প্রায় ৫ কানি সরকারি পাহাড় গোপনে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক লাগিয়ে কেটে নিচ্ছে মো. মাসুম নামে একব্যক্তি। গত তিন মাসে সেখানে তাঁর (ইউএনও) নেতৃত্বে পাঁচবারের মতো অভিযান চালানো হয়। কিন্তু অভিযানের সময় শ্রমিকরা পিছনে পাহাড় দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এমনকি চারপাশে ইটের বাউন্ডারি তৈরি করে ভিতরে পাহাড় কেটে যাচ্ছে কৌশলে। বারবার অভিযানে পাহাড় কাটায় জড়িতদের ধরা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ সোমবার দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তর, এসিল্যান্ড ও পুলিশ নিয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময়ও শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। তবে পাহাড় কাটার স্থান থেকে আটক করা হয়েছে পাহাড়খেকো মো. মাসুমকে।

ইউএনও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক লাগিয়ে মাসুম পাহাড় কাটার সত্যতা স্বীকার করেছে। তবে তিনি জায়গার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে তাকে ২ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সাইফুল আশ্রাব বলেন, বিশাল সরকারি পাহাড় কাটার দায়ে আমি নিজেও ছয়বার অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু সবাই পালিয়ে যায়। সর্বশেষ সোমবার অভিযানে পাহাড়ের চারপাশে তৈরি করা প্রায় ২২০ ফুট লম্বা বাউন্ডারি ভেঙে দেয়া হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে অনেক সরঞ্জাম। প্রায় ৫ কানি সরকারি পাহাড়ের ৬০ শতাংশের ৫০ ফুট উচু পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। কেটে পাচার করেছে শতাধিক বনের গাছও।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম শেখ জানিয়েছে, গত দেড় মাস আগে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে ওই জায়গায় আমি অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। চারপাশে বাউন্ডারি ও গেইটে তালা লাগিয়ে পাহাড় কাটার কারণে তাদের আটক করা যায়নি।

কক্সবাজার সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন বলেন, কলাতলী বাইপাস এলাকায় বিশাল পাহাড় কাটার খবর পেয়ে আমিও দুই বার অভিযান চালিয়েছিলাম। কিন্তু ওই জায়গায় প্রবেশের আগে শ্রমিকদের নজরে চলে আসে। এতে তারা পিছন দিয়ে পালিয়ে যায়।
আপনার মন্তব্য লিখুন